মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গ্রামীণ রাজ্যগুলোতে ফিরছে ‘প্রেইরি জনতাবাদ’: রিপাবলিকান ঘাঁটিতে প্রতিটি ভোটের খোঁজে প্রার্থীরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দেশের গ্রামীণ প্রাণকেন্দ্রের জনপদগুলো ফিরে পেতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে পুনরুত্থিত ‘প্রেইরি জনতাবাদ’, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মসূচির প্রভাব নিয়ে স্থানীয় হতাশা এবং পুরোনো এক রাজনৈতিক কৌশল—সব জায়গায় নিজে উপস্থিত হওয়া।
নেব্রাস্কার সবচেয়ে গ্রামীণ কাউন্টিগুলোর একটিতে এই মাসের শুরুতে পৌঁছে ড্যান অসবর্ন প্রায় ১০০ মানুষের শহর আর্থারের ছোট প্রধান সড়কের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হেঁটে হেঁটে মানুষের সঙ্গে দেখা করা শুরু করেন।
একটি লাল রাজ্যে (রিপাবলিকান-প্রধান) যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন অসবর্ন; তার কাছে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ—এমনকি কট্টর রিপাবলিকান এলাকার ভোটও, যেগুলো রাজনৈতিক প্রার্থীরা প্রায়ই উপেক্ষা করেন। নির্বাচনের দিনের আগে তিনি রাজ্যের সব ৯৩টি কাউন্টি সফর করছেন; বাকি আছে প্রায় এক ডজন।
গত এক দশকেরও বেশি সময়ে বাম ও মধ্যপন্থিরা রিপাবলিকানদের কাছে যেসব এলাকা ছেড়ে দিয়েছে, সেগুলো জিততে চাওয়া বেশ কয়েকজন হাইপ্রোফাইল প্রার্থীর একজন তিনি। তারা নিজ নিজ রাজ্যের কৃষিসংস্কৃতিতে শেকড় গাঁথা জনতাবাদী বার্তায় প্রচার চালাচ্ছেন, যা আগের প্রজন্মের সেই রাজনীতিকদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা দুই দলের কাছেই পরিত্যক্ত বোধ করা কৃষক ও শ্রমিকদের একসূত্রে বেঁধে করপোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।
আইওয়ায় ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী জশ টুরেক নিজেকে ‘সাধারণ জ্ঞানের প্রেইরি জনতাবাদী’ বলে পরিচয় দেন। মন্টানায় কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্যাম ফোর্সট্যাগ একটি লাল জেলা উল্টে দিতে অর্থনৈতিক জনতাবাদের ওপর জোর দিয়েছেন; তিনি বলেছেন, তিনি লড়তে চান ‘আমি ছোটবেলায় যেমন ছিলাম, ফুড স্ট্যাম্পের কারণে পেট ভরা থাকা সেই ধরনের মানুষদের জন্য’।
একজন লেখক কানসাসের যাজক ও ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টনের রাজনীতিকে ‘শালীনতার জনতাবাদ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং তাকে প্রতিবেশী নেব্রাস্কার উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানের সঙ্গে তুলনা করেছেন—উনিশ শতকের শেষভাগের সেই ধর্মপ্রচারক জনতাবাদী, যিনি ‘গ্রেট কমনার’ নামে পরিচিত ছিলেন।
টুরেক বলেছেন, ‘আমার কাছে জনতাবাদ মানে রাজনৈতিক বা দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কাজ করা নয়; বরং রাজনৈতিক দিশা সব সময় এটাই—মানুষের জন্য সবচেয়ে ভালো কোনটি? আমার ক্ষেত্রে সেটা হলো আইওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো কী, বিশেষ করে মধ্যবিত্তের জন্য, শ্রমিকদের জন্য, গ্রামীণ জনপদগুলোর জন্য এবং ছোট পারিবারিক খামারগুলোর জন্য সবচেয়ে ভালো কী।’
এই প্রার্থীরা প্রায়ই নিজেদের রাজনীতিকে কোনো তকমা দেওয়ার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার বদলে বাস্তববাদ ও যেকোনো রাজনৈতিক পটভূমির রাজনীতিকদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছার ওপর জোর দেন। হ্যামিল্টনের প্রচারশিবির যেমন বলেছে, তিনি কানসাসের প্রয়াত দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর বব ডোলকে শ্রদ্ধা করেন এবং সবার সঙ্গে কাজ করবেন। শিবিরটির ভাষায়, এভাবেই কানসাস সেই ফার্ম বিল পেয়েছিল, যা দশকের পর দশক কৃষক ও নিম্নআয়ের শিশুদের সহায়তা করেছে—ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা একসঙ্গে কাজ করে রাজ্যের জন্য ফল এনেছেন।
এবারের নির্বাচনী চক্রে জনতাবাদী কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে ডেটাসেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রশ্নও, যা করপোরেট ও অভিজাতবিরোধী মনোভাব এবং বড় প্রযুক্তির হস্তক্ষেপ থেকে দূরে নিজেদের জমি ও জীবনধারা রক্ষার গ্রামীণ আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগাচ্ছে।
নেব্রাস্কা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ার জেন ক্লিব বলেছেন, ‘আমি কখনো দেখিনি আমাদের দল কোনো ইস্যুতে ভোটাররা যেখানে আছেন, সেখানে এত দ্রুত খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং ভোটারদের অবস্থানের দিকেই সত্যিকারভাবে ঝুঁকেছে—জরিপ যাচাই করতে করতে ইস্যুটাকে মেরে না ফেলে। আমার মনে হয়, প্রার্থীদের জন্য এটা এখন একটা শিক্ষা যে, মানুষ যেসব স্থানীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলা ঠিক আছে।’
উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বামঘেঁষা জনতাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিলেন ছোট কৃষকেরা। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক কোরি হালা, যিনি মধ্য-পশ্চিমের প্রগতিশীল জনতাবাদ নিয়ে বই লিখেছেন, বলেছেন, তখন প্রধান শত্রু ছিল রেল কোম্পানিগুলো—তারা জমি কিনে নিত এবং দেশের অন্য প্রান্তে পণ্য পাঠাতে বাধ্য কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করত। সংগঠিত শ্রমিকদের সঙ্গে মিলে এই কৃষকেরা রেলপথ নিয়ন্ত্রণ ও রাজ্যের বাইরের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দাবি তোলেন।
সেই আন্দোলনের কিছু নিদর্শন আজও টিকে আছে: নর্থ ডাকোটায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত আটার কল এবং মিনেসোটায় ডেমোক্র্যাটিক-ফার্মার-লেবার জোটের মতো দল। বিংশ শতকজুড়ে প্রগতিশীল জনতাবাদ ওঠানামা করেছে; ১৯৮০-এর দশকে খামার সংকটের সময় এর আরেকটি শিখর দেখা যায়, যখন খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থায় ব্যাপক হারে ছোট খামার ধ্বংস হয়ে যায়।
একসময় প্রেইরি ও মধ্য-পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে জনতাবাদী ও খামারকেন্দ্রিক ডেমোক্র্যাটরা দশকের পর দশক জিতেছেন—আইওয়ায় টম হারকিন, নর্থ ডাকোটায় বায়রন ডরগান, সাউথ ডাকোটায় টম ড্যাশল ও নেব্রাস্কায় বব কেরি। কিন্তু ২০১৩ সাল নাগাদ ইউএসএ টুডে তাদের ‘বিলীয়মান প্রজাতি’ বলে অভিহিত করে।
হালা বলেছেন, একচেটিয়া-বিরোধিতা, অ্যান্টিট্রাস্ট ও ডেটাসেন্টার নিয়ে বর্তমান আলোচনা সেই ধরনের জনতাবাদী সংগঠনের নতুন কেন্দ্রবিন্দু জোগাচ্ছে, যা ১৯৮০-এর দশকে, ১৯৩০-এর দশকে ও তার আগেও সফল হয়েছিল। তার ভাষায়, এটি প্রায়ই রাজ্যের বাইরের, এক ধরনের মুখহীন করপোরেট উদ্যোগ।
নর্থ ডাকোটায় রাজ্যব্যাপী জয়ী সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট সাবেক সিনেটর হাইডি হাইটক্যাম্প উল্লেখ করেছেন, তার জয় খুব বেশি আগের নয়—তিনি ২০১২ সালে জিতেছিলেন, তারপর ২০১৮ সালে পুনর্নির্বাচনে হেরে যান। তার উত্তরসূরি রিপাবলিকান কেভিন ক্রেমার সম্প্রতি একটি গ্রামীণ নীতিবিষয়ক নিউজলেটারকে বলেছেন, তিনি খুশি যে এই বছর তিনি ব্যালটে নেই।
হাইটক্যাম্প বলেছেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, গ্রামীণ আমেরিকায় কোনো ধরনের উপস্থিতি ধরে রাখার চেয়ে শহরতলিতে নিজেদের ভিত্তি বাড়ানো সহজ। সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ২০১৬ সালে এমন কথাই বলেছিলেন—পশ্চিম পেনসিলভানিয়ায় যতজন ব্লু-কলার ডেমোক্র্যাট হারাবেন, ফিলাডেলফিয়ার শহরতলিতে তার বদলে দু-তিনজন মধ্যপন্থি রিপাবলিকান পাবেন।
এখন নিজ রাজ্যে শেকড়যুক্ত প্রার্থীরা প্রতিবেশীদের অর্থনৈতিক কষ্টের কথা বলছেন—জ্বালানির উচ্চ দাম, শুল্ক, গ্রামীণ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার দুর্দশা ও ডেটাসেন্টার—এবং এই ভোটারদের আবার জেতার চেষ্টা করছেন। হাইটক্যাম্পের মতে, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র জনতাবাদীদের এসব উদ্বেগের সরাসরি জবাব দিতে হবে নিজেদের সুনাম পুনর্গঠন ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ এলাকার মানুষ গাড়িতে ওঠা ও গাড়ি চালানোর সাধ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল; একসময় তারা বিশ্বাস করত এই প্রশাসন এসব চ্যালেঞ্জের সমাধান করবে, কিন্তু সেই বিশ্বাস তারা হারিয়েছে।
আর্থারে অসবর্ন প্রথমে শহরের বাজারে কয়েকজন স্থানীয়ের সঙ্গে কথা বলেন, তারপর পাশের বাঙ্কহাউস রেস্তোরাঁয় যান—যার দেয়ালে শিং, পশুর চামড়া ও নেব্রাস্কার লাইসেন্স প্লেট সাজানো। তিনি কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে বার্গার খান, যারা শুনেছিলেন তিনি শহরে আসছেন; তারপর অন্য টেবিলগুলোতে গিয়ে প্রথমে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের আধিক্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিজের পরিচয় দেন—‘আমি রিপাবলিকান নই, ডেমোক্র্যাটও নই, আমি শুধু শ্রমিকদের জন্য কাজ করতে চাই।’
এসব এলাকায় জয়—কিংবা এমনকি অল্প ব্যবধানে হারও—জাতীয় ডেমোক্র্যাটদের কাছে একটি সংকেত পাঠাবে যে, গ্রামীণ ভোটারদের কাছে ফিরে যাওয়ার এই কৌশল কাজ করছে কি না। ফলাফল যাই হোক, প্রেইরি রাজ্যগুলোতে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কথা বলার এই প্রচার মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত ধারা হয়ে উঠেছে।






