টঙ্গীতে সাত বছরের ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ: ভাইস প্রিন্সিপাল কারাগারে, পাল্টাপাল্টি মামলায় উত্তেজনা
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুসলেউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও শিশুটির অভিভাবকদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে অবস্থিত করিওল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়। অভিযুক্ত মুসলেউদ্দিন ওই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।
শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, ভুক্তভোগী শিশুটি তিন দিন ধরে মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে ভয়ে সে কিছু বলতে পারেনি। বাবা-মা বারবার জানতে চাইলে সে মাদ্রাসার শিক্ষক মুসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগ শোনার পর বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে তার বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান।
বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসলেউদ্দিনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
তবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলমাস হোসেন দাবি করেছেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত। এ বিষয়ে তাঁরা থানায় অভিযোগ করেছেন বলে তিনি জানান।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান শুক্রবার বলেছেন, ‘যৌন নিপীড়নের মামলায় ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও শিশুটির অভিভাবকদের আসামি করে আরেকটি মামলা করেছে। ওই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
ফলে একটি শিশুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে এখন দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে, যা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করেছে।
অভিযোগের সত্যতা এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি মামলার ক্ষেত্রেই আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানানো হয়েছে।
শিশুটির নিরাপত্তা ও মর্যাদার স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।






