…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › অর্থনীতি ও ব্যবসা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
অর্থনীতি ও ব্যবসা

আমানত, বিনিয়োগ ও সম্পদে পিছিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলো, আস্থার সংকটে থমকে গেছে প্রবৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমানত, বিনিয়োগ ও সম্পদ—তিনটি সূচকেই প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে দেশের ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণবিষয়ক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র। আর্থিক অস্থিতিশীলতা, ঋণ কেলেঙ্কারি, সুশাসনের ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে এসব ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা কমে গেছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তাদের ব্যবসায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে ইসলামি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অথচ একই সময়ে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ—ইসলামি ধারার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। একই সময়ে ইসলামি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায়, আগের বছরের আগস্টে যা ছিল ৫ লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যেখানে প্রচলিত ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মোট সম্পদের দিক থেকেও পিছিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলো—এক বছরে তাদের সম্পদ ৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত ব্যাংকে সম্পদ বৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

বর্তমানে দেশে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংককে একত্র করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত ব্যাংকগুলোও শাখা ও উইন্ডোর মাধ্যমে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ১৭টি প্রচলিত ব্যাংকের ৪৯টি ইসলামি ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। পাশাপাশি ১২টি প্রচলিত ব্যাংক ৬৩২টি ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক শাখা ও উইন্ডো—দুই মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি ও দুর্বল পরিচালন ব্যবস্থার কারণে ইসলামি ব্যাংকিং খাতে মানুষের আস্থা কমেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে দুটি ইসলামি ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটে, যার প্রভাব আস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি হয়ে রয়ে গেছে।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, মূলত ২০২১ সাল থেকে আগ্রাসী ঋণ বিতরণের কারণে ইসলামি ব্যাংকগুলোর ঋণপ্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। পরে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির তথ্য সামনে আসতে থাকে।

কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকের আস্থা কমতে থাকে, যার ফলে আমানত বৃদ্ধির গতিও কমে আসে। ২০২৫ সালের আগস্টের পর সংকটের নানা তথ্য প্রকাশ্যে এলে আমানত ও বিনিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয় বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এই খাতের ব্যাংকগুলোর রপ্তানি আয়-সংক্রান্ত প্রাপ্তি আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭৩৬ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৩০ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে অর্থ পরিশোধ বেড়েছে ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ।

কর্মসংস্থানেও ধাক্কা লেগেছে এই খাতে। ইসলামি ব্যাংকগুলোর কর্মীর সংখ্যা এক বছরে ৪৭ হাজার ৬৪১ জন থেকে কমে ৪৪ হাজার ৭৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে কর্মী কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।

সামগ্রিক সূচকে পিছিয়ে থাকলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলোর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ ইসলামি ব্যাংকগুলোর দখলে রয়েছে, বিপরীতে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর হিস্যা ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এই অবস্থান ধরে রাখতে এজেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সেবার উন্নয়ন এবং গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বর্তমানে পাঁচটি ইসলামি ধারার ব্যাংককে একত্র করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি গ্রাহকের আস্থা বাড়বে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আশাবাদের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে আস্থা ফেরানোর উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

অর্থনীতি ও ব্যবসা বিভাগের আরও খবর

অর্থনীতি ও ব্যবসা

নতুন শেয়ার না ছেড়েই বাজারে আসতে পারবে ভালো কোম্পানি, বিএসইসির ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালা কার্যকর

নতুন শেয়ার ইস্যু না করেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে নির্দিষ্ট শ্রেণির সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানি। এ জন্য উদ্যোক্তা, পরিচালক ও পুরোনো শেয়ারধার…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

পোশাক খাতে ইএসজি ড্যাশবোর্ড চালু করল বিজিএমইএ, ৩২৬ কারখানা ইতোমধ্যে যুক্ত

বিশ্ব চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশগত নিরাপত্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ইএসজি ড্যাশবোর্ড’ চালু …

অর্থনীতি ও ব্যবসা

সোনালী ব্যাংক স্টাফ কলেজে ১১৫ কিলোওয়াটের সোলার সিস্টেম উদ্বোধন

সোনালী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন স্থাপনায় বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরায় সোনালী ব্যাংক স্…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

এলডিসি উত্তরণে বছরে ৬৩৮ কোটি ডলারের রপ্তানি ঝুঁকি: সেমিনারে সতর্কবার্তা

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে চূড়ান্ত উত্তরণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার স্বীকৃতি হলেও এর প্রভাবে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের রপ্তানি খাত।…