মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ৯৯.১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। গত সপ্তাহেও এই তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কমে ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে নেমে আসে। গত ১৯ মে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১১.২৮ ডলারে উঠেছিল।
তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা। জ্বালানি বাজারবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এসব হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী এই প্রণালিতে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে নতুন করে হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের নতুন এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা অব্যাহত থাকলে এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।
এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
টানা তিন থেকে চার দিন ধরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বাজারে স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা করছিলেন অনেক বিনিয়োগকারী। কিন্তু নতুন হামলার খবরে সেই প্রত্যাশায় ধাক্কা লেগেছে।
গত সপ্তাহে দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে নিচে নামার পর অনেকেই ভেবেছিলেন বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হচ্ছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালির ঘটনাপ্রবাহ সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে।
সরবরাহ-শৃঙ্খলের এই অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা, বিশেষ করে যখন বিশ্বের বহু দেশ এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়ছে।




