মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪০ কোটি ডলারের বেশি খরচের ঘোষণা ট্রাম্পের, জনপ্রিয়তা রেকর্ড তলানিতে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে তিনি ৪০ কোটি ডলারের বেশি খরচ করার পরিকল্পনা করছেন। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়ছে তার দল।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, এই অঙ্কের বড় অংশ ইতিমধ্যেই প্রচারণায় খরচ হয়ে গেছে।
তার ভাষ্যে, ‘বিজ্ঞাপন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভোটার যোগাযোগ, সমাবেশ, সমাবেশের ভেন্যু, টেলিসমাবেশ, ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার কর্মসূচি, নির্বাচনী সততা এবং আরও অনেক কিছুতে ইতিমধ্যেই ৩০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়েছে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে এটা করা আমার জন্য বিরাট সম্মানের’ এবং নভেম্বরের ভোটকে তিনি ‘আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে এই খরচের বিস্তারিত ভাগাভাগি তিনি জানাননি — কোন আসনে কত টাকা যাবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
এই অর্থ ঢালার প্রতিশ্রুতি এসেছে এমন সময়ে যখন নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের পথ ক্রমশ কঠিন হচ্ছে। অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দীর্ঘায়িত যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া দলটিকে চাপে রেখেছে।
জনমত জরিপেও ছবিটা ভালো নয়। রয়টার্স ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের এ সপ্তাহের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট — তার জনপ্রিয়তা নেমেছে রেকর্ড তলানিতে।
ফলে কোনো কোনো রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেছেন। আবার অন্যরা আরও সমর্থনের দাবি জানাচ্ছেন, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলোতে।
প্রশ্ন উঠছিল, ট্রাম্প ও তার মিত্ররা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের নামে গড়া সুপার প্যাক ম্যাগা ইনকর তহবিলে হাত দেবেন কি না। সুপার প্যাক হিসেবে ম্যাগা ইনক দাতাদের কাছ থেকে অসীম পরিমাণ অর্থ তুলতে পারে, তবে আইনত তার খরচ প্রার্থীদের প্রচারণা থেকে স্বাধীন থাকতে হয়।
গত মাসে প্রচারণা অর্থায়ন পর্যবেক্ষক সংগঠন ক্যাম্পেইন লিগ্যাল সেন্টার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওই নিয়ম ভাঙার অভিযোগ তোলে। সংগঠনটি তার প্রকাশ্য বক্তব্য উদ্ধৃত করে — যার মধ্যে আছে ৪ সেপ্টেম্বর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন, যেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের কাছে অর্থ কবে পৌঁছাবে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, দলকে সাহায্য করতে ‘যত টাকা লাগে’ তিনি খরচ করবেন, এবং যোগ করেছিলেন: ‘এটা ম্যাগা ইনকরের টাকা। এটা আমার টাকা, যা আমি নিয়ন্ত্রণ করি।’
সর্বশেষ ফেডারেল নথি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রবেশের সময় ম্যাগা ইনকরের হাতে ছিল ৪১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার নগদ মজুত — যা একে রিপাবলিকান প্রচারণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থভান্ডারে পরিণত করেছে।
তবে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ওহাইওসহ গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে সুপার প্যাকের বিপুল খরচ সত্ত্বেও রিপাবলিকানদের জরিপ অবস্থান কেন উন্নত হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প নিজেই।
ম্যাগা ইনকরের সঙ্গে যুক্ত নতুন দুটি সংগঠন — নো গোয়িং ব্যাক প্যাক ও সেফটি অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবিলিটি প্যাক — ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বাড়িয়েছে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষক অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, শুধু গত মাসেই নো গোয়িং ব্যাক প্যাক রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে দিয়েছে ৬ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।
ট্রাম্পের আরেক মিত্র, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও গত বছর থেকে আমেরিকা প্যাক ও অন্যান্য রিপাবলিকান ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করেছেন বলে জানা গেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প নিজে প্রচারণার মাঠে নেমেছেন — চলছে তার ৩২ দিনের প্রচার ঝটিকা সফর। আসন্ন গন্তব্যের তালিকায় আছে সাউথ ক্যারোলাইনা ও আইওয়া।
এবারের নির্বাচনে বাজি অনেক বড়: ঝুলে আছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ। বর্তমানে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সামান্য। ট্রাম্পের ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ দুটোই ছিনিয়ে নিতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা। তারা সফল হলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শেষ দুই বছরে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচি থমকে যেতে পারে — সেই আশঙ্কাই এখন এই বিপুল অর্থের লড়াইকে আরও জরুরি করে তুলেছে।






