নিষিদ্ধ ওষুধের পরীক্ষায় ধরা পড়ে সাময়িক নিষিদ্ধ কেনিয়ার বিশ্ব ম্যারাথন চ্যাম্পিয়ন জেপচিরচির
কেনিয়ার বিশ্ব ম্যারাথন চ্যাম্পিয়ন পেরেস জেপচিরচিরকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অ্যাথলেটিকস ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (এআইইউ) জানিয়েছে, আগস্টে সিডনি ম্যারাথনে তাঁর জয়ের আগেই নেওয়া একটি নমুনায় নিষিদ্ধ রক্তবর্ধক ওষুধ ইপিও পাওয়া গেছে।
এআইইউ জানিয়েছে, কেনিয়ায় প্রতিযোগিতার বাইরে সংগ্রহ করা নমুনাটিতে ইপিও (এরিথ্রোপোয়েটিন) পাওয়া গেছে, যা শরীরে লাল রক্তকণিকা উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। এই ধরনের ওষুধ দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ে স্ট্যামিনা বাড়াতে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ ওঠে, আর সে কারণেই এটি অ্যাথলেটিকসে নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে।
জেপচিরচিরের এজেন্ট জিয়ান্নি দেমাদোন্না ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, যা ঘটেছে তাতে তিনি ভয়ানক খারাপ অনুভব করছেন এবং তাঁর মতে, যে অ্যাথলেট পারফরম্যান্স বাড়ানোর ওষুধ নেয়, তাকে অযোগ্য ঘোষণা করাই ঠিক। এজেন্টের এই মন্তব্যে ঘটনাটি ঘিরে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
সিডনি ম্যারাথনের আয়োজকরা জানিয়েছেন, জেপচিরচিরের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার খবরে তাঁরা অত্যন্ত হতাশ। তবে তাঁরা বলেছেন, জেপচিরচির যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার পাওয়ার যোগ্য, আর সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তাঁরা আর কোনো মন্তব্য করবেন না।
আয়োজকরা আরও বলেছেন, পরিষ্কার খেলার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার অনড়। সিডনিতে লাইন আপ করা প্রতিটি অ্যাথলেটের সমান সুযোগে দৌড়ানোর অধিকার আছে, আর অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদেরও ফিনিশ লাইনে দেখা ফলাফলের ওপর আস্থা রাখার অধিকার আছে বলে তাঁরা মনে করেন।
সিডনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজর্সের অন্য আয়োজকদের সঙ্গে মিলে তাঁরা এআইইউর সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রতিযোগিতার বাইরের পরীক্ষা বাড়ানোতে বিনিয়োগ করেছেন, আর পরিষ্কারভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাথলেটদের পাশে তাঁরা দৃঢ়ভাবে থাকবেন।
৩৩ বছর বয়সী জেপচিরচির সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন এবং হাফ ম্যারাথনের সাবেক বিশ্ব রেকর্ডধারী। চারবারের ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজর্স বিজয়ী এই কেনিয়ান ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন। এ ছাড়া নিউইয়র্ক (২০২১), বোস্টন (২০২২) ও লন্ডনে (২০২৪) বড় ম্যারাথন জয়ের কীর্তি রয়েছে তাঁর।
আগস্টে সিডনিতে নারীদের দৌড়ে আধিপত্য ছিল জেপচিরচিরেরই। তিনি ২ ঘণ্টা ১৮ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন পার হয়েছিলেন, দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্বদেশি আইরিন চেপতাইয়ের চেয়ে তিন মিনিটের বেশি এগিয়ে থেকে। সেই জয়টিই এখন প্রশ্নের মুখে পড়ল।
কেনিয়ার অ্যাথলেটিকসে ডোপিংয়ের ছায়া এটাই প্রথম নয়। গত বছর কেনিয়ার নারী ম্যারাথনের বিশ্ব রেকর্ডধারী রুথ চেপনগেতিচ নিষিদ্ধ ডাইইউরেটিক হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড (এইচসিটিজেড) সংক্রান্ত অ্যান্টি-ডোপিং নিয়ম ভঙ্গের কথা স্বীকার করায় তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন। তবে তাঁর ২ ঘণ্টা ৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের বিশ্ব রেকর্ডটি বহাল থাকে, কারণ রেকর্ডটি গড়া হয়েছিল তাঁর পজিটিভ পরীক্ষার আগে।
জেপচিরচিরের ক্ষেত্রে এখন যথাযথ প্রক্রিয়া চলবে। সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মানে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়; শুনানি ও আপিলের পথ খোলা রয়েছে তাঁর সামনে। তবে প্রমাণিত হলে সিডনির জয়সহ সাম্প্রতিক ফলাফল বাতিল হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি।
বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের অন্যতম সফল ম্যারাথন দৌড়বিদের এমন পতনে দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ে ডোপিং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন আবার জোরালো হলো। এখন সবার নজর এআইইউর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


