সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ একের পর এক ব্যাংকের ওয়েবসাইট, তিন দিন পর সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইট
সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে জনতা ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওয়েবসাইট দুটিতে ঢোকার চেষ্টা করা হলে সেখানে সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নোটিশ দেখা যায়। পরে দফায় দফায় চেষ্টা করেও পোর্টাল দুটিতে প্রবেশ করা যায়নি।
ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহকরা সাইট থেকে কোনো ধরনের তথ্য সংগ্রহ কিংবা ডিজিটাল সেবা নিতে পারছেন না। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং দ্রুত সেবা চালুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। কয়েক দিন ধরেই দেশের আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা চলছে। একই ঝুঁকির কারণে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই তাদের মূল ওয়েবসাইট নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল।
টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর রোববার সকাল আটটা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটটি আবার সচল হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ওয়েবসাইট সচল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই সময়ে অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো ইতিমধ্যে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। বিশ্বব্যাপী হামলার আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় ওয়েবসাইটটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, পরবর্তী দিনগুলোতে তাদের তথ্যপ্রযুক্তি দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে। সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষেই সাইটটি আবার জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে একটি বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ঝুঁকি। ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে সম্প্রতি দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির সন্ধান মিলেছে। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতেও।
বর্তমানে ব্যাংকিংসহ সরকারি সেবা, ই-কমার্স এবং নানা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের অবকাঠামো ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সফটওয়্যারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এসব ডিজিটাল কাঠামোর বড় একটি অংশ পরিচালিত হয় পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার মাধ্যমে। ফলে এই ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি সরাসরি আঘাত হানতে পারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবাগুলোতে।
স্বস্তির খবর হলো, ওয়েবসাইট বন্ধ থাকার সময়েও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন ছিল। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লেনদেনে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি; জরুরি লেনদেনের সেবাগুলো আগের মতোই চলেছে।
তবে জনতা ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট কবে নাগাদ আবার সচল হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানা যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের সাইট ফিরে আসায় ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হলেই বাকি ব্যাংকগুলোর সাইটও একে একে খুলে দেওয়া হবে।




