বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
সর্বশেষ হালনাগাদ:
প্রচ্ছদ › আমেরিকা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
আমেরিকা

চলে গেলেন এনপিআরের কিংবদন্তি উপস্থাপক নোয়া অ্যাডামস, ‘অল থিংস কনসিডার্ড’-এর কণ্ঠ থামল ৮৪ বছর বয়সে

নিজস্ব প্রতিবেদক • • পড়ার সময়: ৬ মিনিট

যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক রেডিও এনপিআরের দীর্ঘদিনের উপস্থাপক, লেখক ও গল্পকার নোয়া অ্যাডামস মারা গেছেন। ‘অল থিংস কনসিডার্ড’ অনুষ্ঠানটি তিনি ১৮ বছর উপস্থাপনা করেছেন। তাঁর স্ত্রী নিনাহ এলিস জানিয়েছেন, শুক্রবার ওহাইওর ইয়েলো স্প্রিংসে নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

অ্যাডামস শ্রোতাদের নিয়ে গেছেন রোনাল্ড রিগ্যানের বিপুল বিজয়, বার্লিন প্রাচীরের পতন এবং ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার মতো বড় বড় ঘটনার ভেতর দিয়ে। তবে নিউজরুমে তাঁর সঙ্গে কাজ করা সহকর্মীদের কাছে তাঁর সাংবাদিকতা সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠত তাঁর নরম ধাঁচের ফিচার প্রতিবেদনগুলোতে।

তিনি ট্রেনে চড়ে সারা দেশ ঘুরতেন কিংবা ছোট ছোট শহরে দিনের পর দিন কাটিয়ে যার সঙ্গেই দেখা হতো, তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন, শুনতেন, নোট ও পর্যবেক্ষণ লিখে রাখতেন। তারপর তৈরি করতেন দীর্ঘ, ভাবনাপ্রসূত রেডিও প্রতিবেদন, যা শ্রোতাদের পৃথিবীকে আরেকটু ভালোভাবে বুঝতে ও উপলব্ধি করতে সাহায্য করত।

বছরের পর বছর তাঁর সঙ্গে প্রতিবেদন তৈরি করা এবং পরে নিজেও ‘অল থিংস কনসিডার্ড’ উপস্থাপনা করা মেলিসা ব্লক স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি সব সময় পর্যবেক্ষণ করতেন। তাঁর কাছে থাকত ছোট্ট সাংবাদিকের নোটবই, আর তিনি শর্টহ্যান্ডে নোট নিতেন। তাঁর হাতের লেখা প্রায় পড়াই যেত না—কেবল অস্পষ্ট আঁকিবুঁকি। কিন্তু ফিরে এসে তিনি কোনো জায়গা, মানুষ বা শহরের চরিত্র সবচেয়ে জীবন্ত, সমৃদ্ধ ও সরল ভাষায় তুলে ধরতেন। তাঁর অবিশ্বাস্য পর্যবেক্ষণক্ষমতা থেকে তৈরি হতো একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি।’

কেন্টাকিতে জন্ম নেওয়া অ্যাডামস ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি এনপিআরে যোগ দেন, যখন নেটওয়ার্কটি ছিল একেবারেই নতুন এবং নিজের পথ খুঁজছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষা করা মানুষ, তবে জানিয়েছিলেন, রেডিওতে আসার আগে তিনি নানা ধরনের কাজ করেছেন।

তিনি নির্মাণকাজ করেছেন, গাড়ি বিক্রি করেছেন—যা তিনি একবার অন-এয়ার প্রবন্ধে নিজেই বর্ণনা করেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রেডিও স্টেশনে কাজ শুরু করেন। তিন বছর পর তিনি ‘অল থিংস কনসিডার্ড’-এ প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের আবেদন করেন।

অনুষ্ঠানটির কর্মীরা প্রতিদিন সকালে দীর্ঘ বৈঠকে বসতেন—দিনের খবর এবং দুই ঘণ্টার সম্প্রচারে কী থাকবে আর কী থাকবে না, তা নিয়ে। অ্যাডামস কখনো সেই বৈঠককে একঘেয়ে মনে করেননি। কর্মজীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে লেখা এক এনপিআর প্রবন্ধে তিনি স্মরণ করেছিলেন, ‘তুমি পৃথিবীর সব রহস্যের দিকে মনোযোগ দিতে। গভীর কৌতূহল নিয়ে ভাবতে আকাঙ্ক্ষার কথা। লক্ষ করতে কে বিপদে আছে, কেন? ওয়াশিংটনের অর্থ কী?’

বেশির ভাগ সাংবাদিকের মতোই অ্যাডামস নিউজরুম ছেড়ে বাইরের পৃথিবীতে যেতে চাইতেন। তিনি নিজের প্রতিবেদনকে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতেন। ব্লক বলেন, ‘যাঁদের কথা আগে থেকে সাজানো বলে তিনি জানতেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে তিনি কখনো পছন্দ করতেন না। তিনি চাইতেন এমন মানুষ, যাঁরা সত্যিই হৃদয় থেকে, দৃঢ় বিশ্বাস ও আন্তরিকতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি নিজেও ঠিক তেমনই ছিলেন।’

কুকুর নিয়েও তিনি যতটা সম্ভব লিখতে ও বলতে চাইতেন—দৃশ্যে, এমনকি সাক্ষাৎকারেও কুকুরকে টেনে আনতেন। ১৯৮৭ সালে বেটসি ওয়াল্টার নামে আট বছর বয়সী এক মেয়ের সঙ্গে স্মরণীয় এক সাক্ষাৎকার তিনি ঠিক এভাবেই শুরু করেছিলেন, যার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। মেয়েটিকে স্বস্তি দিতে তিনি কুকুর নিয়ে আলাপ শুরু করেন।

সে রাতে অ্যাডামসের সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক ছিলেন তরুণ আইরা গ্লাস। গ্লাস পরে স্মরণ করেছেন, এটি ছিল একটি শিশুকে স্বস্তি দেওয়ার ‘সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর’ উপায়। তিনি বলেন, ‘তিনি মেয়েটির সঙ্গে নিচু হয়ে কথা বলছিলেন না। তারপর তিনি সরাসরি সাক্ষাৎকারে ঢুকে যান।’ অ্যাডামস সেদিন এতটাই ভালো করেছিলেন যে গ্লাস পুরো সাক্ষাৎকারের টেপটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সংরক্ষণ করেন। পরবর্তীকালে গ্লাস বারবার অ্যাডামস ও তাঁর সাক্ষাৎকারের ধরনকে নিজের তৈরি ‘দিস আমেরিকান লাইফ’ অনুষ্ঠানের অনুভূতি ও সুরের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১৯৮৭ সালে অ্যাডামস ‘অল থিংস কনসিডার্ড’ ছাড়েন। আরেক পাবলিক রেডিও কিংবদন্তি গ্যারিসন কিলর ‘অ্যা প্রেইরি হোম কম্প্যানিয়ন’ ছেড়ে যাওয়ার পর অ্যাডামস মিনেসোটায় যান সেটির বদলে নতুন একটি ভ্যারাইটি শো চালু করতে। সেই ভ্যারাইটি শোটি সফল হয়নি এবং দুই বছর পর অ্যাডামস আবার ‘অল থিংস কনসিডার্ড’-এ ফিরে আসেন, যেখানে তাঁর সহ-উপস্থাপক ছিলেন রবার্ট সিগেল ও লিন্ডা ওয়ার্থাইমার। এর আগে তিনি সুজান স্ট্যামবার্গের সঙ্গেও উপস্থাপনা করেছেন।

সিগেল বলেন, ‘নোয়া ছিলেন আমাদের গ্রামীণ আমেরিকায় যাওয়ার, ইন্টারস্টেট ৯৫ করিডর থেকে দূরের ছোট শহরগুলোতে কী ঘটছে, তা নিয়ে গল্প করার কণ্ঠ।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি ছিলেন একজন ফলপ্রসূ লেখক। তিনি ভালো লেখা ও ভালো লেখকদের প্রশংসা করতেন এবং নিজে যতটা ভালো সম্ভব হওয়ার চেষ্টা করতেন।’

অ্যাডামস পাঁচটি বই লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘পিয়ানো লেসনস’ (১৯৯৬)—৫১ বছর বয়সে এক বছর ধরে পিয়ানো শেখার স্মৃতিকথা, ‘ফার অ্যাপালাচিয়া, ফলোয়িং দ্য নিউ রিভার নর্থ’ (২০০১) এবং ‘দ্য ফ্লায়ার্স: ইন সার্চ অব উইলবার অ্যান্ড অরভিল রাইট’ (২০০৩)।

সিগেল ও আরও অনেকের মতে, রেডিওর জন্য অ্যাডামসের লেখালেখির শিখর ছিল ১৯৮১ সালের অসাধারণ রেডিও প্রামাণ্যচিত্র ‘ফাদার কেয়ার্স: দ্য লাস্ট অব জোনসটাউন’। গায়ানার জঙ্গলে গণ-আত্মহত্যা করা কাল্টের প্রধান জিম জোন্স শত শত ঘণ্টার অডিও রেকর্ড করেছিলেন। এনপিআর সেগুলো হাতে পায় এবং অ্যাডামস, প্রযোজক ডেব আমোস ও লেখক জেমস রেস্টন জুনিয়র মিলে তা থেকে এই পরীক্ষামূলক প্রামাণ্যচিত্রটি তৈরি করেন।

প্রামাণ্যচিত্রটির একটি দিক ছিল বিতর্কিত—অ্যাডামস এতে সাংবাদিক হিসেবে নয়, বরং কাল্ট থেকে বেঁচে যাওয়া এক কাল্পনিক যৌগিক চরিত্র হিসেবে বর্ণনা দিয়েছিলেন। তাঁর উপস্থাপনা ছিল ইচ্ছে করেই সমতল ও ট্রমায় ভরা। সিগেলের কাছে এই প্রামাণ্যচিত্রটিই ছিল এনপিআর যেমনটা অ্যাডামস চাইতেন—‘শব্দের পরীক্ষামূলক ব্যবহার, আকর্ষণীয় লেখা।’

অ্যাডামস এনপিআরকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন এমন এক সময়ে, যখন নেটওয়ার্কটির পরিচয় ছিল নমনীয়। ব্লকের ভাষ্য, তিনি চাইতেন নেটওয়ার্কটি সেই যুগের আদর্শ ধরে রাখুক—দেশের চরিত্র ও প্রত্যেকের কণ্ঠ নিজের ধরনে, নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রের বাইরের বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া। শান্তভাবে, উদ্দেশ্য নিয়ে, নোটবই ও টাইপরাইটার হাতে অ্যাডামস ঠিক সেটাই করেছেন সারা জীবন। তাঁর মৃত্যুতে আমেরিকার পাবলিক রেডিওর একটি যুগের একটি পরিচিত কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ

আমেরিকা বিভাগের আরও খবর

আমেরিকা • ৪ মিনিটে পড়ুন

মিনেসোটার জালিয়াতি কেলেঙ্কারির দায় নিলেন গভর্নর ওয়ালজ, পুনর্নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানালেন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জালিয়াতি কেলেঙ্কারি সামাল দেওয়ার ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন গভর্নর টিম ওয়ালজ। শুক্রবার ‘দ্য লিভার…

আমেরিকা • ৫ মিনিটে পড়ুন

ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব বাতিল ও বহিষ্কার ‘অবশ্যই’ সম্ভব, বললেন ট্রাম্পের সীমান্তপ্রধান হোম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তাঁকে বহিষ্কার করা ‘অবশ্যই’ সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্…

আমেরিকা • ৩ মিনিটে পড়ুন

ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দিলে মামলার ভয় দেখাতে চান ডেমোক্র্যাট সিনেটর, সমালোচনার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিন বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনে যোগ দেওয়ার আগে তরুণেরা যেন আইনি ঝামেলার ভয়ে দুবার ভাবেন—তিনি ঠিক সেই প্রতির…

আমেরিকা • ৩ মিনিটে পড়ুন

নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন, ইরান নিয়ে হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদকে আসন্ন নেসেট নির্বাচনে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্…