১৯৩২ সালের পর কানসাস থেকে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটরের স্বপ্ন: ‘মানুষের জন্য প্রাণপণ লড়ব’, বলছেন পাদরি-প্রার্থী হ্যামিল্টন
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্য ১৯৩২ সালের পর থেকে কোনো ডেমোক্র্যাটকে মার্কিন সিনেটে পাঠায়নি। প্রায় এক শতাব্দী পর সেই ইতিহাস বদলানোর লড়াইয়ে নেমেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন — এবং সাম্প্রতিক কিছু জরিপে তাঁকে ঐতিহাসিক জয়ের পথেই দেখা যাচ্ছে।
মাত্র দুই বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউস পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে কানসাসে ১৬ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন। সেই রাজ্যের দুটি সিনেট আসনের একটিতে এবারের লড়াইকে ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ’ (টু ক্লোজ টু কল) বলা হচ্ছে, যা একসময় প্রজাতন্ত্রীদের (রিপাবলিকান) নিরঙ্কুশ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যে অসাধারণ উল্টো ফলাফলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
হ্যামিল্টন পেশায় একজন পাদরি — তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জার জ্যেষ্ঠ পাদরি। এই পরিচিতি ও বক্তৃতার দক্ষতা তাঁর প্রচারণায় বড় সম্পদ। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী, রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর রজার মার্শালের দুর্বলতাও হ্যামিল্টনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে: মার্শাল শত শত রোগীর বিরুদ্ধে অনাদায়ী বিলের মামলা করেছিলেন, যার ফলে তাঁদের কয়েক ডজনকে গ্রেপ্তার পর্যন্ত হতে হয়েছিল।
প্রচারণায় হ্যামিল্টন নিয়মিত রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত কাল্পনিক বাসিন্দা ‘উইজার্ড অব অজ’-এর ডরোথির কথা তোলেন। কানসাসের লিবারেল শহরের অজ জাদুঘর ঘোরার অভিজ্ঞতা টেনে তিনি শ্রোতাদের মনে করিয়ে দেন, ডরোথির সঙ্গীদের কী কী দরকার ছিল — সিংহের দরকার ছিল সাহস, কাকতাড়ুয়ার মস্তিষ্ক আর টিনের মানুষটির হৃদয়।
হ্যামিল্টনের যুক্তি, ওয়াশিংটনের এই তিনটিরই আরও বেশি দরকার, আর তিনি তা দিতে পারবেন। শুক্রবার টোপেকায় ব্যবসায়ী নেতাদের এক সমাবেশে পাদরিসুলভ প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে এমনভাবে কাজ করতে দেখার পর তিনি প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাঁর ভাষায় ‘ভালো, সদয়, সহানুভূতিশীল বা বিনয়ী’ ছিল না। তিনি অপেক্ষা করছিলেন, মার্শাল নিজের রাজ্য ও মানুষের পক্ষে দাঁড়াবেন।
হ্যামিল্টন রসিকতা করে বলেন, ‘আমি গোসলঘরেই রজার মার্শালের সঙ্গে তর্ক করতাম। তিনি অবশ্য গোসলঘরে ছিলেন না। আমি শুধু বলতাম, রজার, অনুগ্রহ করে তোমার মানুষের পক্ষে দাঁড়াও। তোমাকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র হতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তোমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তোমার মানুষের জন্য লড়তে।’
নির্বাচনী কৌশলে হ্যামিল্টন স্বতন্ত্র ও রিপাবলিকান ভোটারদের আকর্ষণ করতে চাইছেন; নিজেকে তিনি ‘স্বাধীনমনা ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্য, কানসাসের জন্য লাভজনক হবে যদি তাঁর মতো একজন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান জেরি মোরান — দুজনেই — সিনেটে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করেন।
ট্রাম্পকে কানসাসে স্বাগত জানানোর একটি ভিডিওতে হ্যামিল্টন আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ক্রমবর্ধমান খরচ ও অনিশ্চয়তায় সংগ্রামরত মানুষের কথা শুনবেন। ভোটারদের প্রতি তাঁর বার্তা ছিল, দলমত নির্বিশেষে সবারই তাঁর প্রচারণায় জায়গা আছে। তিনি বলেন, ‘আমি কানসাসের মানুষের চ্যাম্পিয়ন হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি: রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র — সবার। আমি কোনো দলের কাছে জবাবদিহি করব না, ওয়াশিংটনের কোনো এক ব্যক্তির কাছেও নয়। আমি জবাবদিহি করব আপনাদের কাছে।’
প্রচারণাপথে শোনা সাধারণ মানুষের গল্পও তিনি বারবার তুলে ধরেন — যেমন সেই নারী, যাঁর স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বাড়ির বন্ধকি কিস্তির সমান হয়ে যাওয়ায় তিনি বিমা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন; কিংবা তরুণ কৃষকদের শিল্পের অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলা সেই কৃষক।
টোপেকায় ভোটাররা তাঁর বার্তায় সাড়া দিচ্ছেন বলে দেখা গেছে। শুক্রবারের ফোরামে আসা অনেকেই ওই দিনই আগে মার্শালের একই ধরনের ফোরামে গিয়েছিলেন। ওয়াশবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ব্রেনেন রস বলেন, আবাসনের খরচ, তাঁর বয়সীদের চাকরির বাজার ও গ্রামীণ কানসাসে পানির প্রাপ্যতা তাঁর চিন্তার বিষয়; তবে সবার আগে তিনি উল্লেখ করেন ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণে ‘তাপ কমানোর’ হ্যামিল্টনের চেষ্টা — যা তাঁর মতে অনেক তরুণ কানসাসবাসীর সঙ্গে মিলে যায়।
ফোর্জ ইয়ং ট্যালেন্ট নামের তরুণ পেশাজীবীদের সংগঠনের ৩০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট জাসিন্টা বার্গকাম্প দুই প্রার্থীকেই আবাসনের সাশ্রয়যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। ‘সাধারণত কানসাসে ডেমোক্র্যাট হওয়াটা একাকী লাগে,’ বলেন তিনি। ‘আমরা সবসময় কানসাসকে বেগুনি (পার্পল) মনে করি। কানসাস লালও নয়, নীলও নয়... খুব স্পষ্ট, বাইরের মানুষ যা ভাবে, কানসাস তার চেয়ে বেশি উদার।’
বুটিক মালিক লিন্ডা মারফি মাইনা বলেন, তিনি দেখেন কোন প্রার্থী মানুষের জন্য ভালো হবেন; কিছু প্রশ্নে সরাসরি উত্তর চাইলেও হ্যামিল্টনের একসঙ্গে কাজ করা ও মানুষকে সাহায্য করার মনোভাব তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। পরামর্শদাতা সুসানা ওরতিজের মতে, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ে হতাশা বাড়ায় মানুষ দলীয় সীমা পেরিয়ে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আরও খোলামেলা হচ্ছে।
হ্যামিল্টনের অভিযোগ, মার্শাল মানুষের কথা শোনার কাজটি ভালোভাবে করেননি। প্রায় ৬০০ দিন আগে মার্শাল শেষ খোলা টাউন হল করেছিলেন, যেখানে তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে তিনি সভা ছেড়ে চলে যান; মার্শালের দাবি, টাউন হলগুলো ‘অফলপ্রসূ ও বিপজ্জনক’ হয়ে উঠেছিল। নিজের শক্তি বর্ণনা করতে গিয়ে হ্যামিল্টন ব্যবসায়ী নেতাদের বলেন, তাঁর গান গাওয়ার, গলফ খেলার বা ফুটবলের কোনো ক্ষমতা নেই; তাঁর ‘সুপারপাওয়ার’ হলো তিনি শোনেন, সত্যিই যত্ন করেন এবং মানুষের জন্য লড়ার প্রবণতা তাঁর মধ্যে আছে। শেষ কথায় তিনি বলেন, ‘কানসাসের মানুষের জন্য আমি শুধু প্রাণপণ লড়ে যাব।’






