এক বছরের শিশু নিহতের গুলির ঘটনায় পুলিশের বলপ্রয়োগ ‘ন্যায়সংগত’: মিসিসিপির অ্যাটর্নি জেনারেল
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে দোকান থেকে চুরির অভিযোগের তদন্তে পুলিশের গুলিতে এক বছর বয়সী এক শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের বলপ্রয়োগ ‘ন্যায়সংগত’ ছিল বলে রায় দিয়েছেন রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল। এই সিদ্ধান্তের পর নিহত শিশুর পরিবারের আইনজীবী তীব্র আপত্তি জানিয়ে ঘটনার ফুটেজ প্রকাশের দাবি তুলেছেন।
নিহত শিশুটির নাম কোহেন উইলি। গত জুনে সেনাটোবিয়া শহরে একটি গাড়ির যাত্রী আসনে মায়ের কোলে বসা অবস্থায় সে গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশের ভাষ্য, গাড়িটি কর্মকর্তাদের দিকে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
মিসিসিপি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ জুন একটি ওয়ালমার্ট দোকান থেকে ন্যাপি ও শিশুদের পোশাক চুরির অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়। কর্মকর্তারা পৌঁছে দেখেন, দুই নারী ও একটি শিশু একটি গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।
কর্মকর্তারা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী গাড়িটি এক কর্মকর্তার দিকে চালিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁকে প্রায় ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল। তখন এক কর্মকর্তা গুলি চালান। এতে শিশুটি প্রাণঘাতীভাবে আহত হয় এবং গাড়ির চালক লাটোয়া ফেরেল গুরুতর আহত হন।
তবে কোহেনের মা ভেলেসিয়া উইলি চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, গুলি চলার আগে তিনি ছেলেকে কোল থেকে তুলে ধরে কর্মকর্তাদের দেখিয়েছিলেন যে শিশুটি সেখানে আছে। তাঁর কিংবা গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।
সোমবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মিসিসিপির অ্যাটর্নি জেনারেল লিন ফিচ লিখেছেন, ‘এই ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দেখেছে, বলপ্রয়োগ ন্যায়সংগত ছিল।’ এর মধ্য দিয়ে ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।
পুলিশ এখনো ঘটনার কোনো ফুটেজ প্রকাশ করেনি—কর্মকর্তাদের শরীরে লাগানো ক্যামেরার ভিডিও কিংবা পার্কিং লটের সিসিটিভি ধারণচিত্র, কোনোটিই নয়। ফুটেজ না দেখেই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের আইনজীবী।
উইলি পরিবারের আইনজীবী বেঞ্জামিন ক্রাম্প ফিচের সিদ্ধান্তের আপত্তি জানিয়ে বলেছেন, ‘কোহেনের পরিবার ও জনগণকে এখনো বডি-ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে না দেওয়া হলে কেউ কীভাবে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘ফুটেজ যদি রাজ্যের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, তাহলে তা প্রকাশ করুন। এই পরিবার সত্য না পাওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই থামাব না।’
অন্যদিকে গুলি চালানো কর্মকর্তার আইনজীবী মার্টিন জুমাখ বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, চালক তাঁর মক্কেলকে ‘হত্যার চেষ্টা’ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘অস্ত্র চালানো ছাড়া তাঁর কোনো উপায় ছিল না।’
ঘটনাটি ঘটেছিল জুনটিন্থের ছুটির দিনে, যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথার অবসান স্মরণে পালিত দিনে। এরপর সেনাটোবিয়ায় বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তদন্তে বর্ণের ভূমিকা রয়েছে। কোহেন ও দুই নারী কৃষ্ণাঙ্গ, আর গুলি চালানো কর্মকর্তা শ্বেতাঙ্গ বলে জানা গেছে।
গত মাসে শহরটি তার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ প্রধানকে বরখাস্ত করে, যখন সংবাদপত্রে তাঁর বারবার বর্ণবিদ্বেষী গালি ব্যবহারের টেক্সট মেসেজ ফাঁস হয়। এই পটভূমি ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের পর এখন পরিবারের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং দাবি অনুযায়ী ফুটেজ প্রকাশ করা হয় কি না, সেটাই এই ঘটনার পরবর্তী মোড় নির্ধারণ করবে।






