দেওয়ানগঞ্জে কষ্টিপাথরসদৃশ বস্তুসহ আটক আটজন, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে কষ্টিপাথরসদৃশ একটি বস্তুসহ আটজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-২) পুলিশ। উদ্ধার করা বস্তুটির ওজন ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফলে ঘটনাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চকপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম (৪১), তারাটিয়া বাজারের ফরহাদ হোসেন (৩৫), মদ্দেরচর গ্রামের বাবু মিয়া (৪২) ও পোড়াভিটা গ্রামের ফেলু মিয়া (৩১)।
তালিকায় আরও আছেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বাগুয়া গ্রামের আমজাদ হোসেন (৭০), মুশুদ্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের সবুজ মিয়া (৪৪), কামরুজ্জামান ওরফে রিপন (৬০) এবং গোপালপুর উপজেলার সুতীগোপালপুর গ্রামের জোয়াহের (৫৩)। আটকদের মধ্যে দুই জেলার বাসিন্দা রয়েছেন।
ডিবি-২ শাখা সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া বাজার এলাকায় টিনের তৈরি একটি ইলেকট্রিক দোকানের পেছনের কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। সেই কক্ষ থেকেই কষ্টিপাথরসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা বস্তুটি প্রকৃত কষ্টিপাথর হলে এর আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ টাকা হতে পারে। তবে বস্তুটি আসল কিনা, তা যাচাইয়ের বিষয়টি এই প্রতিবেদনের তথ্যে স্পষ্ট করা হয়নি।
এ ঘটনায় ডিবি-২ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছেন। সেই মামলাতেই আটকদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ডিবি-২ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সজীবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কষ্টিপাথরসদৃশ ৪ কেজি ৮৫০ গ্রাম ওজনের বস্তুসহ আটজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানটি ছিল পরিকল্পিত। একটি দোকানের পেছনের কক্ষে কয়েকজন জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্যের পরই সেখানে যায় গোয়েন্দা পুলিশের দল।
কষ্টিপাথরসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা দেশে নতুন নয়; মাঝে মাঝে এমন বস্তু কেনাবেচা বা পাচারের অভিযোগে অভিযান ও আটকের খবর আসে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বস্তুটির প্রকৃতি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায় না।
এই মামলায় পরবর্তী ধাপে বস্তুটির পরীক্ষা, আটকদের ভূমিকা এবং বস্তুটি কোথা থেকে এল—এসব প্রশ্ন তদন্তে উঠে আসবে বলে ধারণা করা যায়। আপাতত আটজন কারাগারে রয়েছেন এবং মামলার তদন্ত চলবে।





