রবার্ট এফ কেনেডির নাতনি কাইল কেনেডি আর নেই, মৃত্যু ৪২ বছর বয়সে
যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কেনেডি পরিবারের সদস্য কাইল কেনেডি মারা গেছেন। রবার্ট এফ কেনেডি ও এথেল কেনেডির নাতনি কাইলের বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তা অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর ম্যাসাচুসেটসের ওয়েস্টউডে নিজের বাড়িতে তিনি শান্তভাবে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। শোকবার্তাটি প্রকাশ করেছে বার্ক ফিউনারেল হোমস।
তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ওয়েস্টউডের টাউন ক্লার্ক জানিয়েছেন, মৃত্যুর কারণ এখনো নির্ণয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
কাইল কেনেডি ছিলেন মাইকেল কেনেডির কন্যা। তাঁর বাবা মাইকেল ১৯৯৭ সালে মারা যান। তাঁর মা ভিক্টোরিয়া গিফোর্ড কেনেডি।
১৯৮৪ সালের ৬ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্ম নেওয়া কাইলের শৈশবের বড় অংশ কেটেছে ম্যাসাচুসেটসের কোহাসেটে। সেখানেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।
পেশায় তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক ও শিক্ষা-সংস্কার কর্মী। শোকবার্তায় বলা হয়েছে, তিনি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি নিবেদিত ছিলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা সংস্কারে কাজ করেছেন এবং পরবর্তী জীবনে প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন।
কলেজ শেষ করে তিনি ‘টিচ ফর আমেরিকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে নিউইয়র্ক শহরের সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক, পেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষায় স্নাতকোত্তর এবং হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশন থেকে শিক্ষানীতি ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
খেলাধুলায়ও তিনি ছিলেন উদ্যমী। দূরপাল্লার দৌড়বিদ হিসেবে তিনি ২০১৯ সালে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বোস্টন ম্যারাথনে অংশ নেন এবং তাঁর বাবার চেয়ে ২০ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করেন।
তবে ২০২০ সালে তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। সেই আঘাতের ফলে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পক্ষাঘাত, প্রতিবন্ধিতা ও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বলে শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়েছে, জীবনের শেষ বছরগুলো তাঁর জন্য ছিল সংগ্রামের, তবু তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ রসবোধ ও দৃঢ়তা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং ছেলেদের জন্য সেরা মা হওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এই সময়ে তিনি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য নিয়ে ম্যাসাচুসেটস স্টেট হাউসে এক শুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়াও।
২০১২ সালের আগস্টে বোস্টনে লিয়াম কেরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন সন্তান—কনর, জোসি ও ডেক্লান। শোকবার্তায় কেরকে কাইলের ‘সাবেক স্বামী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন ছেলে কনর (১২) ও ডেক্লানকে (১০), সাবেক স্বামী লিয়ামকে, মা ভিক্টোরিয়াকে, ভাই মাইকেল ও বোন ররিকে এবং ভাইপো-ভাইঝি ম্যাকি, কুইন, জ্যাক ও ক্যালেবকে।
কেনেডি পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত একটি নাম। সেই পরিবারের তরুণ প্রজন্মের একজন সদস্যের এই অকালমৃত্যুতে পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।





