‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ তাইপের, ১৬টি চীনা জাহাজকে হটিয়ে দিল তাইওয়ানের কোস্টগার্ড
তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডের চারপাশে ‘সামুদ্রিক হয়রানি’ চালানোর অভিযোগে ১৬টি চীনা কোস্টগার্ড, গবেষণা ও মাছ ধরার জাহাজকে প্রতিহত ও হটিয়ে দিয়েছে তাইওয়ানের কোস্টগার্ড। বেইজিংয়ের এই তৎপরতাকে একধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বলে সমালোচনা করেছে তাইপে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতি অনুযায়ী, তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বিতর্কিত প্রাচাস দ্বীপের আশেপাশে সমন্বিত অভিযানে ‘অস্বাভাবিকভাবে বড়’ সংখ্যক চীনা জাহাজ অংশ নেয়; এর মধ্যে চারটি মাছ ধরার নৌকাও একযোগে যুক্ত ছিল।
তাইপে বিষয়টিকে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বলছে, কারণ চীন এক্ষেত্রে সরাসরি প্রথাগত সামরিক শক্তি বা যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার না করে বেসামরিক ও আধা-সামরিক জাহাজের মিশ্রণে একযোগে বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তাদের অভিযোগ।
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের জাহাজগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তাইওয়ান প্রণালির ‘স্থিতাবস্থা একতরফাভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা’ এবং ‘একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের মিথ্যা ধারণা দেওয়ার’ অভিযোগও এনেছে তারা। চীনের কয়েকটি জাহাজ তাইওয়ানের নিষিদ্ধ জলসীমায়ও প্রবেশ করেছিল বলে কোস্টগার্ড জানিয়েছে।
পটভূমিতে রয়েছে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিতর্ক। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে বেইজিং। তাইপে প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করলেও আশপাশের জলসীমায় নিজেদের এখতিয়ারের দাবি জানায় চীন। দ্বীপটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়ে আসছে শি জিনপিংয়ের সরকার।
এর আগের একটি ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। গত ১ অক্টোবর তাইওয়ান ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী প্রাচাস দ্বীপের কাছে চীনের দাবিকৃত একটি বিনোদনমূলক মাছ ধরার নৌকায় জলকামান নিক্ষেপ করেছিল তাইওয়ানের কোস্টগার্ড।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাইওয়ানের ওপর সামুদ্রিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়েছে চীন — এমনটাই বলছে তাইওয়ানের সরকারি তথ্য। চলতি বছরের জুলাই মাসে তাইওয়ানের প্রধান দ্বীপের চারপাশে রেকর্ড ২৪৪টি কোস্টগার্ড, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অন্যান্য জাহাজ মোতায়েন করেছিল বেইজিং, যেখানে গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৮টি।
চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২১ দিনেই ১৫২টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই চীনা কোস্টগার্ডের হলেও তাতে মাছ ধরার নৌকা ও গবেষণা জাহাজও যুক্ত ছিল। পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের চারপাশে চীনা যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়, তবে সেগুলোকে কোস্টগার্ডের এই হিসাবের বাইরে আলাদাভাবে গণনা করা হয়।
সংখ্যার এই ঊর্ধ্বগতিই তাইপের উদ্বেগের মূল কারণ। বেসামরিক ও আধা-সামরিক জাহাজের ধারাবাহিক উপস্থিতি একদিকে সমুদ্রে স্বাভাবিক চলাচলের ওপর চাপ তৈরি করে, অন্যদিকে তা ধীরে ধীরে জলসীমার বাস্তবতা বদলে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এবারের ঘটনায় ১৬টি জাহাজ হটিয়ে দেওয়ার পরও উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত নেই। তাইওয়ান প্রণালি ঘিরে বেইজিং ও তাইপের এই সামুদ্রিক টানাপোড়েন আগামী দিনগুলোতেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।





