প্রতীকার শতরানে ভর করে জিম্বাবোয়েকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ভারতের, চার উইকেট শ্রী চরণীর
ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা একেবারে নিজেদের মতো করে নিল ভারত। জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে দলটি, যেখানে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন প্রতীকা, আর বল হাতে চার উইকেট তুলে নিয়েছেন শ্রী চরণী।
ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম প্রতীকা। তিনি শতরান করেছেন — একদিনের ক্রিকেটে যেকোনো ব্যাটারের জন্য শতরান মানেই ইনিংসের বড় ভিত, আর সিরিজের প্রথম ম্যাচে এমন ইনিংস দলের আত্মবিশ্বাসকে অনেক ওপরে তুলে দেয়।
প্রতীকার শতরানের কারণে লক্ষ্য তাড়া করার কাজটা ভারতের জন্য সহজ হয়ে যায়। ৯ উইকেট হাতে রেখে জয় মানে তাড়া করতে নেমে প্রায় কোনো চাপেই পড়তে হয়নি দলকে — একজন ব্যাটারের বড় ইনিংসই ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দিয়েছে।
তবে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররাই। শ্রী চরণী একাই তুলে নেন চার উইকেট। একদিনের ম্যাচে একজন বোলারের চার উইকেট মানেই প্রতিপক্ষের ইনিংসের মেরুদণ্ডে বড় আঘাত, আর সেই আঘাতের ওপর দাঁড়িয়েই জিম্বাবোয়ের ইনিংস বড় হতে পারেনি।
বোলিংয়ে চরণীর সাফল্য আর ব্যাটিংয়ে প্রতীকার শতরান — দুই বিভাগের এই যুগল সাফল্যই ম্যাচটিকে একপেশে করে তোলে। ফলে মাঠে জিম্বাবোয়ের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি, আর ভারত জয় তুলে নেয় স্বস্তিতেই।
৯ উইকেটের জয় শুধু দুই পয়েন্ট বা সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, নেট রানরেটের দিক থেকেও এমন বড় জয় সিরিজের বাকি অংশে দলকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখে। প্রথম ম্যাচে এমন আধিপত্য প্রতিপক্ষ শিবিরে চাপ তৈরি করে।
সিরিজ শুরুর ম্যাচে সাধারণত দলগুলো নিজেদের সংমিশ্রণ পরখ করে দেখে। সেই পরীক্ষায় ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি — শীর্ষ সারির ব্যাটারের শতরান আর বোলিং আক্রমণের ধার। দুই দিক থেকেই দলটি নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পেরেছে।
জিম্বাবোয়ের জন্য এই হার থেকে শিক্ষা নেওয়ার জায়গা স্পষ্ট। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে হলে পরের ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই উন্নতি করতে হবে তাদের, বিশেষ করে ভারতের ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের থামানোর পরিকল্পনা নিতে হবে নতুন করে।
প্রতীকার জন্য এই শতরান ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছানো মানে বাকি ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ বোলারদের বাড়তি নজর থাকবে তার ওপর — সেই চাপ সামলানোই হবে তার পরের পরীক্ষা।
অন্যদিকে শ্রী চরণীর চার উইকেট তাকে সিরিজের বাকি অংশের জন্য ভারতের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা করে তুলেছে। এক ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া বোলারকে নিয়ে প্রতিপক্ষকে আলাদা পরিকল্পনা করতেই হয়।
সব মিলিয়ে সিরিজের প্রথম অধ্যায়টা পুরোপুরি ভারতের। এবার দেখার বিষয়, জিম্বাবোয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফেরাতে পারে কি না, নাকি প্রতীকা-চরণীদের ফর্মেই একপেশে হয়ে যায় বাকি লড়াই।


