মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় ঢাকায় জরুরি অবতরণ ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের, হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর মৃত্যু
ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। পরে উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ নারীকে দ্রুত রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর উড়োজাহাজটি ঢাকায় নামানো হয়।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির যাত্রী তালিকা অনুযায়ী ওই রোগীর নাম অঞ্জনা ভৌমিক। তিনি ভারতীয় নাগরিক। অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে আগরতলা থেকে কলকাতায় নেওয়া হচ্ছিল।
রোগীর সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। তালিকায় তাঁদের সবার জাতীয়তা ভারতীয় বলে উল্লেখ রয়েছে।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনা করছিল এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড। উড়োজাহাজটির মডেল সি৯০এ এবং নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ। এটি আগরতলা থেকে কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। দুই পাইলটসহ উড়োজাহাজটিতে মোট সাতজন ছিলেন।
জানা গেছে, মাঝ আকাশে দরজা খুলে যাওয়ার পর পাইলটরা জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন এবং উড়োজাহাজটি শাহজালাল বিমানবন্দরে নামানো হয়। এর পর রোগীকে দ্রুত নামিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক অঞ্জনা ভৌমিককে মৃত ঘোষণা করেন। একজন রোগীকে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের পথেই এমন মৃত্যু ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
তবে কী কারণে উড়োজাহাজটির দরজা মাঝ আকাশে খুলে গিয়েছিল, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরজা খুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কেন ঘটল, তা খতিয়ে দেখা সংশ্লিষ্টদের জন্য জরুরি বিষয় হয়ে থাকবে।
এই ঘটনায় ঢাকার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দ্রুত জরুরি অবতরণের ব্যবস্থা এবং রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যদিও শেষ পর্যন্ত রোগীকে বাঁচানো যায়নি।
পরবর্তী ধাপে উড়োজাহাজটির দরজা খুলে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত এই আকস্মিক ঘটনা ও রোগীর মৃত্যুই এই যাত্রার সবচেয়ে দুঃখজনক পরিণতি হিসেবে থেকে গেছে।


