‘বিএনপি ক্ষমতায় না থাকলে জামায়াত-এনসিপিকে ছিঁড়ে খাবে আওয়ামী লীগ’: প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খাঁন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না থাকলে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) আওয়ামী লীগ শকুনের মতো ছিঁড়ে খাবে। শক্তিশালী বিরোধী দল সাজতে গিয়ে নিজেদের হাসির পাত্র না বানানোর অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন রাশেদ খাঁন। তাঁর এই স্ট্যাটাস ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শক্তিশালী বিরোধী দল সাজতে গিয়ে ‘পালিয়ে যাবে’, ‘লুঙ্গি থাকবে না’, ‘হেলিকপ্টার রেডি করে রাখুন’ কিংবা ‘আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে’—এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে নিজেদের হাসির পাত্র না বানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি।
জামায়াতের সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ খাঁন লেখেন, জামায়াতের অধিকাংশ সংসদ সদস্য কখনো রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন না।
তাঁর দাবি, তারা মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আশীর্বাদে এবং ‘ওয়েলফেয়ার মেকানিজমের’ তত্ত্ব অনুসরণ করে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এ কারণে রাজপথের বক্তব্যে তারা অভ্যস্ত নন।
তিনি আরও লেখেন, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সংসদে কিংবা রাজপথে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের নেতারা প্রায়ই খেই হারিয়ে ফেলছেন।
জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, সরকার সম্পর্কে তাঁর ‘আউল-ফাউল’ বক্তব্য নিয়ে মানুষ হাসিতামাশা করছে।
তাঁর মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন ছিল, জামায়াত তা ধারণ করতে পারছে না।
রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ফ্যাসিবাদের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াতও প্রায় একই ভাষায় কথা বলছে।
তাঁর ধারণা, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য অনুসরণ করতে গিয়ে জামায়াত নেতারা খেই হারিয়ে ফেলছেন। শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে গিয়ে এ ধরনের বক্তব্য তাদের হাসির পাত্রে পরিণত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে রাশেদ খাঁন তাঁর সবচেয়ে কড়া সতর্কবার্তাটি দেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগ জামায়াত ও এনসিপিকে শকুনের মতো ঠুকরে ঠুকরে ছিঁড়ে খাবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর এই বক্তব্য সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এলো। জামায়াত বা এনসিপির পক্ষ থেকে এই স্ট্যাটাসের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এখন প্রশ্ন, বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের এই ধারা আগামী দিনে সংসদ ও রাজপথের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে এবং সরকার পক্ষের এই সতর্কবার্তার জবাব বিরোধী শিবির কীভাবে দেয়।





