বিলম্বের ক্ষতিপূরণে তিন মাসেই ২০ মিলিয়ন পাউন্ড দিল অ্যাভান্টি ওয়েস্ট কোস্ট, বছরে ছাড়াতে পারে ৭০ মিলিয়ন

ব্রিটেনের প্রধান আন্তঃনগর রেল নেটওয়ার্কে বিঘ্নিত যাত্রার ক্ষতিপূরণ হিসেবে চলতি গ্রীষ্মের মাত্র তিন মাসে যাত্রীদের ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ফেরত দিয়েছে ট্রেন অপারেটর অ্যাভান্টি ওয়েস্ট কোস্ট।
এর মধ্যে ২৫ জুলাই পর্যন্ত চার সপ্তাহেই প্রতিষ্ঠানটি দিয়েছে ৯৩ লাখ পাউন্ড, যা গত দুই বছরের প্রতিটিতে এর বার্ষিক মুনাফার প্রায় সমান। পরের আট সপ্তাহে আরও ১ কোটি ২২ লাখ পাউন্ড ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ধীরগতির বা বাতিল হওয়া ট্রেনের জন্য ‘ডিলে রিপে’ নামের এই ক্ষতিপূরণের বিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরো রেল নেটওয়ার্কজুড়েই বাড়ছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে। অপারেটরদের মধ্যে অ্যাভান্টিই সবচেয়ে বেশি অর্থ ফেরত দিচ্ছে, তবে এবারের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
পরিবহন বিভাগের (ডিএফটি) সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব অপারেটর মিলিয়ে যাত্রী ক্ষতিপূরণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি পাউন্ডে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এর প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল অ্যাভান্টির দেওয়া ৪ কোটি ৫ লাখ পাউন্ড।
অ্যাভান্টি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫ কোটি পাউন্ডের বেশি ফেরত দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে সেই অঙ্ক ৭ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহামারির পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার বদলে আসা চুক্তিতে অপারেটরদের আয় এখন আসে পরিবহন বিভাগের দেওয়া ফি থেকে। টিকিটের আয় বা ফেরতের লাভ-ক্ষতির ভার বহন করে করদাতারাই।
গ্রেট ব্রিটিশ রেলওয়েজ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী বছর অ্যাভান্টিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার কথা রয়েছে।
তাপপ্রবাহের মধ্যে জুলাই মাসে অ্যাভান্টির অর্ধেকেরও কম ট্রেন সময়মতো চলেছে বলে রেল নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফিস অব রেল অ্যান্ড রোডের হিসাবে দেখা গেছে। ওই মাসে যাত্রীদের গড় বিলম্ব ছিল ১৯ মিনিট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময়টিতে এক মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টা ধরে ট্র্যাকে গরুর বড় একটি পাল ঢুকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
দূরপাল্লার অপারেটররাই সাধারণত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ দেয়, কারণ ভাড়া বেশি হওয়ায় যাত্রীরা দাবি করেন বেশি এবং বিলম্ব ৬০ মিনিট ছুঁলে পুরো ভাড়া ফেরত পাওয়া যায়। অ্যাভান্টি ও জিডব্লিউআর অবশ্য ১৫ মিনিটের বিলম্ব থেকেই ক্ষতিপূরণ দেয়; সেক্ষেত্রে যাত্রী পান ভাড়ার ২৫ শতাংশ।
২০২৫ সালে পরের সর্বোচ্চ ফেরতদাতা ছিল জিডব্লিউআর ২ কোটি ৯৭ লাখ পাউন্ড এবং এলএনইআর ২ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। এলএনইআর লন্ডন থেকে স্কটল্যান্ডগামী ট্রেন চালায় পূর্ব উপকূলের প্রধান লাইনে।
রেল নিয়ন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সারা ব্রিটেনে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের দাবি পৌঁছেছে ৯১ লাখে, যা বছরে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি; এর ৮০ শতাংশ দাবি অনুমোদিত হয়েছে। গবেষণা বলছে, বিঘ্নিত যাত্রীদের প্রায় অর্ধেক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। বেশির ভাগ অপারেটর এখন ২০ দিনের মধ্যে ৯৯ শতাংশের বেশি দাবি নিষ্পত্তি করে।
অ্যাভান্টির একজন মুখপাত্র বিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, সেবার মান নিয়ে শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চলছে এবং ১৫ মিনিট বা তার বেশি বিলম্বের যাত্রায় স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, মে থেকে আগস্টের বিলম্বের মাত্র ২৩ শতাংশের জন্য সরাসরি অ্যাভান্টি দায়ী; বাকিগুলোর পেছনে ছিল নেটওয়ার্ক রেল, অন্য অপারেটর কিংবা লাইনে অনুপ্রবেশের মতো বাইরের কারণ।
জিডব্লিউআর বলেছে, তাদের ক্ষতিপূরণ বাড়ার পেছনে বারবার আসা তাপপ্রবাহ বড় কারণ; অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় ট্র্যাক ত্রুটি, পয়েন্টস বিকল, গতিসীমা আর ট্রেনের শীতলীকরণ সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিবহন বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, সরকার বিঘ্নের মূল কারণ দূর করতে কাজ করছে এবং গ্রেট ব্রিটিশ রেলওয়েজের অধীনে সহজে ব্যবহারযোগ্য সেবা দিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি আরও দ্রুত ও সহজ করা হবে।




