শ্যামলীর ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যের বিচার হবে সেনা আইনে

রাজধানীর শ্যামলীর এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর আটকে রেখে মারধর এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যের বিচার হবে সেনা আইনে। সোমবার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক দুই সদস্যকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ঢাকার আদালতে মোহাম্মদপুর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সেনা আইনে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তাদের হস্তান্তরের আবেদন করে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
ডিজিএফআই সদর দপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলার দুই আসামি সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সেনা আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত আদালত গঠন করা হবে। এ জন্য তাদের সংস্থাটির প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন। সেনা আইনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইন অনুযায়ী, কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের প্রয়োজনে সামরিক কর্তৃপক্ষ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে। এটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
তবে অভিযোগটি গুরুতর উল্লেখ করে পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, ভুক্তভোগী যেন ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ।
ব্যবসায়ী শরীফের অভিযোগ, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল রানা নামের এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের এক বাসায় ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।




