জালিয়াতির তথ্য দিলেই পুরস্কার: ট্রাম্প বললেন, তিনিই হবেন নতুন কর্মসূচির 'সালিশকারী'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিচার বিভাগের নতুন জালিয়াতি-বিরোধী হুইসেলব্লোয়ার কর্মসূচিতে তিনিই 'সালিশকারী' হিসেবে সিদ্ধান্ত নেবেন কে পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। মঙ্গলবার এই কর্মসূচি ঘোষণার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে জালিয়াতির তথ্য দিয়ে দোষী সাব্যস্ত বা উল্লেখযোগ্য ফেডারেল ব্যবস্থা নেওয়া গেলে তথ্যদাতারা আর্থিক পুরস্কার পাবেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, একই জালিয়াতির তথ্য একাধিক ব্যক্তি দিলে কে পুরস্কার পাবেন, তা নিয়ে বিরোধ হতে পারে। 'আমি এইমাত্র ভাবছিলাম, যখন আপনি এসব করেন, মাঝে মাঝে কে তথ্য দিল আর কে দিল না, কে কখন কী পাওয়ার কথা — এ নিয়ে বিরোধ হয়,' বলেন ট্রাম্প।
'তাই আমি এমন কিছু করতে যাচ্ছি, যা মানুষ পছন্দ করবে বলে আমি মনে করি — আমি এই সব সিদ্ধান্তের সালিশকারী হব। অর্থাৎ, ওই ব্যক্তি যোগ্য কি না, তা আমি নির্ধারণ করব, এবং আমি খুব উদার হব, বিশ্বাস করুন,' বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার এই কথায় উপস্থিত দলের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।
তবে ট্রাম্প সত্যিই এই ভূমিকা নেবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পুরস্কার দেওয়া ও কর্তৃত্ব প্রয়োগে বিভাগের 'একক বিবেচনা' রয়েছে।
নতুন জালিয়াতি হুইসেলব্লোয়ার প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তথ্যদাতা 'ফৌজদারি মামলার অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে' সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার পেতে পারেন। সরকার ইতিমধ্যে ফলস ক্লেইমস অ্যাক্টের মাধ্যমে আর্থিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে মামলা করা হুইসেলব্লোয়ারদের আর্থিক পুরস্কার দেয়। সরকার হস্তক্ষেপ করে মামলা চালালে হুইসেলব্লোয়াররা আর্থিক জরিমানার ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পেতে পারেন।
ভ্যান্স বলেন, নতুন কর্মসূচি ফলস ক্লেইমস অ্যাক্ট থেকে আলাদা, কারণ এটি সরকার-সম্পর্কিত জালিয়াতির ক্ষেত্রে আর্থিক পুরস্কারের সুযোগ বাড়ায়। 'ফেডারেল সরকারে আমরা যে জালিয়াতি খুঁজে পাচ্ছি, তার ৯৯ শতাংশের বেশি ফলস ক্লেইমস অ্যাক্টের আওতায় পড়ে না,' বলেন ভ্যান্স।
নতুন কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের জরিমানা বা বাজেয়াপ্তির ফলাফলের অপেক্ষা না করে তদন্তের আগের পর্যায়েই হুইসেলব্লোয়ার পুরস্কার দেওয়া হয়। ভ্যান্স বলেন, তিনি ও ট্রাম্প এই কর্মসূচি তৈরির সিদ্ধান্ত নেন, যাতে নিক শার্লির মতো আরও মানুষ জালিয়াতির তথ্য দিতে উৎসাহিত হন — রক্ষণশীল এই ইনফ্লুয়েন্সার এ বছরের শুরুতে মিনেসোটায় সোমালি-পরিচালিত শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ভাইরাল হয়েছিলেন।
ওভাল অফিসে ঘোষণার সময় ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, উদঘাটিত জালিয়াতির অর্থের এক শতাংশ হুইসেলব্লোয়াররা পাবেন এবং তথ্য দিয়ে 'লাখ লাখ' ডলার আয় করা যাবে। তবে বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কর্মসূচিটি ৩০ হাজার ডলার পুরস্কারে সীমাবদ্ধ।
'আপনি অবিলম্বে আপনার টাকা পাবেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত আমি নেব,' যোগ করেন ট্রাম্প। 'তাই দুজন যদি এ নিয়ে লড়ে, হয়তো তারা ভাগ করে নেবে বা যাই হোক, কিন্তু সিদ্ধান্ত আমিই নেব। এটি দ্রুত ও ন্যায্যভাবে করা হবে।'
ট্রাম্প সাংবাদিকদেরও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন — জালিয়াতির ঘটনা তদন্ত করে তথ্য দিলে তারাও আর্থিক পুরস্কার পেতে পারেন, যদি তাদের সংবাদমাধ্যম অনুমতি দেয়। 'আমরা সাংবাদিকদের অংশ নিতে দেব, কারণ আপনারা অনেক কিছু জানেন যা ঘটছে,' বলেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের জালিয়াতি নির্মূল টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। কর্মসূচির বিস্তারিত নিয়ম বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।





