মিশিগান সিনেট দৌড়ে কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের দিকে নজর রিপাবলিকান রজার্সের, আসছেন ওবামা
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান সিনেট নির্বাচনের শেষ দুই সপ্তাহে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স যুক্তি দিচ্ছেন, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদ ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে থাকা দুটি ভোটারগোষ্ঠী—কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদি ভোটারদের—মধ্যে দুর্বল অবস্থানে রয়েছেন। সোমবার রাতে ফক্স নিউজের এক টাউন হলে রিপাবলিকানরা মিশিগানবাসীর কাছে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন।
দেশের সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সিনেট দৌড়গুলোর একটি এটি। অনুষ্ঠানে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটি রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী প্রতিনিধি জন জেমস এবং হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স চেয়ার লিসা ম্যাকক্লেইনের সঙ্গেও কথা বলেন। ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে প্রার্থীরা মিশিগানের ডেমোক্র্যাটদের সরকারি ব্যয়, সমাজতন্ত্র ও দলটির প্রগতিশীল ধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রজার্স যুক্তি দেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এল-সাইদ ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ করতে পারেন, যা রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে।
হ্যানিটি রজার্সকে এল-সাইদের অতীতের ওবামা-সমালোচনা নিয়ে প্রশ্ন করেন। ২০১২ সালের পুনর্নির্বাচনের পর এল-সাইদ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে প্রগতিশীল এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘সঠিক পছন্দ নয়’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
জবাবে রজার্স বলেন, ‘ডেট্রয়েটে তিনি অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ করছেন। আমরা ডজনখানেক কৃষ্ণাঙ্গ যাজকের সঙ্গে কথা বলেছি, ডেট্রয়েট শহরের পাড়ার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা পরিবর্তন চাইছেন।’ তাঁর দাবি, এই দুটি গোষ্ঠীর ভোটারদের মধ্যে তাঁর শিবিরে সাড়া মিলছে।
তবে ওবামা নিজে আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে এল-সাইদের সঙ্গে প্রচারে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছেন, যা রজার্সের যুক্তির বিপরীতে ডেমোক্র্যাট শিবিরের বড় অস্ত্র।
ইহুদি ভোটারদের প্রসঙ্গে রজার্স যুক্তি দেন, ইসরায়েল নিয়ে এল-সাইদের সমালোচনার কারণে এই সম্প্রদায় রিপাবলিকানদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি এক বিতর্কে ইরান নাকি ইসরায়েল—কোনটি বড় হুমকি, এমন প্রশ্নে এল-সাইদ সরাসরি উত্তর দিতে অস্বীকার করেন।
ওই বিতর্কে এল-সাইদ বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় দুটোই নিজ নিজভাবে বিপজ্জনক বলে প্রমাণিত হয়েছে। একটি আমাদের ওপর হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যটি আমাদের এমন যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলছে, যেগুলোতে লড়ার কোনো কারণ আমাদের নেই।’ রজার্স এই মন্তব্যকেই নিজের যুক্তির কেন্দ্রে রেখেছেন।
রজার্সের হিসাব অনুযায়ী, মিশিগানে প্রায় ৭০ হাজার ইহুদি ডেমোক্র্যাট ভোটার রয়েছেন। এল-সাইদের মন্তব্যে বিচ্ছিন্ন বোধ করে তাঁদের মাত্র অর্ধেকও যদি তাঁর প্রচারকে সমর্থন করেন, তা তাঁর জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে। তিনি বলেন, আগের রাতের একটি অনুষ্ঠানে এক হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তাঁর ভাষ্যে, ওই ভোটাররা উত্তেজিত ও সন্তানদের জন্য উদ্বিগ্ন এবং তাঁরা ভোট দেবেন বলেই তাঁর শিবির মনে করছে। প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের হিসাব তুলে ধরে রজার্স বোঝাতে চেয়েছেন, ঘনিষ্ঠ লড়াইয়ে এই সংখ্যাই ফলাফল বদলে দিতে পারে।
অন্যদিকে এল-সাইদ শিবিরের সামনে ওবামার সফর একটি বড় সুযোগ—সাবেক প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ঐতিহ্যবাহী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের সংহত করাই তাঁদের লক্ষ্য। ফলে শেষ দুই সপ্তাহে দুই শিবিরের লড়াই গিয়ে ঠেকছে একই ভোটারগোষ্ঠীর দখল নিয়ে।
৩ নভেম্বরের ভোটের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে, রজার্সের এই হিসাব বাস্তবে কতটা মিলল, নাকি ওবামার প্রচারের জোয়ারে ডেমোক্র্যাট ভিত্তিই অটুট রইল।






