…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › আইন ও অপরাধ › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আইন ও অপরাধ

পুলিশের বহরে যুক্ত হচ্ছে ৫ হাজার ৮৩০ যানবাহন: ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকার দুই প্রকল্প যাচ্ছে একনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে পুলিশের টহল, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়াতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য দুটি প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে এসব যানবাহন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ ও কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী যানবাহন কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং এর সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে সরকার।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের সংখ্যা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে নতুন যানবাহন সংগ্রহ করা হলে মাঠপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো এবং দ্রুত সেবা দেওয়া সহজ হবে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনের অধীনে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেবা দিতে বর্তমানে পুলিশের যানবাহন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি। অর্থাৎ প্রতিটি স্টেশনের জন্য গড়ে দুটি করে যানবাহনও নেই। এ ছাড়া বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। পুরোনো যানবাহনের ওপর নির্ভরতা এবং সীমিত সংখ্যক গাড়ির কারণে নিয়মিত টহল, জরুরি ঘটনায় দ্রুত পৌঁছানো ও প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

নতুন যানবাহন যুক্ত হলে এসব সীমাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তাঝুঁকিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং অপরাধ তদন্তে আলামত সংগ্রহের কাজ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম বাড়াতে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার বিষয়টিও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব জলযান নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তা করবে।

যানবাহন সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক্স এবং ৫০ জনকে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্স এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সরঞ্জাম কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষ জনবল তৈরি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে নতুন বহরের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব বাড়বে।

অর্থবছর অনুযায়ী প্রস্তাবিত ব্যয়ের বিভাজনও ঠিক করা হয়েছে। দুটি প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

প্রকল্প দুটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ব্যয়-সুবিধা অনুপাত ১ দশমিক ০৫ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সমীক্ষায় ব্যবহৃত অনুমানের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যয়ের তুলনায় সামান্য বেশি বলে হিসাব করা হয়েছে।

সাধারণ যানবাহন প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিদেশি প্রশিক্ষণের প্রস্তাব বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে; নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের পর্যালোচনার পর একনেকের বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে প্রকল্প দুটির কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। একনেকের সিদ্ধান্তের ওপরই এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে। অনুমোদিত হলে পুলিশের যানবাহন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগের সুফল পেতে স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন বণ্টন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

আইন ও অপরাধ বিভাগের আরও খবর

আইন ও অপরাধ

অপরাধী ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ: নয় মাসে ৪৪০ মামলা, আসামি ছিনতাই ও অস্ত্র লুটে বাড়ছে উদ্বেগ

অপরাধীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলা, হাতকড়া পরানো আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া, অভিযানে সরকারি অস্ত্র লুট, থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যদের মারধর…

আইন ও অপরাধ

কানাডায় ভুয়া কাগজে ভিসা আবেদনের চক্র: ২৪৩টি আবেদন, পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা

কানাডায় জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ভিজিটর ভিসা আবেদনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র উন্মোচন করেছে দেশটির সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা সিবিএসএ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ…

আইন ও অপরাধ

বরিশালে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবাসহ চাকরিচ্যুত সাবেক সেনা সদস্য ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

বরিশাল নগরীতে পৃথক অভিযানে দুই হাজার ৩৫ পিস ইয়াবাসহ চাকরিচ্যুত এক সাবেক সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার নগরীর বগুড়া রোড ও কাশীপু…

আইন ও অপরাধ

দেওয়ানগঞ্জে কষ্টিপাথরসদৃশ বস্তুসহ আটক আটজন, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কষ্টিপাথরসদৃশ একটি বস্তুসহ আটজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-২) পুলিশ। উদ্ধার করা বস্তুটির ওজন ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম বলে প…