ডেমোক্র্যাটরা অর্থনীতিতে শ্রমজীবীদের ব্যর্থ হয়েছে, তাই তাঁরা ট্রাম্পের দিকে গেছেন: স্যান্ডার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স স্বীকার করেছেন, অর্থনৈতিক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি শ্রমজীবী আমেরিকানদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই ব্যর্থতাই ভোটারদের একটি অংশকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
শনিবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়, শ্রমজীবী ভোটারদের ট্রাম্পের কাছে হারানোর পেছনে ডেমোক্র্যাটরা ঠিক কী ভুল করেছিল। জবাবে ভারমন্টের এই স্বতন্ত্র সিনেটর বলেন, ট্রাম্প যা করেছেন তার মূলে রয়েছে তাঁর মূল্যায়ন—অর্থনৈতিক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করতে পারেনি।
স্যান্ডার্স বলেন, নাগরিক অধিকার, নারী অধিকার, সমকামীদের অধিকার ও পরিবেশের মতো বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের গর্ব করার অনেক কিছু আছে। কিন্তু শ্রমজীবী শ্রেণির ইস্যুতে তাঁরা ভালো কাজ করেছেন বলে তিনি মনে করেন না।
তাঁর ভাষ্যে, বছরের পর বছর ধরে ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের কাছে শুনেছেন—‘আমরা এটা করব, ওটা করব, তোমাদের সাহায্য করব।’ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ডেমোক্র্যাটরা এমন সব বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিয়েছে, যেগুলোর কারণে লাখো ভালো বেতনের উৎপাদন খাতের চাকরি হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভোটাররা দলটির ওপর আস্থা হারিয়েছেন—এবং স্যান্ডার্সের মতে, ‘অযৌক্তিকভাবে নয়।’
অপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি আর চাকরি ধ্বংসকারী বাণিজ্য চুক্তি—এই দুটিকেই শ্রমজীবী ভোটারদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে চলা আত্মসমালোচনার ধারাকে আবার সামনে নিয়ে এল।
স্যান্ডার্সের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি নাটালি বালডাসারে ডেমোক্র্যাটদের অর্থনৈতিক নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা শ্রমজীবী পরিবারগুলোকে ছেড়ে নিজেদের চরম বাম ঘাঁটিকে তুষ্ট করতেই বেশি আগ্রহী। তিনি বলেন, যে দল আমেরিকানদের ওপর বেশি কর চাপায়, চাকরি বিদেশে পাঠায় আর দেশের শিল্পখাত ধ্বংস করে, তারা আর নিজেদের শ্রমজীবী শ্রেণির দল বলে দাবি করতে পারে না।
ভোটের পরিসংখ্যানও এই টানাপোড়েনের ছবি দেয়। ২০২৪ সালের এক ভোটার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বার্ষিক পারিবারিক আয় ৫০ হাজার থেকে ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলারের ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হ্যারিসকে ৫৩ শতাংশ বনাম ৪৫ শতাংশে হারিয়েছিলেন। অন্যদিকে এক লাখ ডলার বা তার বেশি আয়ের ভোটারদের মধ্যে হ্যারিস এগিয়ে ছিলেন ৫৩ বনাম ৪৬ শতাংশে।
একই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন বলে জানানো ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প ২৯ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন। আর প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার মূল্যস্ফীতিকে ভোটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন—সেই ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছিলেন।
স্যান্ডার্স অবশ্য এই প্রথমবারের মতো দলটিকে শ্রমজীবীদের ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন না। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পরও তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কড়া সমালোচনা করেছিলেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে স্যান্ডার্সের এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ডেমোক্র্যাটদের জন্য অস্বস্তিকর হলেও তা একটি পুরনো প্রশ্নকেই নতুন করে তুলে ধরেছে—অর্থনীতির প্রশ্নে শ্রমজীবী ভোটারদের আস্থা ফেরাতে দলটি কতটা সক্ষম হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামী লড়াইগুলোর বড় অংশের ফল।






