তিন দিনে ৩২১ কোটি রুপি আয় ‘জেলার টু’-এর, রজনীকান্ত নিলেন ১১০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক
তিন বছর অপেক্ষার পর পর্দায় ফিরেছে তামিল সুপারস্টার রজনীকান্তের আলোচিত ছবি ‘জেলার টু’, আর মুক্তির মাত্র তিন দিনেই বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে ৩২১ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্ক ৪১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। গত ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর থেকেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো।
নেলসন দিলীপ কুমার নির্মিত এই ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘মতুভেল পান্ডিয়া’র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ৭৫ বছর বয়সি রজনীকান্ত। তার ছবি মানেই ভক্তদের মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা, আর সিক্যুয়েলটি সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবিটির সবচেয়ে আলোচিত দিক এখন অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতাদের পারিশ্রমিক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য রজনীকান্ত নিয়েছেন ১১০ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪২ কোটি টাকার বেশি।
শুধু তাই নয়, ছবিটির মুনাফা ভাগাভাগির চুক্তিও থাকতে পারে এই তারকার সঙ্গে। বক্স অফিসে ছবিটি অসাধারণ সাফল্য পেলে তার মোট আয় ১৮০ কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩৩ কোটি টাকার বেশি। ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান মুখ হিসেবে তার ভূমিকা আর সিক্যুয়েল ঘিরে প্রত্যাশারই প্রতিফলন এই বিপুল পারিশ্রমিক।
পরিচালক নেলসন দিলীপ কুমার পারিশ্রমিক নিয়েছেন ৩৫ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫ কোটি টাকার বেশি। সংগীত পরিচালক অনিরুদ্ধ রবিচন্দর নিয়েছেন ২০ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ কোটি টাকার বেশি।
ছবিটিতে এবারও ‘ম্যাথিউ’ চরিত্রে রয়েছেন বরেণ্য অভিনেতা মোহনলাল। এই চরিত্রের জন্য তিনি নিয়েছেন ৩০ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেশি।
ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নতুন যুক্ত হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। ‘কানথা কলপাক’ নামের নেতিবাচক চরিত্রটির জন্য তিনি নিয়েছেন ৬ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭ কোটি টাকার বেশি।
প্রথমবার এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যুক্ত হয়েছেন বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশান, তার চরিত্রের নাম ‘রডি’। তিনি সাধারণত ছবিপ্রতি ৮০ থেকে ১১০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিয়ে থাকলেও এই ছবির জন্য নিয়েছেন ২৫ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২ কোটি টাকার বেশি বলে জানা গেছে।
ছবিতে ‘দীলিপ’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুরাজ, তিনি নিয়েছেন ১ কোটি রুপি। পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিজয় সেতুপতি, যিনি সাধারণত ছবিপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ কোটি রুপি নিয়ে থাকেন, তবে এই ছবিতে তার নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক জানা যায়নি। এস. জে. সূর্য সাধারণত প্রকল্পভেদে ৩ থেকে ১০ কোটি রুপি নিলেও তার অঙ্কটিও নির্দিষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। ছবিতে আরও রয়েছেন জ্যাকি শ্রফসহ একঝাঁক তারকা।
কালানিথি মারন প্রযোজিত ‘জেলার টু’ তৈরি হয়েছে ৩০০ কোটি রুপি বাজেটে। সেই হিসাবে মুক্তির তিন দিনেই বিশ্বব্যাপী আয় বাজেটের অঙ্ক ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট বিশ্বব্যাপী ২ হাজার ৯০০ পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল ‘জেলার’। ২০০ কোটি রুপি বাজেটের সেই ছবি আয় করেছিল ৬০০ থেকে ৬৩৫ কোটি রুপি, মুক্তির আগের উত্তাপ মুক্তির পর আরও বেড়ে গিয়েছিল।
এখন দেখার বিষয়, প্রথম ছবির সেই রেকর্ড সিক্যুয়েলটি ছাড়িয়ে যেতে পারে কি না। বক্স অফিসের গতি যেদিকে ইঙ্গিত করছে, তাতে আগামী দিনগুলোতে আয়ের অঙ্ক আরও অনেক বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।





