আমিরাতে জনতা ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে ২০০ কোটি দিরহাম মূলধন সহায়তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি সরকারের
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে ২০০ কোটি দিরহাম বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ৭০৬ কোটি টাকার মূলধন সহায়তা দেওয়ার ‘দৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে সরকার।
সম্প্রতি সরকারের পক্ষে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতিপত্র পাঠিয়ে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করার এই ঘোষণা দেন।
এর আগে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলধন-ঘাটতি সংক্রান্ত শর্ত পূরণের জন্য প্রথম দফায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বা ৩০ কোটি দিরহাম জোগান দেওয়া হয়েছিল। তবে শুধু শাখার ঘাটতি পূরণেই সন্তুষ্ট না হয়ে প্রধান ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক চিত্র বিবেচনা করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও সুনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন করে এই বড় অঙ্কের মূলধন জোগানের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়া হলো।
জানা যায়, পরিশোধিত মূলধন ঘাটতির কারণে এর আগে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশটিতে জনতা ব্যাংকের শাখাগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী শাখাগুলোর জন্য ৪০ কোটি দিরহাম পরিশোধিত মূলধন থাকার কথা থাকলেও ছিল মাত্র ১০ কোটি দিরহাম।
পরবর্তীতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপে ১ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ পাঠানো হলে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ ও আল আইনে অবস্থিত চারটি শাখার কার্যক্রম সাময়িকভাবে রক্ষা পায়।
১৯৭৬ সাল থেকে প্রবাসীদের সেবা দিয়ে আসা এই ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতেই এখন এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইন ও প্রক্রিয়া মেনেই এই প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির রেমিট্যান্স পাঠানো, সঞ্চয়ী হিসাব পরিচালনা, বন্ডে বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের এই শাখাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
শাখাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেলও সংকুচিত হয়ে পড়ত। দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষার্থেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এখন নতুন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মূলধন জোগানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আমিরাতে জনতা ব্যাংকের চার শাখার কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



