১৬০ রানেই শেষ বাংলাদেশ, ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে আফগানিস্তান: ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় টাইগারদের, ফাইনালে সঙ্গী জিম্বাবুয়ে
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের। বুধবার (২১ অক্টোবর) আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল টাইগাররা। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় আগে ব্যাট করে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হওয়ার পর রান রেটের সমীকরণও মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ—ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে আফগানদের ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো, কিন্তু ২৭ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে সেই রান টপকে যায় আফগানিস্তান। ফাইনালে তাদের সঙ্গী জিম্বাবুয়ে।
আগে ব্যাট করতে নেমে আফগান বোলারদের তোপে শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে টাইগাররা। ইমন করেন দলের সর্বোচ্চ ৭০ রান, আর সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান।
তবে ইমন-সাইফের লড়াই ছাড়া বাকি ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। পুরো ৫০ ওভারও খেলতে না পারা এবং বড় জুটির অভাব—এই দুই ব্যর্থতাই ফাইনালের সমীকরণকে বাংলাদেশের জন্য প্রায় অসম্ভব করে তোলে।
আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬১ রান। তবে ম্যাচের আসল লড়াই ছিল অন্য সমীকরণে: নেট রান রেটে ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে আফগানদের ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতেই হতো। অর্থাৎ শুধু জিতলেই হতো না, জিততে হতো নির্দিষ্ট ব্যবধানে—সেই চাপ নিয়েই বল হাতে নামে টাইগাররা।
বল হাতে শুরুটা অবশ্য আশাব্যঞ্জকই ছিল বাংলাদেশের। দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ শুরু করেন তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম। নিজের দ্বিতীয় ওভারে রহমানুল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন—৮ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে সেদিকুল্লাহ আতালকেও ফিরিয়ে বাংলাদেশের আশা আরও উজ্জ্বল করেন তাসকিন। শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, ১১৯ রানের সমীকরণ হয়তো সত্যিই মেলানো সম্ভব।
কিন্তু সেই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। দুজন মিলে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংস সামাল দেন। তাঁদের জুটি পঞ্চাশ রান ছাড়িয়ে গেলে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে—প্রতিটি রান যেন টাইগারদের স্বপ্ন থেকে এক ধাপ করে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিল।
দলীয় ৯৫ রানের মাথায় মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ইব্রাহিম জাদরান আউট হলে ভাঙে রহমত শাহর সঙ্গে তাঁর ৫৬ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন জাদরান। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারিত হয়ে গেছে।
এক প্রান্ত আগলে খেলতে থাকা রহমত শাহ এরই মধ্যে ব্যক্তিগত অর্ধশতকের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তাঁর স্থির ব্যাটিংয়েই ২৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রানের সমীকরণ টপকে যায় আফগানিস্তান—আর সেই মুহূর্তেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানরা।
এমন ব্যাটিং করে ফাইনালে যাওয়া যায় না—ম্যাচ শেষে সমর্থকদের হতাশার সারকথা এটাই। ১৬০ রানের পুঁজি নিয়ে কোনো দলই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বস্তিতে থাকতে পারে না, তার ওপর যেখানে প্রতিপক্ষকে নির্দিষ্ট রানের মধ্যে আটকে রাখার বাড়তি শর্ত ছিল। ইমন ও সাইফ ছাড়া বাকিদের ব্যর্থতা এই হারের সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে থাকল।
আফগানিস্তানের জন্য এই জয় ফাইনালের টিকিট এনে দিল। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই ফাইনালে উঠল এই দুই দল, আর বাংলাদেশকে ফিরতে হলো খালি হাতে।
বাংলাদেশের জন্য এখন সামনে তাকানো ছাড়া উপায় নেই। ব্যাটিং বিপর্যয় কেন বারবার ফিরে আসছে, বড় ম্যাচের চাপে কেন ভেঙে পড়ছে দল—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই হবে টিম ম্যানেজমেন্টের পরবর্তী কাজ। ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙার এই হতাশা কাটিয়ে পরের সিরিজের প্রস্তুতিতেই এখন মনোযোগ দিতে হবে টাইগারদের।





