ব্যালন দ’অরের দৌড়ে এগিয়ে হ্যারি কেন: ২৫ বছরের অপেক্ষা ঘোচাতে পারবেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক?
সোমবার লন্ডন প্যালাডিয়ামে বসছে ২০২৬ ব্যালন দ’অর অনুষ্ঠান। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি কোনো ইংরেজ ফুটবলারের হাতে শেষবার উঠেছিল ২৫ বছর আগে—এবার সেই অপেক্ষা ঘোচানোর আশা জুগিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেন।
২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন ইংরেজদের গর্ব হয়ে এই সম্মান জিতেছিলেন। এবার ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেনের সামনে সুযোগ, নিজের দেশকে আবার সেই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার।
মেসি ও রোনালদো একসময় মৌসুমে ৫০-এর বেশি গোল করতেন, যা দেখে মনে হতো ফুটবলারের গোলসংখ্যা যেন ক্রিকেট ব্যাটসম্যানের স্কোর। কেনের ২০২৫-২৬ মৌসুমের গোলবন্যা সাম্প্রতিক বছরে সেই যুগের সবচেয়ে কাছাকাছি অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
গত মৌসুমে কেনের ৭৩ গোলের পারফরম্যান্স ছিল ২০১১-১২ মৌসুমে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির ৮২ গোলের পর বিশ্বের দেখা সেরা প্রদর্শনী। গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে কেন বলেছেন, ‘আমি কখনো নিজেকে নিয়ে বেশি কথা বলতে পছন্দ করিনি। শুধু এটুকু বলব, গত মৌসুমটা ছিল অবিশ্বাস্য—ব্যক্তিগতভাবে এবং দলগতভাবেও।’
গত মৌসুমে তিনি করেছেন ৩৬ গোল, টানা তৃতীয় বছর বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এবং দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছেন। মহাদেশীয় দৌড়ে তিনি ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ডের চেয়ে নয় গোলে এগিয়ে ছিলেন।
৩৩ বছর বয়সে, যখন বেশিরভাগ ফরোয়ার্ড সেরা সময় পেরিয়ে যান, কেন তখনই যেন ক্যারিয়ারের চূড়ায় রয়েছেন। জিতলে তিনি মেসি, লুকা মদরিচ ও করিম বেনজেমার মতো সাম্প্রতিক বিজয়ীদের কাতারে নাম লেখাবেন, যাঁরা ত্রিশের ঘরে বয়সে এই পুরস্কার জিতেছিলেন।
তবে পথে বড় বাধা দুই তরুণ প্রতিভা—স্পেনের উদীয়মান সুপারস্টার লামিনে ইয়ামাল, যিনি ১৯তম জন্মদিনের পরপরই ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতেছেন, এবং ফ্রান্সের ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পে, যাঁর বয়স ২৭।
কেন ২০১৪ সালে টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকের সময় ইয়ামাল ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আর এমবাপ্পে ছিলেন হাইস্কুলে—প্রজন্মের এই ব্যবধানই এবারের দৌড়কে আরও আকর্ষণীয় করেছে।
লন্ডন থেকে মিউনিখে যাওয়ার পর কেন জার্মান ক্লাব ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি জিতেছেন তিনটি ট্রফি—বুন্দেসলিগা শিরোপা, ডিএফবি-পোকাল (জার্মান কাপ) এবং ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপ (জার্মান সুপারকাপ)।
কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে প্রভাব ফেলতে না পারায় বায়ার্ন ইউরোপের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ক্লাব ট্রফি হাতছাড়া করেছে। বিশ্বকাপেও একই অবস্থা—ইংল্যান্ডকে নিয়ে তিনি তৃতীয় হয়েছেন। বিশ্বকাপ জয় বাধ্যতামূলক শর্ত না হলেও, জীবনবৃত্তান্তে বিশ্ব শিরোপা থাকা নিঃসন্দেহে সাহায্য করে।
সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা প্রায় পূর্বশর্ত হয়ে উঠেছে। আগের ১৯ জন ব্যালন দ’অর বিজয়ীর মধ্যে মাত্র চারজন জয়ের বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা কোপা আমেরিকার কোনোটিই জেতেননি। সেই ব্যতিক্রমদের মধ্যে আছেন রেকর্ড আটবারের বিজয়ী মেসি ও পাঁচবারের বিজয়ী রোনালদো।
তবু আপাতত বাজিকরদের কাছে কেনই এগিয়ে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ২০২৫ সালের বিজয়ী উসমান দেম্বেলের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে তাঁর বাজারের অংশ প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ। ইয়ামাল ও এমবাপ্পে জোর প্রচার চালালেও কেন তুলনামূলক শান্ত রয়েছেন।
বায়ার্ন তাঁর পক্ষে সোচ্চার—সতীর্থদের নিয়ে বানানো ভিডিওতে তাঁদের বক্তব্য, কেনের জেতা উচিত। সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা কলম্বিয়ান লুইস দিয়াজ বলেছেন, ‘সে জিততে পাওয়ার যোগ্য, শতভাগ, কোনো সন্দেহ নেই।’ জিতলে কেন হবেন পঞ্চম ইংরেজ বিজয়ী—স্ট্যানলি ম্যাথিউস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েনের পর।





