স্পেনে পুরস্কার নিতে এসে প্রয়াত বাবার কথা মনে করে আবেগে ভাসলেন মেসি
স্পেন ছিল একসময় লিওনেল মেসির দ্বিতীয় বাড়ি। বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ দুই দশক কাটানো এই আর্জেন্টাইন তারকার সেখানে মনে রাখার মতো অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। এবার সেই স্পেনেই ফিরেছেন তিনি, তবে খেলতে নয়, একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করতে।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিবারসহ স্পেনে এসেছেন মেসি। তাকে এক নজর দেখতে ওভিয়েদোতে ভিড় করেছেন অজস্র ভক্ত। স্পেনে ফিরে তার মনে পড়েছে প্রয়াত বাবার কথা, যিনি ছিলেন তার ফুটবলার হয়ে ওঠার নেপথ্যের কারিগর।
দীর্ঘ অসুস্থতায় ভুগে এ বছরের ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। হোর্হে শুধু বাবাই ছিলেন না, তারকা মেসি হয়ে ওঠার পেছনে তার ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বড়।
ক্যারিয়ারে অসাধারণ অর্জন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজের দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন মেসি। বাংলাদেশ সময় আজ রাতে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।
২০ বছরেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, বিশ্বকাপ, লিগস কাপ ও লিগ ওয়ানসহ অসংখ্য শিরোপা জিতেছেন তিনি। ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন।
ওভিয়েদোতে সংবাদ সংস্থা ইএফইকে মেসি বলেন, বাবা তাকে বলতেন বলটা নিয়ে চেষ্টা করতে। সেটা ভালো হোক বা খারাপ, তাতে সন্তুষ্ট হয়ে থেমে থাকা যাবে না, কারণ সব সময়ই আরও একটি সুযোগ বা পরবর্তী একটি পদক্ষেপ থাকে। এই কথাগুলোই ছিল বাবার কাছ থেকে পাওয়া তার জীবনের শিক্ষা।
রাজা ও রানির সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ওভিয়েদোতে পৌঁছে বাবার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন মেসি। তিনি জানান, ৮ আগস্ট বাবা মারা যাওয়ার আগেও ছেলের সঙ্গে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি।
মেসি বলেন, তিনি সত্যিই খুব আনন্দিত। এই পুরস্কার নিয়ে তার বাবা খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। খেলার সূচির কারণে এখানে আসা কঠিন হবে জানা সত্ত্বেও বাবা বারবার জোর দিয়েছিলেন, যেন তিনি এই দিনগুলোতে এখানে আসেন এবং পুরস্কার গ্রহণ করেন।
প্রিয় বাবাকে হারিয়ে মেসি আবেগঘন পোস্টও দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত তিনি ১৯ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে দ্রুত নিলেও বাবার মৃত্যুর কারণে তা জানিয়েছিলেন ৩১ আগস্ট।
পুরস্কার গ্রহণের আগের রাতে বাবাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মেসি। তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি একজন মানুষ মাঠে কী করেন, কিংবা তার পুরো পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি যা করেছেন, তারও ঊর্ধ্বে। তার বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন এবং তিনিও এখন তা উপভোগ করছেন বলে মেসির বিশ্বাস। বাবার সঙ্গে তিনি নিয়মিত কথা বলতেন বলেও জানান তিনি।
স্পেনে ফিরে নস্টালজিক হয়ে পড়ার কথাও জানান আর্জেন্টাইন তারকা। তিনি বলেন, সবকিছু জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল তাদের। তারা খেলেছেন, জিতেছেন ও অনেক কিছু অর্জন করেছেন। দৈনন্দিন অনুশীলনের অভিজ্ঞতাও ছিল মনে রাখার মতো এবং সময়টা দারুণ কেটেছে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেন মেসি। মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে তিনি দুটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ ২০৮ ম্যাচ খেলেছেন তিনি, দলটির জার্সিতে সর্বোচ্চ ১২৬ গোলও তার, আর অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৯ গোলে।
আজ রাতের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান তাই মেসির জন্য শুধু আরেকটি ট্রফি নয়। বাবার স্মৃতি, বার্সেলোনার দীর্ঘ অধ্যায় আর নিজের ফাউন্ডেশনের কাজের স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে ওভিয়েদোর এই সফর তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে।




