যশোরে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড সভাপতি বহিষ্কার
যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহিউদ্দিন নাহিদকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
শনিবার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়।
ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইমামুল ইসলাম তুহিন বলেন, নাহিদের বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্টতা ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের এই বক্তব্যে বহিষ্কারের দুটি কারণ স্পষ্ট করা হয়েছে—মাদকসংশ্লিষ্টতা এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ।
সম্প্রতি নাহিদের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয় এবং দলীয় পর্যায়েও তা নজরে আসে বলে এই খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গোপালপুর গেটসংলগ্ন একটি বাড়িতে হামলা, নারীকে মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে তার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগগুলো বহিষ্কারের প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুতর করেছে, যদিও এগুলো এখনো অভিযোগ পর্যায়েই রয়েছে।
নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিলন মোল্লা বলেন, ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পুলিশি তদন্তের বিষয়টিও এখন সামনে এসেছে।
বহিষ্কার একটি দলীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত; এর মাধ্যমে নাহিদ ওয়ার্ড সভাপতির পদ ও দলীয় পরিচয় হারালেন। তবে বাড়িতে হামলা, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।
এই প্রতিবেদনে নাহিদের নিজের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান জানা গেলে তা এই ঘটনার চিত্রকে পূর্ণতা দেবে। আপাতত দল ও পুলিশ—দুই পক্ষের বক্তব্যই এই খবরের ভিত্তি।
স্থানীয় রাজনীতিতে এ ধরনের বহিষ্কার সাধারণত দলের ভাবমূর্তি রক্ষার তাগিদ থেকেই নেওয়া হয়, বিশেষ করে যখন ভিডিওর মতো প্রমাণ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নরেন্দ্রপুরের ক্ষেত্রেও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই সিদ্ধান্তটি এসেছে বলে ঘটনাক্রম থেকে বোঝা যায়।
এখন পরবর্তী ধাপ হিসেবে পুলিশের তদন্তের ফল এবং সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থার দিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে ওয়ার্ড পর্যায়ে শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেটিও স্থানীয় সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।






