…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › অর্থনীতি ও ব্যবসা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
অর্থনীতি ও ব্যবসা

অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ ছুঁতে পারে দেড় লাখ টাকা, মোট ঋণের প্রাক্কলন ২৬ লাখ ৩৩ হাজার কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের ঋণ বাড়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনের শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ বেড়ে রেকর্ড ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন সত্যি হলে ২০২৭ সালের জুন শেষে মাথাপিছু ঋণ ওই অঙ্কের তুলনায় প্রায় ২১ হাজার টাকা বাড়বে। মাথাপিছু ঋণ বলতে সরকারের মোট ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া গড় অঙ্ক বোঝায় — এটি প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত ঋণ নয়, তবে রাষ্ট্রের দায়ের গড় চিত্রটি তা থেকেই বোঝা যায়।

জনসংখ্যার হিসাবে অঙ্কটি সামান্য এদিক-ওদিক হয়। দেশের জনসংখ্যা আনুমানিক ১৭ কোটি ৫০ লাখ ধরে হিসাব করলে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা; জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৬০ লাখ ধরলে প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ হিসাবভেদে কিছুটা পরিবর্তন হলেও অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ভর করবে অর্থবছর শেষে সরকারের প্রকৃত ঋণের স্থিতি ও জনসংখ্যার ওপর।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল প্রায় ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ প্রায় ৯ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষের প্রাক্কলিত স্থিতি হবে দুই বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।

ঋণ বাড়ার প্রবণতা পরের বছরগুলোতেও থামছে না প্রাক্কলনে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণ ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ঋণঝুঁকি আগের ‘নিম্ন’ পর্যায় থেকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

বিদেশি ঋণের চিত্রটিও রেকর্ড ছুঁয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার; গত মার্চ শেষে তা ছিল ১১০ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার — তিন মাসে বেড়েছে ৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই বৃদ্ধির প্রধান অংশ এসেছে সরকারি খাত থেকে: মার্চের ৯০ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার থেকে জুনে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৯৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বেসরকারি খাতের বিদেশি ঋণ ১৪ কোটি ডলার কমে ১৯ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার — এক বছরে বেড়েছে ১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ২০ পয়সা বিনিময় হার ধরলে জুন শেষে মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ১১ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। ১৭ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যা ধরে মাথাপিছু মোট বিদেশি ঋণ প্রায় ৮১ হাজার টাকা ও সরকারি খাতের বিদেশি ঋণ প্রায় ৬৭ হাজার টাকা। তবে মনে রাখতে হবে, সরকারি খাতের হিসাবে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণও থাকে — তাই এই অঙ্কের সঙ্গে সরকারের মোট মাথাপিছু ঋণ যোগ করলে দ্বৈত গণনার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে মোট বিদেশি ঋণ ছিল জিডিপির প্রায় ২৪ শতাংশ।

মেয়াদের দিক থেকে জুন শেষে মোট বিদেশি ঋণের ৮৭ দশমিক ৫২ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদি — ১০০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার; স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। ঋণদাতাদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বহুপক্ষীয় সহযোগীদের ঋণ ৪৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার, দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ ৩২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার, বাণিজ্যিক ঋণ ১০ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ প্রায় ৫ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। ঋণের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী পরিশোধের সময়সূচি আলাদা হওয়ায় কখন কত পরিশোধ করতে হবে, সেটিও ঋণ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চাপ বাড়াচ্ছে অর্থছাড় কমে যাওয়া। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ বিদেশি সহায়তা পেয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার — এর মধ্যে ঋণ ২৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার এবং অনুদান ৩১ লাখ ডলারের কিছু বেশি। সবচেয়ে বেশি ছাড় করেছে এডিবি, প্রায় ১২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার; বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার ও জাপান প্রায় ৪ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থছাড় ছিল প্রায় ৭৫ কোটি ডলার — অর্থাৎ কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। একই সময়ে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও এসেছে মাত্র ২৪ কোটি ডলারের।

বিপরীতে পরিশোধ বাড়ছে। জুলাই-আগস্টে আগের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার — প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা — যা নতুন অর্থছাড়ের প্রায় ২ দশমিক ৪ গুণ। এর মধ্যে আসল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ও সুদ ১৮ কোটি ২৮ লাখ ডলারের বেশি। ফলে প্রথম দুই মাসে বিদেশি সহায়তার নিট প্রবাহ প্রায় ৪০ কোটি ডলার ঋণাত্মক হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ ছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার — এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। ইআরডির আগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে আসল ও সুদ পরিশোধ রেকর্ড ৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে; রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়ার ঋণের আসল পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের মার্চ থেকে।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও ঋণ বাড়ছে দ্রুত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা জুন শেষে ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণ জুনের ৯৪ হাজার ৫১ কোটি টাকা থেকে কমে ৩০ আগস্টে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা — গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা; প্রথম দুই মাসেই নেওয়া হয়েছে লক্ষ্যের ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ, আর সেপ্টেম্বরসহ প্রথম তিন মাসে ব্যাংকঋণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তিতে চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে — তা নির্ভর করে ব্যাংকগুলোর তারল্য, ঋণের চাহিদা ও সুদের হারের ওপর।

বাজেটের হিসাবও এই চাপের কারণ বোঝায়। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা; ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা ঋণ দিয়েই পূরণের পরিকল্পনা। চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা — মোট বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ; অর্থ বিভাগের প্রাক্কলনে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে সুদ ব্যয় পৌঁছাতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা — বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ; মার্চ শেষে তা ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, অর্থাৎ তিন মাসে বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। ঋণের এই সামগ্রিক চিত্রই এখন অর্থনীতির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় — সামনে বাজেট ব্যবস্থাপনায় রাজস্ব বাড়ানো আর ঋণ পরিশোধের চাপ সামলানোই হবে সরকারের বড় পরীক্ষা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

অর্থনীতি ও ব্যবসা বিভাগের আরও খবর

অর্থনীতি ও ব্যবসা

হরমুজের বিকল্প খুঁজছে মধ্যপ্রাচ্য, পাঁচ বছরে কমতে পারে প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব, প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও পরিবহন করিডর গড়ে তোলার উদ্যোগ জোরদ…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

লাস ভেগাসে ‘দ্য মানি অ্যাওয়ার্ডস’-এ দুই সম্মাননা পেল বিকাশ: গোল্ড ও সিলভার

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একবার স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের মোবাইল আর্থিক সেবা। ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনা এবং ক্যাশলেস লেনদেনের ইক…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

ইউরোপের অস্থিরতা আর দেশে সুতার নীতির চাপে সংকটে পোশাক রপ্তানি

ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিগুলোতে চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার জেরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিদেশি…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

রাজধানীতে একটি ডাব ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, উৎপাদন এলাকার ৬০ টাকার ডাব খুচরায় তিন গুণ

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশের ডাবের দোকানে থামা একসময় ছিল খুবই সাধারণ ঘটনা। অসুস্থ স্বজনের জন্য কিংবা শরীর সতেজ রাখতে অনেকেই কিনতেন ডাবের পানি। কি…