আসামে ১১শ’র বেশি বাঙালি মুসলিমের ঘর ভাঙার নিন্দা নাহিদের: ‘ভারত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ’
ভারতের আসামে এক হাজার এক শর বেশি বাঙালি মুসলিমের বাড়িঘর ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের অধীনে ভারত তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে আসামের উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা মুসলিমদের ওপর চালানো এই ‘পরিকল্পিত নিপীড়নের’ বিষয়টি অবিলম্বে আমলে নেয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আসামে কর্তৃপক্ষ এক হাজার এক শর বেশি বাঙালি মুসলিমের বাড়িঘর ভেঙে ফেলেছে। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় দশটিরও বেশি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে কিছু মসজিদ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে টিকে ছিল।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপগুলোকে সরকারি ও বনভূমি থেকে তথাকথিত ‘দখলদারদের’ উচ্ছেদের প্রক্রিয়া হিসেবে যৌক্তিক দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারেরই এই অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে—তারা ভারতের স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই এই জমিতে বসবাস করে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, যথাযথ পুনর্বাসন ও পুনর্সংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ অনেক পরিবারকে বাস্তুচ্যুত ও অসহায় অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। এমনকি কিছু পরিবারকে আটক কেন্দ্রে (ডিটেইনশন সেন্টার) রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
নাহিদের মতে, এই সাম্প্রতিক অভিযান ভারতে বাঙালি মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও নিপীড়নের একটি উদ্বেগজনক ধারার অংশ, যা মূলত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি দ্বারা পরিচালিত। গত এক দশকে সেখানে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক বহিষ্কার এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন। নাহিদের ভাষায়, এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বর্তমান সরকার মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, যা তাদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
তিনি ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার কথাও স্মরণ করেন। তাঁর মতে, সেই বেআইনি ঘটনাটি আজও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের এক স্থায়ী প্রতীক হয়ে রয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের অধীনে, ভারত তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়—যার মধ্যে মুসলিম, খ্রিষ্টান, শিখ এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরা অন্তর্ভুক্ত—তাদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর আহ্বান, তারা যেন মুসলিমদের ওপর এই পরিকল্পিত নিপীড়নের বিষয়টি অবিলম্বে আমলে নেয়।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকারের এই গুরুতর লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের জন্য ভারত সরকারকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। জাতি, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে ভারতের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতার নীতি সমুন্নত রাখা তাদের দায়িত্ব। তাঁর কথায়, ‘ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।’
আসামের এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এর আগেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। এনসিপির সর্বোচ্চ নেতার এই কড়া বিবৃতি সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয় এবং ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জবাব আসে কিনা, সেদিকে এখন নজর থাকবে।




