কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাট থেকে যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তার সুমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ ও সিআইডি
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাট থেকে মোসা. ডালিয়া আক্তার সুমা (৫০) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বাস্তা ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় মনোয়ারা প্লাজা মার্কেটের তৃতীয় তলায় তাঁর ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ডালিয়া আক্তার সুমা বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ যুব মহিলা লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি বাঘাপুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষিকা হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। তবে প্রায় তিন মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটের মেঝেতে ডালিয়া আক্তারের মরদেহ পড়ে ছিল। ঘরের মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। সেখানে পায়ের ছাপও দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁকে কারা এবং কী কারণে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফাঁকা ফ্ল্যাটে একা থাকা একজন নারীকে এভাবে হত্যার ঘটনা এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও প্রশ্ন দুটোই তৈরি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে স্বামী লিয়াকত আলীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর দুই মেয়ে নদী ও লিজাকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন ডালিয়া। ফ্ল্যাটটি তাঁর নিজের কেনা।
দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি সেখানে একাই থাকতেন। শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ছোট মেয়ে লিজা বলেন, ‘কী অপরাধ ছিল আমার মায়ের, যে তাঁকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? যারা আমার মাকে হত্যা করেছে, সরকারের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।’ মায়ের এমন পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন দুই মেয়ে।
কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুল হক বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসছেন। ফাঁকা বাসায় কে বা কারা তাঁকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, নিহতের সন্তানদের সঙ্গে কথা বলে কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
একজন রাজনৈতিক সংগঠক ও সাবেক খণ্ডকালীন শিক্ষিকার এমন হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ দুটোই ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে বা কারা, কেন ডালিয়া আক্তার সুমাকে হত্যা করল। ব্যক্তিগত বিরোধ, নাকি অন্য কোনো কারণ—সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের অনুসন্ধান ও পুলিশের তদন্তেই তার জবাব মিলবে।
মরদেহ উদ্ধারের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের মধ্য দিয়ে হত্যার সময় ও ধরন সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করাই এখন তাদের প্রধান কাজ।




