ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল ও বহিষ্কার ‘অবশ্যই’ সম্ভব, বললেন ট্রাম্পের সীমান্তপ্রধান হোম্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করা ‘অবশ্যই’ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সীমান্ত জার’ টম হোম্যান। ফক্স নিউজে শনিবারের এক উপস্থিতিতে তিনি এই কথা বলেন।
১২ অক্টোবর ফেডারেল এজেন্টরা মিনেসোটার এই প্রতিনিধির বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর থেকে ওমরকে নাগরিকত্ব বাতিল ও বহিষ্কারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে নাম ধরে মন্তব্য করা ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তার এটাই প্রথম বক্তব্য। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওমর বা তাঁর পরিবার নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় আইন ভঙ্গ করে থাকতে পারেন।
ওমরের বাড়িতে তল্লাশির ঘটনাটি তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে—যে প্রতিপক্ষকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সমর্থকেরা প্রকাশ্যেই নাগরিকত্ব বাতিল ও বহিষ্কারের কল্পনা করে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিচিত সোমালি-আমেরিকান এই রাজনীতিকের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তিনি বা তাঁর পরিবার কোনো আইন ভঙ্গ করেছেন কি না, ফেডারেল সরকারের তদন্তে সেটাই দেখা হচ্ছে। তদন্তটি শুরু হয়েছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, যে নির্বাচনে ওমর ব্যালটে রয়েছেন।
শনিবার ফক্স নিউজের উপস্থাপক যখন হোম্যানকে জিজ্ঞেস করেন, ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তে তাঁর ‘নাগরিকত্ব বাতিল করে তারপর বহিষ্কারের’ বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে কি না, হোম্যান উত্তর দেন, ‘অবশ্যই পারে।’
হোম্যান বলেন, ‘নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় কেউ মিথ্যা বললে কারো নাগরিকত্ব বাতিল করার একটি প্রক্রিয়া আছে। আমরা আগেও এটা করেছি। এটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, কিন্তু আগেও হয়েছে। আর অবশ্যই প্রমাণ সেদিকে গেলে এমনটা ঘটতে পারে।’
একই অনুষ্ঠানে হোম্যান ইঙ্গিত দেন, ফেডারেল সরকার অন্য অভিযোগেও ওমরের বিষয়ে তদন্ত করছে, তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সেদিকে যাব না। আমি কিছু জানি, কিন্তু এটা এফবিআইয়ের কাছে জিজ্ঞেস করার প্রশ্ন।’
ওমর সোমালিয়া থেকে আসা একজন নাগরিকত্বপ্রাপ্ত মার্কিন নাগরিক। শিশু থাকাকালে তাঁর বাবাই অভিবাসনের কাগজপত্র পূরণ করেছিলেন, যেগুলো এখন ফেডারেল সরকার খতিয়ে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর বাবা নুর ওমর মোহামেদ ২০২০ সালের জুনে মারা গেছেন।
বাড়িতে তল্লাশির পর পাঠানো এক চিঠিতে ওমরের আইনজীবীরা মার্কিন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ভঙ্গ করে একটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান জোরদার করেছে।
প্রশাসন একদিকে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারে বিপুল সম্পদ ও কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে, অন্যদিকে বৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধেও আক্রমণ বাড়িয়েছে। দেশজুড়ে প্রশাসন এমন ডজনখানেক মামলা চালাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার অভিযোগে।
হোম্যান রোববার যেমনটা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ—এতে ফেডারেল তদন্ত ও দীর্ঘ আদালত-প্রক্রিয়া লাগে। তবু এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিচার বিভাগ প্রায় ৪০০ বিদেশে জন্ম নেওয়া নাগরিককে তদন্তের জন্য চিহ্নিত করেছিল বলে জানা গেছে।
ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের পেছনে রয়েছে ট্রাম্প-সমর্থক ডানপন্থী ব্যক্তিদের ভিত্তিহীন অভিযোগ যে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে এটাও রয়েছে যে তাঁর সাবেক স্বামী তাঁর ভাই, যাকে তিনি শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য বিয়ে করেছিলেন।
জানা গেছে, বাড়িতে তল্লাশির সময় ফেডারেল সরকার ওমরের ফোন জব্দ করেছে এবং ওমরের আত্মীয়স্বজনসহ এক ডজনের বেশি সাক্ষ্য-আদেশ (সাবপিনা) জারি করেছে। ওমরের আইনজীবীরা ফেডারেল সরকারের কাছে তাঁর সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার এবং তল্লাশির সময় ধারণ করা যেকোনো অডিও বা ভিডিও সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
ওমর বলেছেন, আট বছর বয়সে তিনি ও তাঁর পরিবার সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে কেনিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং তাঁর আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে তিনি নাগরিকত্বপ্রাপ্ত মার্কিন নাগরিক হন।
আইনজীবীদের চিঠিতে বলা হয়েছে, ওমর তাঁর নাগরিকত্বের মর্যাদা সংক্রান্ত কোনো আইন ভঙ্গ করেছেন—এমন পরামর্শের ‘কোনো বৈধ ভিত্তি নেই’। চিঠিটি প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
বাড়িতে তল্লাশির পর ওমর এক্সে লিখেছিলেন, তিনি ‘ঠিক আছেন’। তিনি আরও লেখেন, ‘ভুল করবেন না: এটি রাজনৈতিক শত্রুদের লক্ষ্য করা এবং ফেডারেল আইন প্রয়োগকে হাতিয়ার বানানোর একটি চেষ্টা।’ তাঁর দাবি, ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে ভিত্তিহীন মিথ্যা ও অপপ্রচার দিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করেছেন এবং এটি সেই রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের অভিযানের সর্বশেষ ধাপ। এখন হোম্যানের সর্বশেষ মন্তব্যের পর বিতর্কটি আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।






