ট্রাম্পের সমালোচনার কয়েক ঘণ্টা পরই লেব্রনের ঘরের অভিষেক: ২৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে ফিলাডেলফিয়ার অবিশ্বাস্য জয়
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ফিলাডেলফিয়া সেভেন্টি সিক্সার্সের হয়ে ঘরের মাঠে অভিষেক ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হলেন লেব্রন জেমস। বৃহস্পতিবার এনবিএর ম্যাচে ২৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকেও ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সকে ১১৪-১০৬ ব্যবধানে হারিয়েছে ফিলাডেলফিয়া।
ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই লেব্রনকে আক্রমণ করেছিলেন ট্রাম্প। এই মৌসুমের আগের একটি ম্যাচে জাতীয় সংগীতের সময় লেব্রন সম্মান দেখাননি বলে অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার নিউইয়র্ক নিক্সের মাঠের ম্যাচে সংগীত চলাকালে লেব্রন বাস্কেটবল ও গলফ শট অনুশীলনের ভঙ্গি করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই সমালোচনা নিয়ে লেব্রন নিজে কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া দেননি। সেভেন্টি সিক্সার্সের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও খবরে জানা গেছে। মাঠের বাইরের বিতর্ককে তিনি মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলতে দেননি — তার প্রমাণ এই জয়।
ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ফিলাডেলফিয়ায় যোগ দেওয়ার পর এটাই ছিল লেব্রনের প্রথম ঘরের ম্যাচ। তবে ম্যাচের শুরুটা ছিল স্বাগতিকদের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। সাবেক বোস্টন তারকা জেইলেন ব্রাউনসহ নতুন দলটি ছন্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছিল।
ক্লিভল্যান্ড যেন লেব্রনকে দেখিয়ে দিতেই নেমেছিল, নিজ শহরের নায়ককে তারা পায়নি বলে কী হারিয়েছে। ডোনোভান মিচেল প্রথমার্ধেই ২২ পয়েন্টসহ মোট ৩২ পয়েন্ট তুলে ক্যাভালিয়ার্সকে বড় লিড এনে দেন। প্রথমার্ধে ফিলাডেলফিয়ার ১৫টি টার্নওভার থেকে ২২ পয়েন্ট পায় ক্লিভল্যান্ড, যার পাঁচটিই ছিল লেব্রনের। নিজের দর্শকদের দুয়োধ্বনিও শুনতে হয় সিক্সার্সদের।
কিন্তু তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরু থেকে বদলে যায় চিত্র। ১১-০ ব্যবধানের ঝড়ে শুরু করা ফিলাডেলফিয়া টাইরিস ম্যাক্সির টানা দুই বাস্কেটে ব্যবধান এক অঙ্কে নামিয়ে আনে ৮০-৭৩-এ। কোয়ার্টার শেষ হওয়ার ২ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে ম্যাক্সির লে-আপে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় মাত্র দুই পয়েন্টে, যদিও ক্লিভল্যান্ড ৯০-৮২ লিড নিয়ে শেষ কোয়ার্টারে যায়।
শেষ কোয়ার্টারে আর পেছনে তাকায়নি ফিলাডেলফিয়া। খেলা শেষ হতে ৬ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড বাকি থাকতে জোয়েল এমবিদের জাম্প শটে প্রথমবারের মতো লিড পায় তারা, যা আর ছাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধে ক্লিভল্যান্ডকে ৬০-৩৭ ব্যবধানে পেছনে ফেলে সিক্সার্সরা; এই অর্ধে তাদের টার্নওভার ছিল মাত্র দুটি।
ম্যাক্সি সর্বোচ্চ ৩২ পয়েন্ট করেন, এমবিদ করেন ২৪ পয়েন্ট। অফ-সিজনের আরেক বড় সংযোজন জেইলেন ব্রাউন ২১ পয়েন্ট ও ৮ রিবাউন্ড করেন। চারবারের এনবিএ চ্যাম্পিয়ন লেব্রন করেন ১৭ পয়েন্ট, ১০ রিবাউন্ড ও ৫ অ্যাসিস্ট।
এই প্রত্যাবর্তন ১৯৯৬ সালে প্লে-বাই-প্লে যুগ শুরু হওয়ার পর ফিলাডেলফিয়ার সবচেয়ে বড় প্রত্যাবর্তন, আর লেব্রনের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে বড়। লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ স্কোরার লেব্রন বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে বারবার পড়তে চাই না। তবে এটা জেনে ভালো লাগছে যে গভীরে আমরা হাল ছাড়ার মানসিকতার দল নই। চারপাশে তাকিয়ে কাউকে হাল ছেড়ে দিতে দেখতে চাই না কখনো।’
ক্লিভল্যান্ডের হয়ে ইভান মবলি ১৮ পয়েন্ট করলেও দ্বিতীয়ার্ধে পান মাত্র ৩ পয়েন্ট। জ্যারেট অ্যালেন ১৪ পয়েন্ট করলেও বিরতির পর আর একটি পয়েন্টও পাননি। সিক্সার্স গার্ড ভিজে এজকম্ব বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে ছিলাম, এটাই আসল কথা। পরিস্থিতি খারাপ হলে হাল ছেড়ে দিতে পারতাম, দিইনি। মৌসুমের শুরুতেই পরীক্ষা, শুরুতেই প্রতিকূলতা — আমরা তা পেরিয়ে এসেছি।’
মঙ্গলবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউইয়র্ক নিক্সকে তাদেরই মাঠ ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে হারানোর পর এই জয়ে ফিলাডেলফিয়ার মৌসুমের শুরুর ঝলক আরও উজ্জ্বল হলো। লেব্রন ও ব্রাউনের আগমনে শিরোপার স্বপ্ন দেখা সমর্থকদের জন্য এই প্রত্যাবর্তন বড় বার্তা।
এদিন অন্য ম্যাচে ওকলাহোমা সিটি থান্ডার ৯৬-৮৪ ব্যবধানে হারিয়েছে ডেনভার নাগেটসকে। টানা দুবারের এমভিপি শাই গিলজেয়াস-আলেকজান্ডারের কমপক্ষে ২০ পয়েন্টের টানা ১৪১ ম্যাচের ধারা এদিন থেমেছে; তিনি করেন ১৭ পয়েন্ট। জ্যালেন উইলিয়ামসের সর্বোচ্চ ২১ পয়েন্টে ভর করে জেতে থান্ডার। ডেনভারের তিনবারের এমভিপি নিকোলা ইয়োকিচও শান্ত ছিলেন — ১৯ শটে ৫টি সফল করে ১৩ পয়েন্ট, সঙ্গে ৭ রিবাউন্ড ও ৫ অ্যাসিস্ট; অ্যারন গর্ডন করেন ২০ পয়েন্ট।




