ইউরোপা লিগে ১০ জনের মিলানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিল বোর্নমাউথ: অধিনায়ক-গোলরক্ষকের লাল কার্ডে রঙিন রাত
উয়েফা ইউরোপা লিগে ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে ইংলিশ ক্লাব এএফসি বোর্নমাউথ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে প্রিমিয়ার লিগের দলটি।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজেদের ঘরের মাঠ ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচের গল্প লেখা হয়ে যায় প্রথমার্ধেই। প্রথম ৩২ মিনিটের মধ্যেই দুটি পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় বোর্নমাউথ। দলের হয়ে গোল দুটি করেন জাস্টিন ক্লাইভার্ট ও মার্কাস টেভারনিয়ার।
খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিল স্বাগতিকরা। অষ্টম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস কনি ডি উইন্টারের হাতে লাগলে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন ক্লাইভার্ট।
এরপর রায়ান ক্রিস্টি ও ইভানিলসনদের কয়েকটি প্রচেষ্টা মিলান গোলরক্ষক মাইক মাইনান প্রতিহত করলেও ২৮তম মিনিটে দলকে বড় ধাক্কা দেন এই গোলরক্ষক নিজেই। বোর্নমাউথের জেমস হিলকে মেজাজ হারিয়ে ধাক্কা ও মুখে আঘাত করার দায়ে রেফারি মাইনানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান এবং স্বাগতিকদের অনুকূলে দ্বিতীয় পেনাল্টির নির্দেশ দেন।
মাইনান শুধু মিলানের গোলরক্ষকই নন, দলের অধিনায়কও। তাঁর মাঠ ছাড়ার অর্থ দাঁড়ায়, ম্যাচের বড় অংশজুড়ে মিলানকে খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে, আর গোলপোস্ট সামলাতে হয় বদলি তরুণ গোলকিপারকে।
বদলি হিসেবে নামা মিলানের তরুণ গোলকিপার লোরেনজো তোরিয়ানিকে পরাস্ত করে চমৎকার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টেভারনিয়ার। ফলে বিরতির আগেই ২-০ গোলে এগিয়ে স্বস্তিতে ড্রেসিংরুমে ফেরে বোর্নমাউথ, আর চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ১০ জনের মিলানের ওপর নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে বোর্নমাউথ। ক্লাইভার্ট ও ক্রিস্টিরা একাধিক সুযোগ তৈরি করে ব্যবধান বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। একজন কম নিয়ে মিলান ম্যাচে ফেরার মতো ছন্দ খুঁজে পায়নি।
অবশেষে ৮৪তম মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন মুহূর্ত। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে রক্ষণপ্রাচীর ফাঁকি দিয়ে নেওয়া চমৎকার এক ফ্রি-কিকে গোল করে দলের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন মরক্কোর উইঙ্গার আমিন আদলি। এই গোলেই মিলানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়।
ঘরের মাঠে ইতালির অন্যতম সফল ক্লাবের বিপক্ষে এমন জয় বোর্নমাউথের জন্য বড় অর্জন। ম্যাচজুড়ে তাদের আক্রমণের ধার, সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষের ভুলের পূর্ণ সদ্ব্যবহার এই ফলাফলের পেছনে কাজ করেছে।
অন্যদিকে মিলানের জন্য রাতটি ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। অধিনায়কের লাল কার্ড, দুটি পেনাল্টি হজম এবং ১০ জন নিয়ে লড়াই — সব মিলিয়ে ভাইটালিটি স্টেডিয়াম থেকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাদের।
ইউরোপা লিগের এই জয় বোর্নমাউথ শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে, আর মিলানকে পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। ইংলিশ ক্লাবটির সমর্থকদের কাছে এই রাত স্মরণীয় হয়ে থাকবে অনেক দিন।





