ছেলে প্রেসলির মৃত্যুর এক মাস পর ভাঙা হৃদয়ের বার্তা সিন্ডি ক্রফোর্ডের পরিবারের
ছেলে প্রেসলি গারবারের মৃত্যুর এক মাস পর প্রথমবারের মতো আবেগঘন বার্তা দিয়েছে তাঁর পরিবার। সুপারমডেল সিন্ডি ক্রফোর্ড ও তাঁর স্বামী র্যান্ডে গারবার রোববার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলেন, প্রিয় পুত্র ও ভাইকে হারিয়ে তাঁরা ‘বর্ণনাতীতভাবে ভেঙে পড়েছেন’। তাঁদের ভাষায়, প্রেসলি ছিলেন এক মমতাময়, সুন্দর আত্মা—যিনি ভালোবাসতেন এবং আজও ভালোবাসা পাচ্ছেন, চিরদিনই পাবেন।
পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান প্রেসলি মারা যান ২৭ বছর বয়সে, গত ২০ সেপ্টেম্বর একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মেডিকেল পরীক্ষকের নথিতে এই তথ্য থাকলেও তাঁর মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের এই বিবৃতিই তাঁদের শোকের প্রথম প্রকাশ্য রূপ।
বিবৃতিতে ক্রফোর্ড ও গারবার লেখেন, প্রেসলিকে ২৭ বছর ধরে জীবনে পেয়ে তাঁরা নিজেদের আশীর্বাদধন্য মনে করেন। দয়া আর খোলামেলা মন নিয়ে তিনি যেভাবে পৃথিবীতে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন, তাতে তাঁরা গর্বিত। পরিবারকে চেনেন এমন মানুষ থেকে অচেনা মানুষ পর্যন্ত—যাঁরা তাঁদের কষ্ট অনুভব করে ভালোবাসা ও সমর্থন জানিয়েছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তাঁরা। বার্তাটিতে স্বাক্ষর রয়েছে ক্রফোর্ড, গারবার ও তাঁদের মেয়ে কায়া গারবারের—সবার পক্ষ থেকে ‘চিরদিনের ভালোবাসা’ জানিয়ে।
মায়ের মতোই মডেল কায়া গারবার নিজের পেজে ভাইয়ের সঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিওর একটি সিরিজের সঙ্গে আলাদা একটি চিঠি প্রকাশ করেছেন। ভাইকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, তাঁর কাছে কোনো শব্দ নেই; হয়তো একমাত্র ছোট্ট সান্ত্বনা এই যে, তাঁদের কখনো শব্দের দরকারই পড়েনি। ভাইকে হারানোর বিশালতা ভাষায় প্রকাশ করার কোনো উত্তর তাঁর কাছে নেই বলেও তিনি জানান।
চিঠিতে কায়া লেখেন, তাঁর বোন হওয়াটাই তাঁর নিজের সম্পর্কে সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ছিল এবং চিরদিনই থাকবে। বড় ভাইকে তিনি ‘স্বভাবগতভাবে ভালো’ মানুষ ও তাঁর ‘চূড়ান্ত শিক্ষক’ বলে বর্ণনা করেছেন। শৈশবের নানা স্মৃতি টেনে এনে তিনি লিখেছেন, ভাইকে না দেখে কীভাবে তাঁকে ভালোবাসতে হয়, ফোন তুলে ফোন না করে কীভাবে তাঁকে কিছু বলতে হয়, আর যেখানে তাঁর নাগাল পাওয়া যায় না—সেই পৃথিবীতে কীভাবে তাঁর বোন হয়ে থাকতে হয়, তা তিনি এখনো শিখে উঠতে পারেননি।
চিঠির শেষাংশে আবেগ আরও গভীর হয়। কায়া ভাইকে সম্বোধন করেন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু, সবচেয়ে বড় রক্ষক, যার সঙ্গে তিনি সবচেয়ে বেশি হেসেছেন এবং জীবনের একমাত্র প্রকৃত ভালোবাসা হিসেবে। তিনি লেখেন, ভাই তাঁর সব মোমবাতি জ্বালিয়ে দিতেন এবং সব ভয় তাড়িয়ে দিতেন। পোস্টটিতে রাখা হয়েছে জেক মিঞ্চের ‘ফার্স্ট আই ওয়াজ’ গানটি, যেটিকে কায়া বর্ণনা করেছেন তাঁদের শেষ আলোচনার বিষয় হিসেবে।
কায়ার পোস্টে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা টেলর লটনার ও প্যাট্রিক শোয়ার্জনেগার, গায়িকা সুকি ওয়াটারহাউস এবং প্যারিস হিলটনসহ অনেকে। হিলটন লেখেন, পরিবারের জন্য তাঁর হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে; প্রেসলি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই অনন্য, তাঁকে জানতে পারা তাঁর সৌভাগ্য, এবং তিনি তাঁকে সব সময় অনেক ভালোবাসা নিয়ে মনে রাখবেন।
প্রেসলি মাত্র ১৫ বছর বয়সে আইএমজি মডেলসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর তিনি বারবেরি, ডলচে অ্যান্ড গাব্বানা ও বোত্তেগা ভেনেতার মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের জন্য মডেলিং করেছেন। মায়ের মতো মডেলিং জগতে পরিচিতি পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে লড়াইও তাঁর কম ছিল না।
তিনি প্রায়ই বিষণ্ণতা ও মাদকাসক্তির সঙ্গে নিজের সংগ্রামের কথা প্রকাশ্যে বলতেন। সেই খোলামেলা স্বীকারোক্তিই তাঁকে অনেকের কাছে কেবল একজন মডেল নয়, বরং দুর্বলতা লুকিয়ে না রাখা একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত করেছিল। পরিবারের বিবৃতিতেও তাঁর ‘দয়া ও খোলামেলা মন’-এর কথা বিশেষভাবে এসেছে।
মৃত্যুর কারণ এখনো প্রকাশ না হওয়ায় প্রেসলির শেষ দিনগুলো নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা রয়ে গেছে। তবে পরিবার কারণ নিয়ে কোনো বিতর্কে যাওয়ার বদলে স্মৃতি আর কৃতজ্ঞতাকেই সামনে রেখেছে। এক মাসের নীরবতার পর এই বার্তায় স্পষ্ট, শোক কাটিয়ে ওঠা তো দূরের কথা—পরিবার এখনো সেই শোকের ভেতর দিয়েই যাচ্ছে, আর বিশ্বজুড়ে পাওয়া ভালোবাসাই তাঁদের এই সময়ের সবচেয়ে বড় ভরসা।





