পোশাক খাতে ইএসজি ড্যাশবোর্ড চালু করল বিজিএমইএ, ৩২৬ কারখানা ইতোমধ্যে যুক্ত
বিশ্ব চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি পোশাক খাতে পরিবেশগত নিরাপত্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ইএসজি ড্যাশবোর্ড’ চালু করেছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রপ্তানি বাণিজ্যে টিকে থাকতে কারখানাগুলোকে তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে—এই বাস্তবতাই এই উদ্যোগের পেছনে কাজ করেছে।
গত সোমবার পোশাক খাতে পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) সম্পর্কিত প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এই ড্যাশবোর্ডে পণ্যের গন্তব্য দেশের নীতিমালা মেনে পরিবেশবান্ধব কারখানা, নবায়নযোগ্য শক্তি ও কার্বন কমানোর ক্ষেত্রে পরিবেশগত মানদণ্ড, ন্যায়সঙ্গত মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ, এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া, বিশ্লেষণ করা ও প্রবণতা বোঝা যাবে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান ও ম্যাপড ইন বাংলাদেশের (এমইবি) কারিগরি প্রধান অধ্যাপক মতিন আব্দুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ।
প্রধান অতিথি ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সরকারের দুর্বল নীতির কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। আগামীতে দেশের রূপকল্প বাস্তবায়নে পোশাক শিল্পের গতিশীল নেতৃত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে কারখানাগুলোকে তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে। ইতোমধ্যে ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। তবে শিগগিরই পোশাক খাতের যৌথ সুরক্ষায় এটি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে বলে তিনি জানান।
বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বলেন, কমপ্লায়েন্সকে কেবল নিয়ম রক্ষার মধ্যে না রেখে ব্যবসায়িক সক্ষমতায় রূপান্তর করাই এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য।
ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার সরকারের সংস্কার এজেন্ডায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, কেবল গতানুগতিক নিয়ম পালন নয়, টেকসই শিল্প পরিচালনাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের প্রধান শর্ত।
বিআইজিডির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান দেশের সব পোশাক কারখানাকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ম্যাপড ইন বাংলাদেশের কারিগরি প্রধান অধ্যাপক মতিন আব্দুল্লাহ প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।
ডেনমার্ক দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এবং বিআইজিডি ও এমআইবির কারিগরি সহযোগিতায় বিজিএমইএ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
সব মিলিয়ে, এই ড্যাশবোর্ড চালু হওয়ায় পোশাক কারখানাগুলোর পরিবেশ, শ্রমমান ও সুশাসনের তথ্য এখন এক জায়গা থেকে যাচাই ও বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হলো। এটি বাধ্যতামূলক হলে খাতের প্রায় সব সদস্য কারখানাকেই এই তথ্য-কাঠামোর আওতায় আসতে হবে—যা ক্রেতা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান কমপ্লায়েন্স চাহিদার মুখে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


