…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › অর্থনীতি ও ব্যবসা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
অর্থনীতি ও ব্যবসা

হরমুজের বিকল্প খুঁজছে মধ্যপ্রাচ্য, পাঁচ বছরে কমতে পারে প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব, প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও পরিবহন করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদার করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ইরানকে ঘিরে সংঘাত এই উদ্যোগকে নতুন গতি দিয়েছে।

এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত হিসাব নয়, এশিয়ার জ্বালানি বাজার এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদারি গত মঙ্গলবার দুবাইয়ে এক অনুষ্ঠানে পূর্বাভাস দিয়েছেন, বিকল্প পরিবহনব্যবস্থার সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক কমে যেতে পারে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাস, নিশ্চিত পরিণতি নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল তেল ও তেলজাতীয় তরল পদার্থ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই পথ অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ বিকল্প পথ তৈরি হলেও হরমুজের গুরুত্ব রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

হরমুজ দিয়ে পরিবাহিত তেলের বড় অংশ এশিয়ার বাজারে যায়। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এই প্রবাহের প্রধান গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিকল্প রপ্তানি অবকাঠামো শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তার হিসাবও বদলে দিতে পারে।

তবে নতুন পাইপলাইন তৈরি হলেই তেলের দাম কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উৎপাদন, আন্তর্জাতিক চাহিদা, যুদ্ধের ঝুঁকি, জাহাজের বিমা, পরিবহন ব্যয় ও প্রধান রপ্তানিকারকদের সিদ্ধান্তও দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে বড় অর্থনীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তি, কৌশলগত মজুত এবং সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার দিকে আরও মনোযোগ দিতে পারে। বাংলাদেশও এই প্রতিযোগিতার বাইরে নয়।

বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, পরিবহন ও সার উৎপাদনের বড় একটি অংশ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, সরকারি ভর্তুকি, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ে। অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং অন্যান্য জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে আমদানি বিলও বাড়ে। এতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং সরকারের জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

২০২৬ সালের মে মাসে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের এলএনজি আমদানি ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করে। বিশ্বব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং আমদানিকৃত জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে বা স্পট মার্কেটে দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, আর গ্যাসের ঘাটতি শিল্পকারখানার উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ১৩৪টি নিট পোশাক কারখানার এক জরিপে দেখা যায়, ৭৮ শতাংশ কারখানা আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে এবং ৫৫ শতাংশ কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে বা কমেছে বলে জানিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল হলে শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা রক্ষায় সুবিধা হতে পারে। বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাড়তি জ্বালানি ব্যয় পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা দুর্বল করতে পারে।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয়ও বাড়তে পারে। সরকার জ্বালানির দাম সমন্বয়, ভর্তুকি, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং আমদানির সময় নির্ধারণের মাধ্যমে কিছু চাপ সামাল দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হলে সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয়ের উৎস। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন পরিবহন, শিল্প, পর্যটন ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বিকল্প বাণিজ্য করিডর গড়ে ওঠার ফলে এসব খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়া কিংবা শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব রেমিট্যান্স প্রবাহেও পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। তবে বাংলাদেশের লাভ নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি এবং আমদানির প্রকৃত উৎসের ওপর। শুধু হরমুজ এড়িয়ে তেল পরিবহন সম্ভব হওয়াই বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কমার নিশ্চয়তা নয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

অর্থনীতি ও ব্যবসা বিভাগের আরও খবর

অর্থনীতি ও ব্যবসা

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, দাম নিয়েও বাড়ছে চাপ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজার। মোট রপ্তানির ৬১ শতাংশই যায় এই বাজারে। তবে দীর্ঘদিনের ধারাবাহি…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ ছুঁতে পারে দেড় লাখ টাকা, মোট ঋণের প্রাক্কলন ২৬ লাখ ৩৩ হাজার কোটি

সরকারের ঋণ বাড়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থ বিভাগের প্র…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

লাস ভেগাসে ‘দ্য মানি অ্যাওয়ার্ডস’-এ দুই সম্মাননা পেল বিকাশ: গোল্ড ও সিলভার

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একবার স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের মোবাইল আর্থিক সেবা। ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা এবং ক্যাশলেস লেনদেনের ইক…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

ইউরোপের অস্থিরতা আর দেশে সুতার নীতির চাপে সংকটে পোশাক রপ্তানি

ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিগুলোতে চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার জেরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিদেশি…