হাম ও উপসর্গে শিশুমৃত্যু ১২০০ ছুঁইছুঁই, টিকার বাইরে লাখো শিশু
হাম ও হামের উপসর্গে দেশে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ১২০০ ছুঁইছুঁই করছে — সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যে তথ্যের গরমিল ও প্রস্তুতির অভাবে লাখো শিশু টিকাদানের বাইরে থেকে গেছে।
দুটি প্রতিবেদনের চিত্র মিলিয়ে দেখলে সংকটের দুটি দিক স্পষ্ট হয়। একদিকে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা, অন্যদিকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসার কথা থাকলেও বাদ পড়ে যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিশু।
তথ্যের গরমিলের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। অর্থাৎ কোন শিশু টিকা পেয়েছে আর কে পায়নি — সেই হিসাবেই অসঙ্গতি থাকায় অনেক শিশু কর্মসূচির নজরের বাইরে থেকে গেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
প্রস্তুতির অভাবকেও এই বাদ পড়ার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম চললে যেসব শিশুর কাছে পৌঁছানো সবচেয়ে জরুরি, তারাই সবার আগে ছিটকে পড়ে — প্রতিবেদনের চিত্র সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনেছে।
শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ১২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু টিকাদান ব্যবস্থার ফাঁকগুলোকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন — বাদ পড়া লাখো শিশুকে কত দ্রুত টিকার আওতায় আনা যায় এবং তথ্যের গরমিল দূর করে সঠিক তালিকা ধরে কার্যক্রম চালানো যায় কি না।
সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত পরিসংখ্যান এবং পরবর্তী পদক্ষেপ জানা গেলে এই সংকট মোকাবিলার পথ আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত প্রতিবেদন দুটির বার্তা একটাই — সময়ক্ষেপণের সুযোগ কম, টিকাদানে গতি আনতেই হবে।


