বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ:
প্রচ্ছদ › বিনোদন › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদবিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন
বিনোদন

দেশকে অপমান করায় অর্ধেক দামেও গিটার নেননি আইয়ুব বাচ্চু

নিজস্ব প্রতিবেদক • • পড়ার সময়: ৫ মিনিট

মা-বাবা চাইতেন না ছেলে গানবাজনা করুক, গায়ক হোক। বাবা বলতেন, বাড়িতে বাউলদের কোনো জায়গা নেই। একসময় অভিমান করে বড় স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন আইয়ুব বাচ্চু। তখন পকেটে ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। ওঠেন এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে, হোটেলের লবিতে পাটি বিছিয়ে মেঝেতে থাকতেন। সেই তরুণই অনুশীলন, সাধনা ও একাগ্রতায় একদিন হয়ে ওঠেন দেশবরেণ্য গিটার জাদুকর ও গায়ক।

আইয়ুব বাচ্চু তাঁর মাকে খুব ভালোবাসতেন। ২০০৪ সালের দিকে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি, বিদেশেও চিকিৎসা করিয়েছেন। তিনি সব সময় বলতেন, ‘দেশকে ভালোবাসতে হবে সবার আগে। কেননা মা কষ্ট পেলে দেশ কষ্ট পাবে।’

এক সাক্ষাৎকারে মা-বাবা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘মা-বাবা ছাড়া তো আমি কিছুই না। ওনাদের অবদানেই আমার জীবন। এটা আল্লাহর নেয়ামত। যারা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, একটা মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় লজ্জাকর আর কিছু হতে পারে না। যে মায়ের গর্ভে ১০ মাস ১০ দিন থেকে জন্মেছি আমি, সেই মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছি, এর চেয়ে দুর্ভাগ্য সন্তানের জন্য কী হতে পারে! টাকাপয়সা থাকলে বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে অন্তত একটা ঘর ভাড়া করে মাকে আলাদা রাখুন। বৃদ্ধাশ্রম মা-বাবার জীবন হতে পারে না।’

শিকড়ের প্রতি তাঁর ছিল প্রচণ্ড টান। একবার পটিয়া স্কুলমাঠে কনসার্টে এসে চট্টগ্রামের ভাষায় বলেছিলেন, ‘আঁর বাড়ি পইট্যা, তোয়ারা আঁরে গাইবের লাই নহ ডাহ দওত ন দ’—অর্থাৎ আমার বাড়ি পটিয়া, তোমরা আমাকে গাওয়ার জন্য দাওয়াত করো না কেন। তখন একজন বললেন, ‘ভাই, আপনার সম্মানী বেশি, সে জন্য সাহস করি না।’ জবাবে হেসে তিনি বলেছিলেন, ‘আগে দওত দিতা, সম্মানী ন লইতাম এরি’—আগে দাওয়াত করে দেখতে, সম্মানী নিতাম না।

১৯৯৮ সালের কথা। আমেরিকার নিউইয়র্কে কনসার্ট করতে গিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। কনসার্ট শেষে এলআরবি ব্যান্ডের সদস্যদের নিয়ে একটি শপিং মলে ঢোকেন। বড় একটি গিটারের দোকানে গিয়ে গিটারগুলো দেখতে থাকেন। নতুন ব্র্যান্ডের গিটার দেখলে হাতে নিয়ে দেখার আসক্তি ছিল তাঁর। হঠাৎ বিশ্বখ্যাত জাপানি ব্র্যান্ড আইবানেজের একটি গিটারের ওপর চোখ পড়ে এবং সেটি তাঁর পছন্দ হয়।

গিটারটি দেখতে চাইলে দোকানি জিজ্ঞেস করেন, কোন দেশ থেকে এসেছেন। জবাবে বাংলাদেশ বলতেই দোকানি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘এই গিটার বাংলাদেশির জন্য নয়। এই দেশে এটা সবচেয়ে দামি গিটার; তুমি কিনতে পারবে না, অন্যটা দেখো।’

এ কথা শুনে বাচ্চু খুব আহত হন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান দেশকে অপমান করায়। তাঁর মধ্যে জেদ চেপে বসে। দোকানিকে বলেন, ‘আমার দলের সবার কাছে যে ডলার আছে, আশা করি গিটারটি নিতে পারব।’ দোকানির ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও গিটারটি দেখতে দেন। গিটারটি হাতে নিয়ে বাচ্চু বাজাতে শুরু করেন। এমন দরদ দিয়ে বাজালেন যে পুরো মার্কেটে লোকজন জড়ো হয়ে যায়।

এবার বদলে যায় দোকানির ভাষা। তিনি বলেন, ‘তুমি অসাধারণ বাজাও, এই গিটার তোমার জন্যই। তোমাকে হাফ দামে দেব।’ কিন্তু আইয়ুব বাচ্চু বিনয়ের সঙ্গে জবাব দেন, ‘এটা তুমি আমাকে বিনে পয়সায় দিলেও আমি নেব না। তুমি আমার দেশকে অপমান করেছ। যে গিটারের জন্য আমার দেশ অপমানিত হয়, সেই গিটার আইয়ুব বাচ্চু বিনা পয়সায় নেবে না এবং দ্বিতীয়বার বাজাবেও না।’

আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন সুফিভক্ত। মাইজভান্ডার দরবার শরিফের ভক্ত ছিলেন তিনি, আধ্যাত্মিক সুফি সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমানের বাসায় তাঁকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়েছিলেন বাচ্চু। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী হলেও সুফিদের খুব সম্মান করতেন এবং সুফিবাদ চর্চা করতেন তিনি।

নিজের মৃত্যুর এক মাস আগে এলআরবি ব্যান্ড দলের এক সদস্যের বাবা মারা গেলে তাঁকে চিরবিদায় দিতে গিয়ে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘চাচা, আপনি যাচ্ছেন, আমরা আসতেছি।’ ঠিক এক মাস পর বাচ্চু নিজেই না-ফেরার দেশে চলে যান। মৃত্যুর আগে মায়ের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। চৈতন্যগলী কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ককে টাকা দিয়ে বলেছিলেন, মায়ের কবরটা যেন সব সময় পরিষ্কার রাখেন। ফুলের চারা লাগানোর পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, যদি তাঁর কিছু হয়ে যায়, মায়ের পাশে যেন তাঁকে সমাহিত করা হয়।

গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু চট্টগ্রামে ‘এবি লাউঞ্জ’ করতে চেয়েছিলেন নব্য ব্যান্ডশিল্পীদের জন্য, যেখানে নতুন গায়কেরা গিটার বাজাবে, গাইবে। পটিয়ার গ্রামের বাড়িতে একটি হাসপাতাল করারও স্বপ্ন ছিল তাঁর। স্বপ্নগুলো পূরণ করা হয়নি। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর লক্ষ কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, চৈতন্যগলি কবরস্থানে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পীর কবরটি অরক্ষিত ও অবহেলিত। নেই কোনো এপিটাফ। ভক্তরা কবর জিয়ারত করতে এসে কবর খুঁজে পান না। ভক্তদের প্রাণের দাবি, ‘এবি লাউঞ্জ’ নামে চট্টগ্রামে একটি গিটার একাডেমি স্থাপন করা হোক। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদবিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

বিনোদন বিভাগের আরও খবর

বিনোদন • ৫ মিনিটে পড়ুন

জিহ্বা হারানোর শঙ্কায় সন্তানদের জন্য কণ্ঠ রেকর্ড করেছিলেন পয়জন ড্রামার, এখন ক্যানসারমুক্ত এক দশক

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে এক ভয়ংকর সম্ভাবনার মুখোমুখি হয়েছিলেন পয়জন ব্যান্ডের ড্রামার রিকি রকেট—চিকিৎসকদের হয়তো তাঁর জিহ্বা কেটে ফেলতে হতে পারে। ক…

বিনোদন • ৫ মিনিটে পড়ুন

গান নয়, তবু মঞ্চ কাঁপান তারাই—আফ্রোবিটসের হাইপ শিল্পীদের উত্থান

তারা পুরোপুরি গানও করেন না, র‍্যাপও করেন না—তবু তাদের উপস্থিতিতেই জমে ওঠে পার্টি, বিয়ের আফটার-পার্টি আর করপোরেট অনুষ্ঠান। উচ্চশক্তির তাৎক্ষণিক কণ্ঠ, …

বিনোদন • ৬ মিনিটে পড়ুন

সত্যজিৎ থেকে রাজ চক্রবর্তী: বাংলা চলচ্চিত্র ও সাহিত্যে দুর্গাপূজার শতরূপ

দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব, আর বাঙালি যুগে যুগে মুগ্ধ হয়েছে শরতের রূপে। এই দুই টান একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় সাহিত্য ও চলচ্চিত্র…