ট্রাম্প প্রশাসনের ১৮ তদন্তের নিষ্পত্তি করল নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়: অর্থ জরিমানা ছাড়াই সমঝোতা, চলবে ২০২৮ পর্যন্ত
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিল। এই সমঝোতার ফলে ক্যাম্পাসে কথিত ইহুদিবিদ্বেষ ও বর্ণভিত্তিক ভর্তি নিয়ে ১৮টি সক্রিয় ফেডারেল তদন্ত এবং বিচার বিভাগের একটি পৃথক কমপ্লায়েন্স পর্যালোচনা বন্ধ হয়ে যাবে।
স্বেচ্ছামূলক এই সমঝোতা চুক্তিতে কোনো আর্থিক অর্থপ্রদানের প্রয়োজন নেই এবং বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অন্যায় বা দায় স্বীকার করেনি। ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই চুক্তি ইউএনসিকে ফেডারেল তহবিলের জন্য তার যোগ্যতা বজায় রাখতে দেবে।
চুক্তির আওতায় ইউএনসি একজন অভ্যন্তরীণ ‘মেরিট অ্যান্ড সিভিল রাইটস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ নিয়োগ দেবে এবং ইহুদিবিদ্বেষ ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ মোকাবিলায় তার কমপ্লায়েন্স অফিসে একটি ‘টাইটেল VI কোঅর্ডিনেটর’ পদ প্রতিষ্ঠা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লায়েন্সের সহযোগী উপাচার্য এলিজাবেথ হলকে তার বিদ্যমান দায়িত্বের পাশাপাশি উভয় ভূমিকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের যোগাযোগের কেন্দ্র হবেন এবং ইউএনসির রিপোর্টিং বাধ্যবাধকতা তদারকি করবেন।
এক বিবৃতিতে ইউএনসি চ্যান্সেলর লি এইচ. রবার্টস বলেন, ‘এই ঘোষণা ক্যারোলাইনায় সবার প্রতি ন্যায্য ও সমান আচরণের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করে। অন্তত এক দশক ধরে, বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট প্রশাসনের সময়ে, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা বিষয়ে বর্ধিত জননজরদারির মুখোমুখি হয়েছে। আমরা গর্বিত যে ক্যারোলাইনায় এসব বিষয়ের এমনভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, যা আমাদের মিশনকে রক্ষা করে এবং আমাদের সম্প্রদায়ের সবার নাগরিক অধিকারকে নিশ্চিত করে।’
চুক্তিতে ইউএনসিকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইহুদিবিদ্বেষবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতেও হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইউএনসি নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন করতে ব্যবহৃত মুখের মাস্ক নিষিদ্ধ করবে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, ছাত্র গোষ্ঠীগুলো ‘ইহুদিবিদ্বেষী বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার আওতায় থাকবে’।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ করেছেন। কিন্তু কিছু ইহুদি গোষ্ঠীসহ বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা ইহুদিবিদ্বেষ নয় এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি সমর্থন চরমপন্থার প্রতি সমর্থন নির্দেশ করে না।
সমঝোতা চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ইউএনসি বিচার বিভাগের ভাষায় একটি ‘বর্ণ-অন্ধ ভর্তি ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে বর্ণ ব্যবহার করা বা ছাত্র সংগঠনের বর্ণগত গঠন পরিবর্তনের জন্য ভর্তি প্রক্রিয়া বদলানো থেকে বিরত রাখবে। তবে এটি ইউএনসিকে আবেদনকারীরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কীভাবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেছে, তা বিবেচনা করা থেকে বিরত রাখে না এবং দারিদ্র্যের মতো পারিবারিক পটভূমির দিকগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করা হলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
চুক্তি অনুযায়ী ইউএনসিকে ছাত্র সুবিধা, বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা ও কর্মসূচি পরিচালনায় বর্ণ-অন্ধ নীতি বজায় রাখতে হবে। প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, নির্দিষ্ট বর্ণগোষ্ঠীকে অন্যদের তুলনায় সুবিধা দেওয়া নীতি ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী আইন লঙ্ঘন করে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইউএনসি তার কাছে আসা ইহুদিবিদ্বেষ ও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগগুলো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বিচার বিভাগ ও শিক্ষা বিভাগের কাছে পাঠাবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে শিক্ষা বিভাগের নাগরিক অধিকার অফিস ইউএনসির বিরুদ্ধে ১৮টি সক্রিয় তদন্ত বন্ধ করবে, আর বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগ ২০২৫ সালের এপ্রিলে শুরু করা একটি পৃথক ১৮ মাসের কমপ্লায়েন্স পর্যালোচনা বন্ধ করবে।
নাগরিক অধিকারবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধিলন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘টাইটেল VI অনুযায়ী, ফেডারেল তহবিল পাওয়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থী — তাদের বংশপরিচয় বা বর্ণ নির্বিশেষে — আইনের অধীনে সমান আচরণ পাবে।’ তিনি আরও বলেন, ইহুদিবিদ্বেষ সহ্য করা বা নির্দিষ্ট বর্ণগোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া উচ্চশিক্ষা নীতি বর্ণ-অন্ধ বিচার ব্যবস্থাকে হতাশ করে এবং মামলা ছাড়াই সহযোগিতার জন্য বিভাগ ইউএনসির প্রশংসা করে।
২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট কলেজে ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে ইউএনসি ও হার্ভার্ডে বর্ণভিত্তিক ভর্তি কর্মসূচি বাতিল করে দেয়।
ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ, বৈচিত্র্য উদ্যোগ ও ট্রান্সজেন্ডার নীতির প্রতিক্রিয়ায় প্রশাসন সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তদন্ত ও ফেডারেল তহবিল প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ফেডারেল সরকার আরও কিছু স্কুলের সঙ্গেও সমঝোতা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, যা গত বছর ফেডারেল তদন্ত নিষ্পত্তিতে ২০ কোটি ডলারের বেশি দিতে সম্মত হয়, এবং ব্রাউন ইউনিভার্সিটি, যা ১০ বছরে রোড আইল্যান্ডের কর্মশক্তি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে ৫ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়। হার্ভার্ড এখনও কোনো চুক্তি করেনি।




