সম্মুখসমর থেকে আহত সেনাকে প্রথমবার ড্রোনে উড়িয়ে সরিয়ে নিল ইউক্রেন
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো আকাশপথে ড্রোন ব্যবহার করে সম্মুখসমর থেকে একজন আহত সেনাকে সরিয়ে নিয়েছে। ইউক্রেনের ৯২তম অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ড্রোন ইউনিট এই অভিযানের কথা জানিয়েছে এবং এর ফুটেজও প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী।
ব্রিগেড জানিয়েছে, আহত সেনাটি এমন একটি অবস্থানে আটকা পড়েছিলেন যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। এলাকাজুড়ে মাইন পোঁতা ছিল এবং রুশ ড্রোনের তৎপরতার কারণে সেখানে উদ্ধারকারী দল পাঠানো ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সেনারা পুরো অভিযানটি পর্যবেক্ষণ করছেন। আহত সেনাটি নিজেকে ড্রোনের সঙ্গে সংযুক্ত করেন, এরপর ড্রোনটি তাঁকে বিপদ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, ড্রোনটি আহত সেনাকে বহন করে একটি অবতরণস্থলে পৌঁছে দেয়, যেখানে তাঁকে নিরাপদে মাটিতে নামানো হয়। অভিযান সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকা সেনারা করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া তাঁর জীবন বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। কিন্তু মাইন ও শত্রুপক্ষের ড্রোন নজরদারির কারণে অনেক এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স বা উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতেই ড্রোনের নতুন ব্যবহার সামনে এল। স্থলপথে যেখানে যাওয়া যায় না, সেখানে আকাশপথে একজন মানুষকে তুলে নিয়ে আসার এই পদ্ধতি যুদ্ধক্ষেত্রের চিকিৎসা-সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে এই অভিযান কোথায় এবং কখন পরিচালিত হয়েছে, তা ব্রিগেড প্রকাশ করেনি। অভিযানের স্থান ও সময় গোপন রাখার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, সেনাবাহিনী এই সক্ষমতার বিস্তারিত তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে ফাঁস করতে চায় না।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার শুরু থেকেই ব্যাপক। নজরদারি ও হামলার পাশাপাশি সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার কাজেও ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে। আহত সেনা সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা সেই তালিকায় নতুন ও ব্যতিক্রমী সংযোজন।
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে বহন করতে সক্ষম ড্রোনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও কম নয়। ওজন বহনের ক্ষমতা, ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণের নির্ভুলতা—সবকিছু ঠিকঠাক মিললেই এমন অভিযান সম্ভব হয়।
ফুটেজে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সেনাদের উচ্ছ্বাস থেকেও বোঝা যায়, এই সাফল্য তাঁদের কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সহযোদ্ধাকে জীবিত ফিরিয়ে আনার এই মুহূর্তটি যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও মানবিক দিকটি সামনে আনে।
ব্রিগেডের দাবি অনুযায়ী এটি তাদের প্রথম আকাশপথে ড্রোন-উদ্ধার অভিযান। এই সাফল্যের পর ভবিষ্যতে একই পদ্ধতিতে আরও উদ্ধার অভিযান চালানো হয় কি না, সেদিকে নজর থাকবে।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে দুই পক্ষের। আহত সেনা উদ্ধারে ড্রোনের এই প্রথম ব্যবহার সেই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতারই আরেকটি নজির হয়ে রইল।





