সহিংস হয়ে ওঠা বিক্ষোভে উপস্থিত থাকলেই ৬ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা: আলবেনিয়ায় কার্যকর নতুন ব্যবস্থা

আলবেনিয়ায় কোনো বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত থাকলেই ৬ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা গুনতে হবে—নিজে সহিংস কোনো কাজ না করলেও। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা সমাবেশগুলো দমনে সরকার এই ব্যবস্থা চালু করেছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকার গৃহীত আইনগত ব্যবস্থা অনুযায়ী, জনসমাগমের জায়গায় সহিংসতা বা লুটপাটে লিপ্ত ভিড়ের মধ্যে যিনিই থাকতে বেছে নেবেন, অথবা যিনি নিজের পরিচয় গোপন করবেন, তাঁকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ লেক পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। ইউরোতে এই অঙ্ক ৫ হাজার ৫০০, আর ডলারে ৬ হাজার ১৩০।
এই জরিমানার ভার বোঝা যায় দেশটির বেতনকাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলেই। আলবেনিয়ায় করের আগের গড় মাসিক বেতন ৯৩০ ইউরো, ডলারে ১ হাজার ২৬—অর্থাৎ জরিমানার পরিমাণ গড় মাসিক বেতনের প্রায় ছয় গুণ।
রাজধানী তিরানায় কয়েক মাস ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, আর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তা নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
নেতৃত্ববিহীন এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবে, গত মে মাসে। তখন সমাবেশগুলো ছিল একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকায় বিলাসবহুল হোটেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে, যার পেছনে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
অক্টোবরের মাঝামাঝি আন্দোলনটি রূপ নেয় ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে। এর পেছনে রয়েছে দুর্নীতির ধারণা, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ঘাটতি এবং ২৩ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে তরুণদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাব নিয়ে ক্ষোভ।
নতুন ব্যবস্থায় পুলিশকেও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার ঝুঁকি থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছিসহ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সমাবেশ সাময়িকভাবে সীমিত করতে পারবে পুলিশ।
ব্যবস্থাগুলোতে অনলাইনে সহিংসতায় উসকানির বিরুদ্ধে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ব্যবস্থাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে, তবে কার্যকর থাকতে হলে ৪৫ দিনের মধ্যে সেগুলোর সংসদীয় অনুমোদন পেতে হবে।
রামা রোববার বলেছিলেন, তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন একটি ফরাসি বিল থেকে, যা বুধবার ফরাসি সংসদের উচ্চকক্ষে পাস হয়েছে। সেই বিলে রাস্তার বিক্ষোভের সময় হওয়া ক্ষতির জন্য বিক্ষোভকারীদের আর্থিক দায় নেওয়ার বিধান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বারবার সহিংসতার জন্য ‘বিদেশি শক্তি’কে দায়ী করেছেন এবং রাশিয়া ও ইরানকে অনলাইন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘সংলাপের’ আহ্বানও জানিয়েছেন।




