বসুন্ধরায় নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তাকর্মী আলমগীরের লাশ, শ্বাসরোধে হত্যার ধারণা পুলিশের
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের টিনের ঘরের ভেতর থেকে একজন নিরাপত্তাকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আলমগীর হোসেন (৫২)। তাঁর গ্রামের বাড়ি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া থানার শালকোনা গ্রামে এবং তাঁর বাবার নাম মৃত কলিম উদ্দিন প্রামাণিক। নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করা আলমগীর ওই নির্মাণাধীন ভবনেই থাকতেন।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ জানান, বসুন্ধরা আবাসিকের ৮/এ রোডের ব্লক-এমের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে টিনের ঘর থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
লাশ উদ্ধারের পর শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এসআই আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি ওই নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। গত রাতে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করছি।’
পুলিশের ভাষ্যে, নিহতের গলায় আঙুলের ছাপ, ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ক্ষত এবং মাথার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এসব আলামত দেখেই প্রাথমিকভাবে হত্যার ধারণা জোরালো হয়েছে।
নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে আলমগীর ভবনটির পাহারার দায়িত্বে ছিলেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন। ফলে রাতের কোনো এক সময়ে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও কারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো জানা যায়নি।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাটি রাজধানীর একটি পরিকল্পিত ও ব্যস্ত আবাসিক অঞ্চল। এমন এলাকার নির্মাণাধীন ভবনে একজন নিরাপত্তাকর্মীর এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে রাতের বেলা সাধারণত লোকসমাগম কম থাকে, আর সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরাই অনেক সময় একা থাকেন। এই ঘটনা নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে। এর পাশাপাশি হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আপাতত আলমগীর হোসেনের মৃত্যু ঘিরে শোক ও প্রশ্ন দুটোই রয়ে গেছে। তদন্তে কারা, কেন এই হত্যা ঘটাল—সেসব প্রশ্নের উত্তর মিললেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে।




