২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে বাংলাদেশ-ভারতে, আইসিসির পাঁচ বছরের পূর্ণ সূচি প্রকাশ
বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এলো বড় সুখবর—২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে বাংলাদেশ ও ভারত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বড় বড় বৈশ্বিক আসরের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে, আর সেই সূচিতেই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের নাম ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আয়োজনের সহ-আয়োজক হিসেবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকের পর সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডকে দীর্ঘমেয়াদি এই সূচি নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। ফলে এখন থেকে পরিকল্পনা সাজানোর পূর্ণ ছবি পেয়ে গেল প্রতিটি বোর্ড—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) পেল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করার আনুষ্ঠানিক বার্তা।
নতুন এই পরিকল্পনায় সব মিলিয়ে পুরুষদের ১২টি, নারীদের ৭টি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ৫টি বড় টুর্নামেন্ট ও বাছাইপর্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রায় প্রতিটি বড় আয়োজনের ক্যালেন্ডার এখন এক ছাদের নিচে চূড়ান্ত।
নারী ক্রিকেটের সূচিতে বড় দায়িত্ব পেয়েছে পাকিস্তান। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব পেয়েছে দেশটি। ১২টি দল নিয়ে বৈশ্বিক এই আসরটি ৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত।
নারীদের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে শুরু হবে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ২০ দলের এই আসর ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে পর্দা নামবে ১২ নভেম্বর। অর্থাৎ ২০২৮ সালের শেষভাগটা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য হয়ে উঠছে টানা বিশ্বকাপের মৌসুম।
সূচির আরেকটি ঐতিহাসিক দিক হলো অলিম্পিকে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন। ১৯০০ সালের পর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের মঞ্চে ফিরছে ক্রিকেট। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট ইভেন্টের বাছাইপর্ব আয়োজিত হবে। নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগে আটটি করে দেশ এই বাছাইয়ে লড়াই করবে, যার চূড়ান্ত ভেন্যু শিগগিরই ঘোষণা করবে আইসিসি।
টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দায়িত্ব আবারও পেয়েছে ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক লর্ডসসহ দেশটির মাঠে আগামী ৮ থেকে ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৯ সালের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি।
এ ছাড়া ২০৩০ সালে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে জুনে হওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী তা জুলাই ও আগস্ট জুড়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়া মানে শুধু ম্যাচ আয়োজন নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্টেডিয়াম সংস্কার, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি এবং ক্রিকেট অর্থনীতির বড় গতি। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ বাংলাদেশ দল পাবে নিজেদের দর্শকদের সামনে, যা খেলোয়াড়দের জন্যও হবে বিশেষ অনুপ্রেরণা।
ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের পুরোনো নয়—দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ও ভৌগোলিক নৈকট্য এই আয়োজনকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। তবে বিশ্বকাপের বাকি এখনো কয়েক বছর, তাই প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ—ভেন্যু নির্বাচন, ম্যাচ বণ্টন, দর্শক সুবিধা—সবকিছুতেই এখন থেকে নজর দিতে হবে বিসিবিকে।
আইসিসির এই সূচি শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই পরিষ্কার রোডম্যাপ। ২০২৮ সালে অলিম্পিক বাছাই ও দুটি বিশ্বকাপ, ২০২৯ সালে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, ২০৩০ সালে যুক্তরাজ্য-আয়ারল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০৩১ সালে বাংলাদেশ-ভারতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ—প্রতিটি বছরই থাকছে বড় কোনো আয়োজন।
সবকিছুর ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আজকের ঘোষণার মানে একটাই—২০৩১ সালে বিশ্বকাপের ট্রফির লড়াই হবে ঘরের মাঠে। এখন থেকেই শুরু হয়ে গেল সেই স্বপ্নের দিন গোনা।






