ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দ্বিতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রীর
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশু হলো তানহা (১০) ও মাহা (৯)। শুক্রবার সকালে উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, যার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত তানহা ওই এলাকার আব্দুল গনির মেয়ে এবং মাহা মো. শাহীনের মেয়ে। তারা দুজনই স্থানীয় মানিকারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। একই শ্রেণির দুই সহপাঠীর একসঙ্গে মৃত্যুতে তাদের পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর শোক তৈরি হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তানহা ও মাহা বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে যায়। বাড়ির এত কাছের পুকুরটিই যে তাদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে, তা কেউ ভাবতে পারেনি।
ধারণা করা হচ্ছে, পুকুরের পিচ্ছিল ঘাটে পা পিছলে প্রথমে একজন পানিতে পড়ে ডুবে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর শিশুটিও পানিতে ডুবে যায়। একপর্যায়ে দুজনই নিখোঁজ হয়। দুই শিশুই সাঁতার জানত কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক খবরে কিছু জানা যায়নি।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাদের বাড়িতে ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাননি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে দুজনকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করেন। সেই মুহূর্তের আতঙ্ক ও আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
উদ্ধারের পর দ্রুত তাদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে দুই পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশের তদন্তে ঘটনার পুরো বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হবে।
বাংলাদেশে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি দীর্ঘদিনের জনস্বাস্থ্য সমস্যা। গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়ির আশপাশে পুকুর থাকায় ছোট শিশুরা বড়দের নজরের বাইরে পুকুরের কাছে চলে গেলে মুহূর্তেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। বোরহানউদ্দিনের এই ঘটনা সেই ঝুঁকিরই আরেকটি মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত।
স্থানীয়দের ভাষ্যে, ছুটির দিনে শিশুরা বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা ও গোসলে বেশি সময় কাটায়। এ সময় বড়দের একটু অসতর্কতাও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দুই ছাত্রীর মৃত্যুর পর এলাকার অনেক অভিভাবকই শিশুদের পুকুরের কাছে যাওয়া নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন, শিশুদের অল্প বয়সে সাঁতার শেখানো এবং পুকুরপাড়ে নজরদারি বাড়ানো গেলে এ ধরনের মৃত্যু অনেকটাই কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পুকুরের ঘাট পিচ্ছিল হলে সেখানে সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তাঁরা।
দুই পরিবারের সদস্যদের শোক এখন সান্ত্বনার ঊর্ধ্বে। একই স্কুলের একই শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে হারিয়ে মানিকারহাট এলাকার মানুষ শোকস্তব্ধ। স্কুল কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবার দুটির পাশে দাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তা এখন দেখার বিষয়।





