ইইউকে ছোট করার পরিকল্পনা ওয়াইডেলের: সরাসরি নির্বাচিত সংসদ বিলুপ্তি আর কমিশনকে ‘সচিবালয়’ বানানোর প্রস্তাব এএফডির
জার্মানির কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্ষমতা, প্রতিষ্ঠান ও বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছে। দলটির নেতা অ্যালিস ওয়াইডেল বুধবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘আমাদের নতুন চুক্তি ইউরোপের জন্য’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এই কৌশল উপস্থাপন করবেন।
দলটির নীতিমালা অনুযায়ী, এএফডি সরাসরি নির্বাচিত ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করতে চায়। এর বদলে জাতীয় সংসদগুলোর নিয়োগ দেওয়া প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি কাঠামো গড়ার প্রস্তাব রয়েছে তাদের পরিকল্পনায়। একই সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের ভূমিকা শুধু প্রশাসনিক কাজে সীমিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জাতীয় রাজধানীগুলোর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরিকল্পনায় ইইউর শীর্ষ আদালতের বদলে একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি জোটের বাজেট ব্যাপকভাবে কমিয়ে একটি সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া, কর্মীসংখ্যা স্থগিত রাখা এবং বিভিন্ন সংস্থা বিলুপ্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
আর্থিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে এএফডি ভ্যাট ও প্লাস্টিক কর থেকে আসা রাজস্ব বাতিলে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের কথা বলেছে। তাদের পরিকল্পনায় হুমকি দেওয়া হয়েছে, ব্রাসেলস সংস্কারের পথে না এলে ভবিষ্যতের ইইউ অর্থায়ন আইন আটকে দেওয়া হবে এবং জার্মানির যৌথ বাজেটে অবদান ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে।
তবে শুরুতেই ইইউ বা ইউরোজোন ছাড়ার পথে হাঁটতে চায় না দলটি। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য জোটের সন্ধিগুলো নতুন করে আলোচনায় বসা এবং জোটের ক্ষমতা খর্ব করা। সংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত জার্মানির ইইউ সদস্যপদ নিয়ে গণভোটের দাবিও তোলা হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে।
ইউরোজোনের অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেশি ভোটাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এএফডি, যাতে অর্থনীতির নীতিনির্ধারণে জার্মানির কণ্ঠ আরও শক্তিশালী হয়। ডিজিটাল ইউরো চালুর ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি।
অভিবাসন, কর, সামাজিক নীতি, প্রতিরক্ষা ও যৌথ ঋণের মতো ক্ষেত্রে ইইউর নিয়ম থেকে বার্লিনের জন্য ছাড় চাওয়ার কথাও বলেছে দলটি। জোটের সবুজ নীতিমালা বাতিল না হলে এবং শিল্প, কৃষি ও আর্থিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে এসব ক্ষেত্রেও ছাড় চাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এএফডির এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এল, যখন পুরো ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থী দলগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট ও মেকলেনবুর্গ-পশ্চিম পোমেরানিয়া রাজ্য নির্বাচনে দলটির সাম্প্রতিক জয় তাদের নতুন গতি দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
গত সপ্তাহে ফ্রান্সের ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনও ব্রাসেলসে নিজের ইইউ পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হলে ফ্রান্সের বাজেট অবদান অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার এবং ইউরোপীয় কমিশনকে সদস্য দেশগুলোর সেবায় নিয়োজিত একটি ‘সচিবালয়ে’ পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, কমিশন নিজেকে একটি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, আর তারা সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন।
এএফডির পরিকল্পনায় সংস্কার বাস্তবায়ন শুরুর সময় হিসেবে ২০২৯ সালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই বছর পরবর্তী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও জার্মানির ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলটির নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৯ সালে এমন কিছু বাস্তবে রূপ নিতে পারে যা তারা খুব কমই আশা করতে সাহস পেয়েছিল — ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি দেশপ্রেমিক ডানপন্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন নাগালের মধ্যে।
বুধবার বিকেলে ওয়াইডেলের উপস্থাপনার পর এই পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপের মূলধারার দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।





