ভারতকে ২৭-০ গোলে উড়িয়ে শেষ ষোলোতে বেনিন, স্কুল বিশ্বকাপে গোলবন্যা
চীনে চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য এক ফল দেখল ফুটবলবিশ্ব। আফ্রিকার দেশ বেনিন ভারতকে হারিয়েছে ২৭-০ গোলে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চীনের সুঝৌতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বেনিনের একের পর এক আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে ভারতের যুব দল। পুরো ম্যাচজুড়ে গোলের পর গোল করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আলোচিত এক জয় তুলে নেয় বেনিন।
এই জয় বেনিনের টানা দ্বিতীয় জয়। এর মধ্য দিয়ে তারা টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলেছে। ‘স্কুল চিটাহস’ নামে পরিচিত দলটি গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচ বাকি থাকতেই নকআউট পর্বের টিকিট পেয়ে গেল, যা তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই প্রমাণ।
গ্রুপ ‘বি’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাতারকে ৭-০ গোলে হারিয়েছিল বেনিন। এরপর ভারতের বিপক্ষে ২৭ গোলের জয়ে দুই ম্যাচে তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই দুই ম্যাচে বেনিন একটিও গোল হজম করেনি—আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও তারা ছিল অটুট।
অন্যদিকে ভারতের জন্য টুর্নামেন্টটি রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। প্রথম দিনেই স্বাগতিক চীনের দ্বিতীয় দলের কাছে ১৫-০ গোলে হেরেছিল তারা। এবার বেনিনের কাছে ২৭-০ গোলের পরাজয়ে টানা দুই ম্যাচ হেরে পয়েন্টশূন্য অবস্থায় রয়েছে দলটি। দুই ম্যাচে বিপুল গোল হজম করে তাদের নকআউটের আশা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচেও এসেছে বড় ব্যবধানের ফল। চীন-২ দল কাতারকে হারিয়েছে ৬-০ গোলে। ভারতের বিপক্ষে ১৫-০ গোলের জয়ের পর এটি স্বাগতিকদের এই দলের টানা দ্বিতীয় জয়। ফলে গ্রুপের শীর্ষ লড়াই এখন বেনিন ও চীন-২—এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
পয়েন্টের হিসেবে বেনিন ও চীন-২—দুই দলেরই সংগ্রহ এখন ছয় করে। তবে গোল ব্যবধানে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে বেনিন। তাদের গোল ব্যবধান ৩৪, যেখানে চীন-২ দলের গোল ব্যবধান ২১। শেষ গ্রুপ ম্যাচের আগে এই ব্যবধানই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে বেনিনকে এগিয়ে রেখেছে।
টানা দুই ম্যাচ হেরে পয়েন্টশূন্য রয়েছে ভারত ও কাতার। গ্রুপের সেরা দুটি দল শেষ ষোলোতে খেলার সুযোগ পাবে—এই হিসাবে শীর্ষ দুই দলের নাগাল থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে তারা। শেষ ম্যাচে তাদের লড়াইটা এখন মূলত সম্মান রক্ষার।
বেনিনের জন্য এই আসর নতুন নয়। এবার টানা তৃতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে তারা। ২০২৩ সালের আসরে দলটি পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিল, তবে ২০২৪ সালে তাদের অবস্থান ছিল ১৯তম। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে দলটি অনেক বেশি সংগঠিত ও ধারালো রূপে ফিরেছে।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে বেনিনের লক্ষ্য থাকবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউট পর্বে যাওয়া। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সেই পথে তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। শেষ ষোলোতে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেতে গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সব মিলিয়ে স্কুল বিশ্বকাপের এই আসরে বেনিন নিজেদের শক্তির স্পষ্ট জানান দিয়েছে। দুই ম্যাচে ৩৪ গোল, কোনো গোল হজম না করা এবং আগেভাগেই নকআউট নিশ্চিত করা—এই পারফরম্যান্স তাদের টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত করেছে। ভারতের জন্য বিপরীতে এই হার রেখে গেল বড় প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুব ফুটবলের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে তাদের।





