দল থেকে বাদ আর নেতৃত্ব হারানোর পর সালমান আগার সেঞ্চুরি, শ্রীলঙ্কাকে হারাল পাকিস্তান
দল থেকে বাদ পড়া আর নেতৃত্ব হারানোর হতাশা ঝেড়ে ফেলে ব্যাট হাতে জবাব দিলেন সালমান আগা। তাঁর সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩৭ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান।
পাভান রত্নায়েকে ও জানিথ লিয়ানাগের পাল্টা আক্রমণ একসময় পাকিস্তানকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এই জুটি ভাঙতেই স্বস্তি ফেরে স্বাগতিকদের মনে, আর শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন সালমান আগা। হারিয়েছেন টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বও। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নেমে নিজেকে উজাড় করে দিলেন তিনি, আর হলেন ম্যাচসেরা।
ব্যাট করতে নেমে ষষ্ঠ ওভারের মধ্যে ৩২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। সেই অবস্থা থেকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন সালমান। পাকিস্তান দলে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
২২তম ওভার শেষে পাকিস্তানের চার উইকেট পড়ে গেলে এবং লম্বা টেলএন্ডারদের কারণে দলের সম্ভাবনা নিয়ে আশা নিভতে শুরু করেছিল। কিন্তু হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসের সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়ে দলকে উদ্ধার করেন সালমান। ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
৪৭তম ওভারে সালমান আউট হন। এরপর শাহীন শাহ আফ্রিদির ১৩ রানের সুবাদে ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে ৩০৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ইশান মালিঙ্গা চার উইকেট নেন, তিনটি পান আসিথা ফার্নান্ডো।
৩০৬ রানের লক্ষ্যে নেমে শ্রীলঙ্কা ৯১ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। সেই সময়ে কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪ রান করে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। তারপর গড়ে ওঠে জানিথ ও পাভানের প্রতিরোধের জুটি।
পঞ্চম উইকেটে এই জুটি তোলে ১১৯ রান, যা শ্রীলঙ্কাকে জয়ের পথে রেখেছিল। শেষ সাত ওভারে সফরকারীদের প্রয়োজন ছিল ৫৫ রান—ম্যাচ তখন পুরোপুরি তাদের নাগালে।
কিন্তু পাভান ইনিংসসেরা ৭৯ রানে আউট হওয়ার পরও দাসুন শানাকাকে নিয়ে লড়াই টিকিয়ে রাখেন জানিথ। ৪৪তম ওভারে তিনি ৬০ রানে বিদায় নিতেই ভেঙে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং। শেষ দিকে মাত্র ১৫ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।
৪ উইকেটে ২৫৩ রান করা শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ২৬৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। পাকিস্তানের পক্ষে শাহীন শাহ আফ্রিদি সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে উইকেট পান নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও ফাহিম আশরাফ।
শ্রীলঙ্কার লড়াই সামলে পাকিস্তানকে জেতাতে পেসাররা বড় ভূমিকা রেখেছেন। তবে দলীয় সংগ্রহে শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ায় সালমান আগার অবদানই ছিল সবচেয়ে বড়, আর সেই কারণেই সিরিজের শুরুটা জয় দিয়েই হলো পাকিস্তানের।




