গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাণ গেল তিন প্রহরীর
গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামলার লক্ষ্য ছিল গাজা সিটির একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা।
গাজা সিটির ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে রোববার বিমান হামলায় তিন নিরাপত্তা প্রহরী নিহত হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটিতে এটি ছিল দ্বিতীয় হামলা।
হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ জানান, হামলার পরের চিত্র ছিল ভয়াবহ; মাটিতে রক্তের দাগ ও ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহাংশ পড়ে ছিল, জ্বলন্ত কংক্রিটের সঙ্গে মিশে ছিল রক্তের গন্ধ। তিনি বলেন, তাঁর দল ঘটনাস্থলে চিত্রধারণ শেষ করে তিন প্রহরীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছিল, এরপরই হামলায় তাঁরা নিহত হন। চারদিকে শ্রাপনেল উড়ে আসার শব্দ শোনা যাচ্ছিল বলেও জানান তিনি।
এর আগে একই ক্যাম্পাসে ড্রোন হামলায় শ্রাপনেলের আঘাতে সাত ছাত্রী আহত হন। গুরুতর আহত একজনকে কাছের একটি ফিল্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসিতে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স। ওই ঘটনায় একটি শিশুসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহর পূর্বে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর গাজার হামাদ হাসপাতালের কাছে আল-রশিদ সড়কে হামলায় আরেকজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনের পপুলার রেজিস্ট্যান্স কমিটিস বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলি লঙ্ঘন থামাতে মধ্যস্থতাকারী ও আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তাদাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকোর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার উচ্চশিক্ষা ক্যাম্পাসগুলোর প্রায় ৯৫ শতাংশ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাহমুদ জানান, রোববারের হামলার আগেই ইসলামিক ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ ভবন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল; মাত্র কয়েকটি ভবন আংশিকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। তাঁর ভাষায়, এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে নিরাপত্তার অনুভূতি শিক্ষার্থীদের জন্যও এখনো নাগালের বাইরে।
গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৫৫১ জন নিহত ও ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৫৪৪ এবং আহত অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯২ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে বা তার বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে। ক্রসিং বন্ধ থাকা ও সহায়তার আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় গাজায় খাদ্য সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

