…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › রাজনীতি › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
রাজনীতি

পদত্যাগের পর ইশরাকের সামনে মেয়র নির্বাচনের পথ: বিএনপিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, কৌশল নাকি শৃঙ্খলা তা নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেতরেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে — একাংশ এটিকে জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার কঠোর বার্তা হিসেবে দেখলেও আরেক অংশের ধারণা, এর নেপথ্যে থাকতে পারে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আসন্ন মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে আগাম প্রস্তুতির কৌশল।

সমর্থকদের যুক্তি, ইশরাক মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হওয়া। তাঁর বাবা সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন অবিভক্ত ঢাকার মেয়র। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও পরিচিতির কারণে মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই ইশরাককে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান বলে তাঁদের দাবি।

রাজনীতিতে নামার পর থেকেই ইশরাক নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছিলেন — নগরীর অলিগলিতে বিচরণ ছিল তাঁর নিয়মিত কাজ। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হিসেবে নিজের পক্ষে হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পরের তৎপরতা সেই ধারণাকে আরও স্পষ্ট করেছিল।

বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিক থেকেও হিসাবটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর মতো তরুণ প্রার্থীদের সঙ্গে লড়তে বিএনপিতে ইশরাককেই একমাত্র বিকল্প হিসেবে ভাবছে এই পক্ষটি।

তবে বিএনপির ভেতরে আলোচনা শুধু ইশরাককে ঘিরেই নয়। বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। ফলে মনোনয়নের লড়াই যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট।

ইশরাকের সমর্থকদের আরেকটি যুক্তি হলো, অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা স্বাধীনভাবে গণসংযোগ করতে পারছেন, বিরোধী দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রকাশ্যে কাজ করছেন; কিন্তু মন্ত্রিসভার সদস্য থাকায় ইশরাক নিয়মের বাইরে কিছু করতে পারেননি। এখন বড় দায়িত্ব না থাকায় তিনি নিজের মতো করে মাঠে কাজ করতে পারবেন — অর্থাৎ পদত্যাগের মধ্য দিয়েই মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম হলো। এই দৃষ্টিকোণ থেকে কেউ কেউ এটিকে বিএনপি হাইকমান্ডের এক ধরনের কৌশল বলেও মনে করছেন।

ঘটনার শুরু গত ১৭ অক্টোবর। সেদিন পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে ‘মাদকের আস্তানায়’ পুলিশ সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালান ইশরাক, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনার মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দিলেও এর মধ্যে হাজার হাজার কপি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে — মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কি অস্ত্র হাতে এভাবে অভিযান চালাতে পারেন?

তীব্র সমালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইশরাককে ডেকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপর সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ইশরাক। তাঁর পদত্যাগে সরকার কিছুটা দায়মুক্তি পেলেও বিএনপিতে অস্বস্তি থেকে গেছে। পদত্যাগের দিনই প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক বার্তা এবং মেয়র নির্বাচন নিয়ে ইশরাকের আগ্রহের বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে।

ইশরাক নিজে পদত্যাগের পর বলেছেন, তিনি মেয়র নির্বাচনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দল যদি অন্য কাউকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করে, তাঁকে জেতানোর জন্যও তিনি শতভাগ প্রস্তুত থাকবেন; কোনো কিছুতেই তিনি বিচলিত হবেন না, সব পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে যাবেন। মেয়র নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও সম্প্রতি জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য। দক্ষিণ সিটিতে মেয়র হওয়ার বাসনা তিনি বহু আগে থেকেই পোষণ করেছেন এবং প্রকাশ্যে ঘোষণাও দিয়েছেন কয়েকবার।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন পদত্যাগকে দেখছেন ইতিবাচকভাবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি ইশরাকের পদত্যাগকে ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে লেখেন — এই পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং ভবিষ্যতে তাঁর জন্য আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

তবে কৌশলের তত্ত্ব মানতে নারাজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি বলেছেন, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রী ইশরাককে পদত্যাগ করতে বলেছেন; মেয়র প্রার্থী করার কৌশল হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে যে প্রচারণা চলছে, তা সঠিক নয়। তাঁর যুক্তি, নির্বাচন কবে হবে তা এখনো বহু দূর — বিএনপি এমনটি চাইলে নির্বাচনের তফসিল হওয়ার আগমুহূর্তেও তাঁকে পদত্যাগ করতে বলতে পারত। ইশরাক উদীয়মান নেতা, দলে নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা রাখলে ভবিষ্যতে তাঁর ওপর আরও বড় দায়িত্বও আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম বলেছেন, এ ধরনের বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কথা বলা কঠিন। তবে ইশরাককে নিয়ে কতিপয় গণমাধ্যমের দ্বিচারিতা স্পষ্ট — প্রথম দিন তাঁর মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও দ্বিতীয় দিন তা ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। পদত্যাগের নেপথ্যে কৌশল থাকতে পারে কি না — এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সমর্থকরা সেই ধারণা করতেই পারেন, সাধারণ জনগণের কেউ কেউ সেভাবে মূল্যায়নও করতে পারেন; যে কেউই নিজেকে একটি জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতে পারেন, এটা দোষের কিছু নয়। পদত্যাগের নেপথ্যে আসলে কী হয়েছে, তা সময়ই বলে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা অবশ্য ভেতরের বিভক্তির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান প্রশাসক মো. আবদুস সালামের সঙ্গে ইশরাকের তেমন মিল নেই, আবার মির্জা আব্বাস ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের একটি পক্ষও আছে — সব মিলিয়ে এই বিভক্তি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে, আর বিরোধী দল সেই সুযোগ লুফে নেবে। তিনি বলেন, আবদুস সালাম প্রশাসকের চেয়ারে বসেই মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে ইশরাক মন্ত্রিত্ব সামলাতে গিয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন; এবার তিনি পুরোদস্তুর মাঠে নামবেন। তবে মেয়র নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন কে পাবেন, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে — আগেভাগে মাঠ গোছানোই এখন তাঁর কাজ।

৩৯ বছর বয়সী ইশরাকের রাজনৈতিক ভিত্তি তাঁর বাবার উত্তরাধিকারেও দাঁড়িয়ে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র; পুরান ঢাকায় তাঁর শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল, যাঁর কাছে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে হেরে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর বাবার মৃত্যুর পর সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন ইশরাক। আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি; ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তিনি, সেবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন। ফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মেয়র ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলেও শপথ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিরোধে শেষ পর্যন্ত মেয়রের চেয়ারে বসতে পারেননি তিনি। এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত এক বিএনপি কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।

সব মিলিয়ে পদত্যাগ ইশরাকের জন্য শেষ নয়, বরং নতুন এক লড়াইয়ের শুরু বলেই মনে করছেন অনেকে। শৃঙ্খলার বার্তা, নাকি মেয়র নির্বাচনের আগাম কৌশল — কোন ব্যাখ্যাটি সঠিক, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে বিএনপির মনোনয়ন ও মেয়র নির্বাচনের তফসিলের ওপর। আপাতত নিশ্চিত একটি বিষয়ই: মন্ত্রিসভা ছাড়ার পর ইশরাক এখন পুরোপুরি মাঠের রাজনীতিতে, আর ঢাকা দক্ষিণের মেয়র লড়াই তাঁকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি সরগরম।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

রাজনীতি বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

আসামে ১১শ’র বেশি বাঙালি মুসলিমের ঘর ভাঙার নিন্দা নাহিদের: ‘ভারত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ’

ভারতের আসামে এক হাজার এক শর বেশি বাঙালি মুসলিমের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দল…

রাজনীতি

প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি: ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রজ্ঞাপন জারি

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিত…

রাজনীতি

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মাঠপর্যায়ের অফিসে সৌর প্যানেল বসাবে নির্বাচন কমিশন

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপ…

রাজনীতি

‘বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলে জামায়াত-এনসিপিকে ছিঁড়ে খাবে আওয়ামী লীগ’: প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না থাকলে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) আওয়ামী লীগ শকুনের…